default-image

স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এসইউবি) ফেসবুক পেজে চোখে পড়ল, গবেষণার উদ্দেশ্যে একটি জরিপ করা হচ্ছে। গবেষণাটি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন ভুঁইয়া। ‘কোভিড-১৯ মহামারিকালে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবন পরিস্থিতি’ শিরোনামে গবেষণা করছেন তিনি। স্নাতকোত্তরের গবেষণামূলক প্রবন্ধ কোর্সের অংশ হিসেবে গবেষণাটি করছেন এই শিক্ষার্থী।

ইকরাম বলেন, ‘করোনার কারণে সরাসরি তো মানুষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়, তাই অনলাইনে গুগল ফরমের মাধ্যমে জরিপ করছি। এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ এই জরিপে অংশ নিয়েছে।’ সপ্তাহখানেক চলবে তাঁর এই জরিপ। তারপর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই গবেষণাপত্রটি শেষ হবে বলে জানালেন ইকরাম।

বিজ্ঞাপন

এভাবেই অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি গবেষণামূলক কার্যক্রমও সমানতালে চলছে এসইউবিতে। করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস বন্ধের পর থেকেই বিকল্প পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষকদের অনলাইন পাঠদানবিষয়ক একাধিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) বিভাগ সার্বক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে।

এসইউবির উপাচার্য এম শাহজাহান মিনা বলেন, 'শুরুর দিকে অনেক শিক্ষার্থী গ্রামে ছিল। তখন অনেকের নেটওয়ার্কের সমস্যা ছিল। তবে এখন অনলাইন পাঠদান পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।’

জুম, গুগল মিট, স্কাইপেসহ শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় প্রতিটি কোর্সেরই ক্লাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ক্লাসের লেকচারগুলো পুনরায় দেখার জন্য ভিডিও ধারণ করা থাকে। কারও কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা থাকলে শিক্ষকেরা ক্লাসের বাইরেও শিক্ষার্থীদের আলাদা করে সময় দিচ্ছেন।

থেমে নেই সহশিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভাগ ও ক্লাবগুলো প্রতি মাসেই আয়োজন করছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও ওয়েবিনারের। গেল সেপ্টেম্বরে অনলাইনেই স্থাপত্য নকশা আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল স্থাপত্যকলা বিভাগ। দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভাগটির প্রথম থেকে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিভাগীয় প্রধান সাজিদ বিন দোজা বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ভবনের নকশায় পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকল্প জমা দিতে বলা হয়েছিল। তাঁদের নকশায় জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড-১৯সহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। এককথায়, বাড়িতে বসেই অসাধারণ কাজ করেছে সবাই।’ খুব শিগগির প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানালেন তিনি।

এদিকে সংকটকালেও শিক্ষার্থীদের চাকরি ও শিক্ষানবিশির ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান বললেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় একটি ভার্চ্যুয়াল নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছি। বাছাইপ্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন আছে। চলতি মাসের শেষে আবারও একটি ভার্চ্যুয়াল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।’

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সব শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া যথাসময়ে কোনো শিক্ষার্থী ফি পরিশোধ করতে না পারলে পরবর্তীকালে সুবিধাজনক সময়ে সেটি পরিশোধের সুযোগও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0