default-image

কেউ কি আঁচ করতে পেরেছিল এমন রঙে রঙিন স্বর্ণািল সন্ধ্যার কথা। গত ২৫ জুন ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন যেন হয়ে উঠেছিল তাঁদের জন্য এমনই। গান আর গল্পে সবাই হারিয়ে গিয়েছিলেন এক আনন্দরাজ্যে। বলছিলাম, ট্রিপল-ই সোসাইটির আয়োজনের কথা। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই বিভাগের সে আয়োজনে বিদায় দেওয়া হয় ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। যেখানে বরণ করা হয় ৩৩তম ব্যাচের নতুনদের। আর ছিল শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায় জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন। ২৮তম ব্যাচের শিশিরের গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্বের। এরপর মঞ্চে আসেন ২৯তম ব্যাচের সাজ্জাদ শাকিলের নেতৃত্বে ট্রিপল-ই বিভাগের সব ব্যাচের গানপাগলেরা, তাঁদের কোরাস গানে মন ভরে যায় সবার। শুধু গানই নয়, বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নাচ, নাটক আর র্যাম্পে মেতে ওঠেন বিভাগের প্রায় এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী।
ভালো লাগার কথা বলছিলেন ২৭তম ব্যাচের ইফাত ইথার, ‘এমন আয়োজন আমাদের ভাগ্যে খুব কমই জোটে! অনেক মজা করছি সবাই মিলে।’ কিন্তু ইফাতের এত ভালো লাগার কারণ নাকি, তাঁর নাচে মুগ্ধ দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি! আর সে কথা ফাঁস করে দিলেন বন্ধুরা। আর এদিকে অনুষ্ঠান নিয়ে চিত্রা রায় বলেন, ‘আয়োজনটা ছিল অনেক গোছানো। বিশেষ করে ৩১তম ব্যাচের ফাহমিদা আহমেদের ফুটবল র্যাম্প আর নাচ আমার অনেক ভালো লেগেছে।’
সাংস্কৃতিক পর্বে সব শেষে গান শোনায় ব্যান্ড দল ‘ওল্ড স্কুল।’ আর তাঁদের উপস্থাপনা শেষে শুরু হয় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। বিদায়ী সম্মাননা নিতে এসে অনেকে করেন ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণা। স্মৃতির ঝাঁপি খুলতে গিয়ে হাসি-কান্না মিলে সৃষ্টি হয় এক অন্য রকম পরিবেশ। বরণ, বিদায় আর গান, নাচে সময় যখন রাত ১০টা, তখনই উপস্থাপকের ঘোষণা, ‘আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ।’
পুরো অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব কাঁধে পড়েছিল ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। আর সেই আয়োজক দলের অন্যতম নাকিব রহমান জানান, ‘আমরা ২৪ দিন ধরে রিহার্সেল করেছি, আয়োজনটি মনে রাখার মতো করতে আমাদের সাধ্যমতো সবই করতে চেষ্টা করেছি।’
আর তাঁদের এই সার্থক অনুষ্ঠানের জন্য বাহবা দিতেই মাইক হাতে নেন সাহযোগী অধ্যাপক মাহফিজুর রশিদ, ‘সবকিছুই মিলে এটা একটা সেরা অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন