default-image

সবকিছু ঠিক থাকলে এখন হয়তো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস করার সুযোগ হতো বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের। করোনা মহামারির কারণে সেটি আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। ক্লাসরুমের পড়াশোনা এখন চলে গেছে অনলাইনে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হওয়া পিছিয়ে গেল বলে শিক্ষার্থীদের মন খারাপ হতে পারে, তবে এ নিয়ে চিন্তিত নন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এ এফ এম মফিজুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, ক্লাসরুম বা ক্লাসরুমের বাইরে, পড়ালেখা যেখানেই হোক—গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করাই মুখ্য। সে চেষ্টাই করে যাচ্ছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আমরা নিয়মিত শিক্ষকদের অনলাইন পাঠদানবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া ভিপিএন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ই-লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের জন্য।’

অনলাইনে পড়ালেখা চালু রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস বিভাগের আয়োজনে মহামারি চলাকালে চাকরির সম্ভাবনা ও কর্মজীবনে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে করপোরেট ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে অনলাইনে প্রচারিত হচ্ছে ‘ক্যাম্পাস টু করপোরেট’ নামে একটি অনুষ্ঠান। করোনাকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শের জন্য নিয়মিত ‘আমার ডাক্তার’ নামে একটি অনুষ্ঠান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং, যোগাযোগ ও গণসংযোগ বিভাগ। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে নিয়মিতভাবে অনলাইনে নানা আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ক্লাব।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৪৭–পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্য: কবিতা ও উপন্যাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। উপাচার্য মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক চেতনাকে তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ। প্রতিবছরই বিভাগটির আয়োজনে দেশের লেখক, কবি ও সাহিত্যিকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘গবেষণা সাময়িকী’ শিরোনামে বছরে অন্তত দুটি জার্নাল প্রকাশ করে বিভাগটি, যেখানে সাউথইস্টের শিক্ষকদের ছাড়াও দেশ ও দেশের বাইরের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাহিত্যিকদের লেখা প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া চীনের ইউনান প্রদেশের মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে প্রতিবছর একদল শিক্ষার্থী সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাংলা শিখতে আসেন। বাংলাদেশে থেকে দুটি সেমিস্টার সম্পন্ন করেন তাঁরা। যদিও এ বছর করোনার প্রকোপের কারণে চীন থেকে কোনো শিক্ষার্থী আসেননি।

বিজ্ঞাপন

বাংলা বিভাগের চেয়ারপারসন ড. হামিদা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য আর সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চীন থেকে যে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসেন, তাঁরা বাংলা ভাষার পাশাপাশি আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কেও ধারণা নিয়ে যান। ভবিষ্যতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও চীনে শিক্ষার্থী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর আগেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি। গত বছর ১২ দেশের অংশগ্রহণে ভারতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী। তাঁদেরই একজন—টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বিধান চন্দ্র দে। তিনি বলেন, ‘ভারতে গিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারা আমার জন্য সত্যিই খুব গর্বের একটি ঘটনা।’ বিধান জানালেন, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে সব সময়ই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নানা কার্যক্রমে স্থায়ী ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলার অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য পড়ুন 0