বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওমানের ইসা, বেলজিয়ামের বস্কো, রাশিয়ার তাতিয়ানা, মিসরের করিম কিংবা সুইডেনের আলফ্রেড—২০ দিনে আমরা সবাই ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। চোখের পলকে কীভাবে এতগুলো দিন শেষ হয়ে গেল, বুঝতেই পারলাম না। ফিফা আরব কাপে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২২০ জন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছিলেন, আর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন প্রায় ৫ হাজারজন। বাংলাদেশ থেকে আমি ও আরিফুর রহমান সুযোগ পেয়েছিলাম। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে কাতারপ্রবাসী বাঙালিও ছিলেন অনেক।

default-image

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আরব কাপে আমার অংশগ্রহণের শুরুর গল্পটা বলি। বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও টেলিভিশনের পর্দায় দেখছিলাম ফিফা বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামের ছবি। আর চিন্তা করছিলাম, না জানি সেগুলো সামনে থেকে দেখতে কত সুন্দর। এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জানা ছিল যে ফিফা তাদের প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে থাকে। ২০২০ সালের নভেম্বরে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই ফিফার ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে দেখি, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের প্রচারণা চলছে। দেরি না করে নিবন্ধন করে ফেললাম। অনলাইনে তিন ধাপ পার হওয়ার পর ২০২১–এর জুলাই মাসে ফিফার অফিশিয়ালরা আমার ইন্টারভিউ নিলেন। এক সপ্তাহ পর আমাকে জানানো হলো, আমি ফিফার একজন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক মনোনীত হয়েছি। সঙ্গে এটাও জানানো হলো, চলতি বছরের নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা আরব কাপ–২০২১। একই ই–মেইলে আমাকে আগামী বছর বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক ট্রেইনি এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিন মাসের মধ্যে বাকি সব গুছিয়ে ফেলতে হলো। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকতে হবে। আমি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আগেভাগেই সবকিছু জানানো দরকার। শিক্ষকেরা আমার এই আমন্ত্রণের কথা শুনে খুবই খুশি হলেন। তাঁদের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ল্যাবগুলো কিছুটা এগিয়ে রাখার সুযোগ পেলাম। ফিফা থেকেই ভিসা দেওয়া হয়েছিল। ২০ নভেম্বর বিকেলে কাতারের উদ্দেশে যাত্রা করলাম।

আরব বিশ্বের ১৬টি দেশ নিয়ে প্রতিযোগিতা। ইভেন্টটি খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক আইকনিক স্টেডিয়ামগুলোর অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি দারুণ উপলক্ষ। ৩০ নভেম্বর তিউনিসিয়া ও ওমানের ম্যাচ দিয়ে শুরু এবং ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয় দিয়ে শেষ হয় আরব কাপ।

প্রথম দিনই ফিফা অফিসে (ওয়ার্কফোর্স সেন্টার) আমাদের ফিফা স্বেচ্ছাসেবী জার্সি, ট্র্যাক স্যুট, মাথার ক্যাপ ও কেডস দেওয়া হলো। কাতার ইয়ুথ হোস্টেলে আমাদের রাখা হয়েছিল। খেলাগুলো সন্ধ্যার দিকে হতো। দুপুরের মধ্যেই বের হয়ে যেতে হতো, কাজ শেষ করে হোস্টেলে ফিরতে ফিরতে মধ্যরাত। সেচ্ছাসেবক হিসেবে আমার কাজ ছিল মিডিয়া অপারেশন ও ফ্যান সাপোর্ট। আমি বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক ও দর্শকদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছিলাম।

ছয়টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আরব কাপ। তার মধ্যে চারটিতে বিভিন্ন দিনে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। একেকটি স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য একেক রকম। স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ফিফা আলাদাভাবে বেশ কিছু আয়োজন রেখেছিল। টুর্নামেন্টের মধ্যেই কাতারের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান, যেমন কাতার জাতীয় জাদুঘর, কাতার ইসলামিক ও শিল্প জাদুঘর, ২৫০ বছরের পুরোনো সওক ওয়াকিফ, আল বিদা পার্ক, এস্পাইয়ার পার্ক, সিলাইন বিচসহ আরও কয়েকটি স্থান আমরা ঘুরে দেখার সুযোগ পাই। এ ছাড়া ছিল দোহা বাস ট্যুর, যেখানে পুরো দোহা শহর ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল। স্বপ্নের মতো কেটে গেছে ২০টি দিন।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফিফা বিশ্বকাপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করব। তার জন্যই আমি মুখিয়ে আছি।

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন