বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কীভাবে এল ইউকুলেলে

ইউকুলেলে মূলত হাওয়াইয়ান বাদ্যযন্ত্র হলেও এটি পর্তুগিজ বাদ্যযন্ত্র ‘ব্র্যাগিনিয়া’র একটি উন্নত সংস্করণ। ১৮৫০ সালের দিকে হাওয়াই দ্বীপের অর্থনীতিতে চিনিশিল্প বেশ প্রভাব রাখা শুরু করে। এই শিল্পকে পরিচালনা করতে দরকার হয় অনেক শ্রমিকের। বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রমিকেরা আসেন কাজ করতে, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছিল পর্তুগিজরা। যাঁদের অনেকেই ‘ব্র্যাগিনিয়া’ হাতে প্রবেশ করে এই দ্বীপে। ব্র্যাগিনিয়ার সঙ্গে হাওয়াইয়ানদের পরিচয় হলো এভাবেই। বাজানোর সময় আঙুল ফ্রেটবোর্ডে চলতে থাকে বলে হাওয়াইয়ানরা শুরুতে এর নাম দেয় ‘জাম্পিং ফ্লি’। তবে সময়ের সঙ্গে হাওয়াইয়ানদের হাতেই এই বাদ্যযন্ত্রের আকার, আকৃতি এবং টিউনিংয়ে পরিবর্তন ঘটে—এটি রূপান্তর হয় আজকের ‘ইউকুলেলে’তে।

কীভাবে পেল জনপ্রিয়তা

বলা হয় ইউকুলেলের জনপ্রিয়তার পেছনে অবদান রয়েছে হাওয়াইয়ান রাজপরিবারের। রাজা ডেভিড ‘ইউকুলেলে’ এতই পছন্দ করে বসেন যে তিনি এটিকে ঐতিহ্যবাহী হাওয়াইয়ান গান এবং নাচের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। মূলত এখান থেকেই হাওয়াইয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে ইউকুলেলে মিশে যাওয়া শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে বেশ জনপ্রিয় একটি বাদ্যযন্ত্র হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশে ইউকুলেলের জনপ্রিয়তা খুব বেশি দিনের নয়। সাত–আট বছরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ব্যাপ্তি ঘটেছে। একসময় বিভিন্ন কভার ভিডিওতে গিটার, পিয়ানো ইত্যাদির প্রভাব থাকলেও এখন ইউকুলেলের ব্যবহার সমানভাবে লক্ষণীয়। ইউকুলেলে বাদকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ফেসবুক গ্রুপও। মূলধারার সংগীতেও লক্ষ করা যাচ্ছে ইউকুলেলের প্রভাব।

ফেসবুকে ইউকুলেলে বাদকদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি গ্রুপ হচ্ছে ‘ইউকুলেলে প্লেয়ারস বাংলাদেশ’। প্রায় ১৫ হাজার সদস্যের গ্রুপে নিয়মিতই প্রকাশিত হচ্ছে ইউকুলেলে–বিষয়ক পোস্ট।

‘এই গ্রুপের শুরুটা মূলত হয় একে অপরকে ইউকুলেলের বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। শিক্ষানবিশ থেকে শুরু করে অনেক দক্ষ বাদকও এই গ্রুপে সক্রিয় আছেন। সদস্যরা এখানে ইউকুলেলে নিয়ে আলোচনা করেন, নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেন অন্যের সঙ্গে।’ বলছিলেন গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা সামির। ইউটিউবে ‘মি. সামির’ নামের চ্যানেলটিতে ইউকুলেলে শেখাতেন তিনি। সেখানে তাঁর অনুসারীদের থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন পেতেন নিয়মিত। মূলত সেখান থেকেই ফেসবুকে গ্রুপ খোলার কথা মাথায় আসে তাঁর।

হঠাৎ কেন হাতে হাতে ইউকুলেলে

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘ ইউকুলেলে প্লেয়ারস বাংলাদেশ’ গ্রুপটিতে অ্যাডমিনের সহযোগিতায় আমরা একটি জরিপ করেছিলাম। সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ইউকুলেলে শেখার প্রতি আগ্রহের মূল কারণ। প্রায় ১০০০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেছিলেন এই জরিপে। উঠে এসেছিল মোট ১৭টি কারণ। এসবের মধ্যে যে কারণটি প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে তা হলো—দোতারার টিউনিংয়ে বাজানোর সুবিধা।

আমরা এর ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম স্ট্রিং ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়ার এবং কম্পোজার সালেহ আহমেদের কাছে। তিনি বলেন, ‘আসলে সচেতন বা অবচেতনভাবে আমরা আমাদের দেশের মূল যেই সংগীতের ধারা, মানে ঢোল-তবলা-দোতারার যে ধুন, ওটায় বেশি সাড়া দিয়ে থাকি। দোতারার সঙ্গে ইউকুলেলের বেশ কিছু কাঠামোগত এবং সুরগত সাদৃশ্য রয়েছে; যা অবচেতনভাবে হলেও আমাদের ইউকুলেলের প্রতি আগ্রহের জায়গা তৈরি করে বলে আমি মনে করি।’

তাহলে সরাসরি দোতারাতেই আগ্রহ কেন নয়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মূলত তরুণসমাজে যথেষ্ট প্রচার বা প্রভাবের অভাব রয়েছে। শেখার জায়গার অভাব রয়েছে। এমনকি সহজলভ্য না হওয়াও দোতারাতে সরাসরি আগ্রহ না জন্মানোর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে।’

জরিপে আরও যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউকুলেলের সহজলভ্যতা, আকারে ছোট হওয়ায় বহনের সুবিধা, ফোক গানের প্রতি ভালোবাসা, গিটারের থেকে তুলনামূলকভাবে সহজে গান তুলতে পারা ইত্যাদি।

কীভাবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে

বাংলাদেশে ইউকুলেলে এখন বেশ সহজলভ্য। বাদ্যযন্ত্রের প্রায় সব দোকানেই মেলে এর দেখা। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবের বাদ্যযন্ত্রের দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে বিভিন্ন দাম আর ব্র্যান্ডের ইউকুলেলে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটির লেভেল ৬-এর বেশ কিছু বাদ্যযন্ত্রের দোকান থেকেও কিনতে পারবেন।

দেশে সহজলভ্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইউকুলেলের মধ্যে ড্রিম মেকার, ডিভাইজার, এএক্সই, জিলাক্স ইত্যাদি ব্র্যান্ড উল্লেখযোগ্য। ৩ হাজার ৮০০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন আপনার পছন্দের ইউকুলেলেটি!

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন