default-image

এবারের দুর্গাপূজা অন্য রকম। করোনার এই দুঃসময়ে পূজা অনেকটাই তার আড়ম্বর হারিয়েছে। অন্য সময় দুর্গাপূজার ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন এক আনন্দের উপলক্ষ হতো। আর এখন সাত মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। অনলাইন ক্লাসের ফাঁকে তাই নানা সৃজনশীল কাজে যুক্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র কৌশিক কর্মকারের যেমন ঘরে বসে নিজ হাতে তৈরি করেছেন ছোট আকৃতির দুর্গাপ্রতিমা।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের ছেলে কৌশিক। ছোটবেলা থেকেই হাতের কাজে তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। ১২ বছর বয়সে প্রতিমা বানানোর ইচ্ছা জাগে। কৌশিক বলছিলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ মৃৎশিল্পী ছিলেন না। মণ্ডপে মণ্ডপে পেশাদার প্রতিমাশিল্পীদের দেখেই আগ্রহ হয়েছে। সেই আগ্রহ থেকে আমিও দেবীপ্রতিমা বানিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। কৌশিক সকালে ঘুম থেকে উঠে এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদের বাড়িতেই পড়ান। এরপর অনলাইন ক্লাস শেষে তিনি নেমে পড়েন প্রতিমা গড়ার কাজে।

রবীন্দ্র কর্মকার ও বেবী কর্মকার দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে কৌশিক দ্বিতীয়। ছেলের কাজ দেখে খুশি তাঁর বাবাও। রবীন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘আট বছর আগেও কৌশিক দুর্গাপ্রতিমা বানিয়েছিল। তবে তুলনামূলকভাবে এবার ভালো হয়েছে। আর এসব ব্যাপারে তো ওর তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে পেশাদার মৃৎশিল্পীদের কাজে দেখে দেখে শিখেছে।’ বাবা গর্ব নিয়েই জানালেন, তাঁর ছেলে পড়াশোনায়ও বেশ ভালো। এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। কৌশিকের বাবা এখন ছেলের বানানো প্রতিমা দেখতে আশপাশের সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

দেবী দুর্গার কাছে কৌশিকের প্রার্থনা, বিশ্ব যেন দ্রুতই করোনামুক্ত হয়। তিনি বলেন, ‘বড় হয়ে আমি নামী স্থপতি হতে চাই। আর মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’

মন্তব্য পড়ুন 0