default-image

প্রথম আলো পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে মোটামুটি স্কুলজীবন থেকে। আব্বু অফিস থেকে পত্রিকা নিয়ে আসত দুপুরবেলায়। আর আসামাত্রই পত্রিকাটা আমার আর আম্মুর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যেত। খেলার পাতা, পড়াশোনার পাতা, ফান ম্যাগাজিন, স্বপ্ন নিয়ে—এগুলো চলে যেত আমার দখলে। আর আম্মু নিত বিনোদন, নকশা, অধুনা—এই পাতাগুলো। তাই স্বপ্ন নিয়ের শুরু থেকেই আমি এর পাঠক ছিলাম।

আমার নানু আরেকটা কাজ করত। পড়াশোনার পাতা আর স্বপ্ন নিয়েতে ছাপা হওয়া পড়াশোনার নানা পরামর্শ কেটে কেটে আমাকে পাঠাত। প্রতি ৫-৬ মাসেই একবার এভাবে পত্রিকার কাটিং চলে আসত আমাদের বাসায়। এখন খুঁজলেও এই পেপার কাটিংগুলো পাওয়া যাবে। এ সময়ের বাচ্চাকাচ্চারা এই গল্পের সঙ্গে সম্ভবত নিজেদের মেলাতে পারবে না। কিন্তু আমার সমবয়সী যারা আছে, তারা অনেকেই এটা করত বলে আমার মনে হয়।

বিজ্ঞাপন

যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) পড়তাম, একবার একটা বিজনেস কেস কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হলো আমার দল। র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে ঘটা করে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফেসবুকে অনেক অভিনন্দন জানাল। কিন্তু এক সপ্তাহ পর যখন স্বপ্ন নিয়েতে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে ফিচার ছাপা হলো, আমাদের ছবি ছাপা হলো, মনে হলো রীতিমতো ‘সুপারস্টার’ হয়ে গেছি। নানা, মামা, চাচা, সবাই ফোন করা শুরু করল। তখন বুঝলাম, প্রথম আলোর স্বপ্ন নিয়েতে ফিচার ছাপা হওয়া স্বপ্নপূরণের মতোই।

ফেসবুকে অনেক অভিনন্দন জানাল। কিন্তু এক সপ্তাহ পর যখন স্বপ্ন নিয়েতে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে ফিচার ছাপা হলো, আমাদের ছবি ছাপা হলো, মনে হলো রীতিমতো ‘সুপারস্টার’ হয়ে গেছি। নানা, মামা, চাচা, সবাই ফোন করা শুরু করল। তখন বুঝলাম, প্রথম আলোর স্বপ্ন নিয়েতে ফিচার ছাপা হওয়া স্বপ্নপূরণের মতোই।

এরপর যখনই কোনো পুরস্কার জিতেছি, প্রথম আলোতে জানানোর চেষ্টা করেছি। যদি আবার ফিচার ছাপা হয়, সেই আশায়! এর মধ্যে টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা শুরু হলো। তখনো অবশ্য প্রথম আলোকে কিছু জানানোর সাহস হয়নি। টিউশনি করে যে টাকা আয় হতো, তা দিয়ে কেনা ছোটখাটো সার্ভার আমাদের। প্রথম আলোতে ফিচার ছাপা হলে নিশ্চয়ই অনেক মানুষ ওয়েবসাইটটা দেখতে চেষ্টা করবে। এত মানুষের চাপে আমাদের ছোট সার্ভার টিকবে না জানতাম। তাই প্রায় এক বছর অপেক্ষা করে, নিজেদের কাজটা আরও ভালোমতো গুছিয়ে হাজির হয়ে গেলাম প্রথম আলোর কার্যালয়ে, টেন মিনিট স্কুলের কথা জানাতে।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ফিচারের জন্য যখন নিজেদের ওয়েবসাইটটা দেখাতে গেছি, তখনই ওয়েবসাইট লোড হচ্ছিল না। কী একটা বিব্রতকর অবস্থা! যাহোক, শেষ পর্যন্ত ওয়েবসাইটটা দেখাতে পেরেছিলাম। স্বপ্ন নিয়েতে যখন টেন মিনিট স্কুলের কথা ছাপা হলো, মনে হলো মানুষ আমাদের ছোট্ট স্কুলটাকে সত্যিই একটা স্কুল হিসেবে গ্রহণ করল।

এরপর একটু একটু করে বড় হলো আমাদের টেন মিনিট স্কুল। তত দিনে স্বপ্ন নিয়ের পেছনের মানুষগুলোর সঙ্গে একটা সখ্য হয়ে গেছে। একদিন আমাকে একটা বিষয়ে স্বপ্ন নিয়েতে লেখার অনুরোধ করা হলো। তখন লেখালেখি বিষয়টা যে আমার কাছে নতুন, তা নয়। নানা অনুষ্ঠানে যাই, পড়ালেখা-প্রেজেন্টেশন নিয়ে পরামর্শ দিই, বিভিন্ন জায়গায় লিখি। কিন্তু স্বপ্ন নিয়েতে লিখতে হবে শুনে প্রথমবার বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, প্রথম লেখাটা আমার দৃষ্টিতে একেবারেই ভালো হয়নি। কিন্তু সম্পাদনার পর লেখাটা যখন ছাপা হলো, বুঝলাম লেখালেখি আসলে খুব কঠিন কাজ।

আমি আজীবন ‘টিপস, ট্রিকস, হ্যাকস’—এসবের বিরাট ভক্ত ছিলাম। নিজে সারাক্ষণ এসব নিয়ে পড়ে থাকতাম, সে জন্যই বোধ হয় এখন বারবার এসব নিয়েই কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতাগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতাম। এখন বুঝি, এই অভ্যাসটা আসলে স্বপ্ন নিয়ের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। এখনো স্বপ্ন নিয়ের পাতায় ছাপা হওয়া তরুণদের গল্প, বক্তৃতার অনুবাদগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ি। মনে হয় ছোটবেলার সেই ছেলেমানুষি আগ্রহ এখনো কাজ করে।

আপনি যদি লেখাটা এত দূর পড়ে থাকেন, জানিয়ে দিই, আমিও এই লেখাটা এতক্ষণে ৩-৪ বার পড়ে ফেলেছি। আর লেখা পড়ে নানু কখন ফোন করবে, সেই অপেক্ষায় আছি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0