বিজ্ঞাপন

এর পরেরবার বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, আমাকে আর ঈদগাহে নেবেন না। ময়মনসিংহে তখন বড় ঈদগাহ ছিল। জায়গাটার নাম সম্ভবত কাঁচিঝুলি। সেখানে ঈদগাহের পাশেই একজন অতিরিক্ত জেলা জজের বাড়ি ছিল। বাবা আমাকে সেখানে রেখে গেলেন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি দেখলাম, সবাই ঈদের নামাজ পড়ছে।

তখন ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত দুই দিন আগে থেকে। সেমাই কিনতে পাওয়া যেত না, মা-খালারা বাড়িতেই তৈরি করতেন। একটা হাতে চালানো যন্ত্র ছিল। তার মধ্যে ময়দা ঢেলে চিকন, মোটা আর মাঝারি—তিন ধরনের সেমাই পাওয়া যেত। রোদে শুকানোর পর রান্নার উপযোগী হতো সেই সেমাই। এ ছাড়া তৈরি হতো নানা রকম মিষ্টান্ন। সেসব মিষ্টান্নতে নারকেল দেওয়ার চল ছিল।

সেমাই বানানো শুরু হওয়ারও আগে ঈদের আমেজ পাওয়া যেত বাড়িতে খলিফা এলে। খলিফা মানে দরজি। প্রতিটি বাড়িরই একজন চেনা খলিফা ছিলেন। তিনি বাড়ি এসে সবার জামার মাপ নিয়ে যেতেন। লম্বা থান কাপড়ে বাড়ির সব পুরুষ মানুষের এক রকম শার্ট হয়ে যেত। সেই জামা আবার ঈদের আগে কোনোভাবেই পরা যাবে না। পরতে হবে ঈদের দিন সকালে, কয়লার ইস্তিরি দিয়ে ইস্তিরি করে। এখনকার মতো ঢোলা পায়জামা আমরা পরতাম না। চোস্ত পায়জামা পরতাম। সেই পায়জামার নিচের অংশ এত টাইট যে পরার সময় গোড়ালির কাছে আটকে যেত। তখন কাগজ দিয়ে পরতে হতো।

এখন যেমন ছোট বাচ্চাদের ঈদি দেওয়ার জন্য নতুন টাকা বাড়িতে রাখা হয়, আমার ছোটবেলায় এমনটা খুব একটা দেখিনি। সে সময় বাচ্চাদের হাতে টাকা দেওয়া হতো না।

আরেকটা বিশেষ রীতি হলো, ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে একটু বিশেষ নাশতা। অন্য সময় হয়তো আটার রুটি তৈরি হতো। ঈদের দিন সকালে আমরা খেতাম পরোটা। সেই চল আমাদের বাড়িতে এখনো আছে।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন