বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যেভাবে নামকরণ

এ কলেজের বিভিন্ন বিভাগে অনেক গুণী শিক্ষকেরা পাঠদান করেছেন। এর মধ্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক শরীফ হোসেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক অজিত ঘোষ, বাংলা সাহিত্যের ছন্দ অলংকারবিষয়ক বইয়ের লেখক অধ্যাপক আবদুল নইম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ আর জোয়ার্দার, কবি অধ্যাপক আজিজুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার সিরাজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আকরাম হোসেনের নাম উল্লেখযোগ্য।

এসব গুণী শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়ে এ বিদ্যাপীঠ থেকেই বেরিয়েছেন দেশের মন্ত্রী, সচিব, রাজনীতিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিকসহ অনেক খ্যাতিমানেরা। তাঁদের মধ্যে ভারতের প্রখ্যাত লেখক নিমাই ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামানসহ অনেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

২০১৯ সালে প্রকাশিত এম এম কলেজ ডিরেক্টরি সূত্রে জানা যায়, ৮২ বছর আগে কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের অধ্যাপক ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংসদের সদস্য মহিতোষ রায় চৌধুরীর উদ্যোগে ‘যশোর কলেজ’ নামে এ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। মহিতোষ রায় চৌধুরী যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরে তাঁর ছেলে ড. সুনীতি রায় চৌধুরী কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে এ কলেজের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ কলেজ ছিল মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি। সে সময় কলেজের কার্যক্রম হাটবাড়িয়ার জমিদারের কাছারি বাড়িতে (ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পাশে) স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৬ সালে ক্ষিতিনাথ ঘোষ, নীল রতন ধর, আইনজীবী ওয়ালিউর রহমান, আবদুর রউফ, চারু চন্দ্র দত্ত ও রায় বাহাদুর কেশব লাল চৌধুরী যশোর কলেজকে মাইকেল মধুসূদন কলেজ নামকরণ করেন।

অবকাঠামো

১৯৯৫ সালে এম এম কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। পুরোনো কসবার ফাতিমা হাসপাতালের পাশের ৪ একর ৬৮ শতাংশ জমির ওপর ১৯৪১ সাল থেকে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৬২ সালে তা খড়কী এলাকার নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। পুরোনো ক্যাম্পাসটি ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাত্রদের থাকার জন্য এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাবিশিষ্ট পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ একর ১৮ শতক আয়তনের নতুন ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন হিসেবে তিনতলাবিশিষ্ট আবদুল হাই কলা ভবন ও একটি বিজ্ঞান ভবন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ছাত্র কমনরুম, ছাত্রী কমনরুম, শহীদ আসাদ ছাত্রাবাস, অধ্যক্ষের বাসভবন, উপাধ্যক্ষের বাসভবন, যশোরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, একটি ছাত্রী হোস্টেল, মসজিদ, একটি সাইকেল গ্যারেজ ও শিক্ষকদের গেস্টহাউস তৈরি করা হয়।

২০০০-০১ সালে ক্যাম্পাসে গড়ে তোলা হয় চেতনায় চিরঞ্জীব ভাস্কর্য। ছাত্রদের কমনরুমের পেছনে একটি ক্যানটিন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নির্মাণ করা হয় একটি টিনশেড ঘর। এখান থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্যাম্পাসের তিন সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ ছাড়া উন্মুক্ত মধুমঞ্চ, বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সেনা ও বিমান শাখা, রোভার স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, রেঞ্জার, বাঁধন (রক্তদান সংগঠন), ডিবেট সোসাইটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কলেজের অলংকার হিসেবে শোভা পাচ্ছে।

কেমন চলছে পড়ালেখা

বর্তমানে এ কলেজে উচ্চশিক্ষার ১৯টি বিষয়সহ উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি পাস, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ কোর্সে পাঠদান করা হচ্ছে। প্রতিবছর ২৬ হাজার নিয়মিত শিক্ষার্থী ও ১০ হাজার প্রাইভেট শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য বিজয়, স্বাধীন ও মুক্তি নামে তিনটি বাস রয়েছে। শরীরচর্চা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এ কলেজের খেলোয়াড়েরা দেশব্যাপী প্রশংসা পেয়েছেন। কলেজের শিক্ষক আছেন ১৬৭ জন।

কলেজের ঐতিহ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা, তাঁদের পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষকদের পাঠদান কৌশল ও তাঁদের যোগ্যতা-দক্ষতা ও ক্যাম্পাসের অবকাঠামোসহ সার্বিক পরিবেশ বিবেচনা করলে এ কলেজটি দেশের অন্যতম সেরা কলেজের স্বীকৃতি পাবে। কোভিড পরিস্থিতির পর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বেড়েছে। আমার শিক্ষকতা জীবনের ৩০ বছরে যতগুলো কলেজে দায়িত্ব পালন করেছি, এর মধ্যে অন্যতম সেরা মাইকেল মধুসূদন কলেজ। এ কলেজ অনেক গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে। কলেজটির আরও উৎকর্ষ বিকাশে আমার প্রচেষ্টা ছিল।’

প্র স্বপ্ন নিয়ে থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন