default-image

পড়ার সময় পড়া, ঘুমের সময় ঘুম

আজকাল অনেকেরই রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে দিনের বেলায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। সকালে ক্লাস থাকলে অনেকে ক্লাস করে ঘুমাতে যান। কিন্তু এভাবে না-ঘুমিয়ে বা কম ঘুমিয়ে ক্লাস করলে মনঃসংযোগে সমস্যা হয়। পরে ক্লাসের বিষয়বস্তু কিছুই মনে থাকে না। সুযোগ থাকলে সুবিধাজনক সময়ে, বা দুপুরের পর ক্লাসের সূচি নেওয়া উচিত। সেই সুযোগ না থাকলে ক্লাসের আগে পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত, তাহলে ক্লাসের বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝা যাবে, মনে থাকবে।

default-image

প্রয়োজনীয় উপকরণের বন্দোবস্ত

অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট–সংযোগের দরকার। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়ানোর জন্য ল্যাপটপ বা মোবাইল ট্যাব ব্যবহার করলে ভালো হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়াইফাই রাউটারও কাজ করে না, সে ক্ষেত্রে মুঠোফোনে ইন্টারনেট নেওয়া থাকলে ভালো হয়। এসব উপকরণ নিয়ে টেবিলে পড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া উচিত। অনেক সময় আশপাশের শব্দ ব্যাঘাত তৈরি করে। সে ক্ষেত্রে হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও ক্লাসরুমের পরিবেশ আমি পাচ্ছি না, তবু অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট একটা জায়গা করে নেওয়া ভালো।

বিজ্ঞাপন
default-image

একঘেয়েমি এড়ানো

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকেরা অনেক সময় স্লাইড ব্যবহার করে পড়ান। যেহেতু সামনাসামনি দেখা হয় না, ক্লাসে একঘেয়ে পরিবেশ তৈরি হয়, ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ বিঘ্ন হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক হাতে লিখে বিষয়বস্তু বোঝালে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাতে লেখার জন্য বোর্ড বা কম্পিউটারে ডিজিটাল ওয়াইড বোর্ড ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে বিষয়বস্তু থেকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে এক ধরনের মিথস্ক্রিয়া তৈরি হয়। অনলাইন ক্লাসের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া মাঝেমধ্যে ওয়েবক্যাম অন করে কথা বললে উদ্দীপনা পাওয়া যায়।

default-image

ইউটিউব ভিডিও

আমরা হঠাৎ করে করোনা অতিমারির শিকার, আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না, শিক্ষকেরাও না। কিন্তু ইউটিউবসহ অনেক পোর্টাল আগে থেকেই অনলাইন শিক্ষাকে লক্ষ্য করে ভিডিও তৈরি করেছে। এসব সাইটে প্রায় প্রতিটি বিষয়ে অনেক ভালো ভালো বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট পাওয়া যায়। পড়ার বিষয় ভালোভাবে বোঝার জন্য এ ধরনের সাইটের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। দেশেও অনেক কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, এগুলো ব্যবহার করে বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভালো ধারণা নেওয়া যায়।

default-image

পরীক্ষা পদ্ধতি

অনলাইন পরীক্ষায় শিক্ষকেরা সাধারণত প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করেন, যেন উত্তর সরাসরি বই বা ইন্টারনেটে পাওয়া না যায়। অনেক সময় আবার মূল্যায়ন পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে। যেমন অ্যাসাইনমেন্ট বা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ)–ভিত্তিক। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত আগে থেকে মূল্যায়নপদ্ধতি জেনে প্রস্তুতি নেওয়া। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে একটি নমুনা প্রশ্ন পেলে সুবিধা হয়। অনেক সময় অনলাইন ক্লাসের পর ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়। কিছু ছাত্র মনে করেন, পরীক্ষার আগে রেকর্ডিং দেখে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে, তাঁরা ক্লাসে মনোযোগ দেন না। এটা খুব ভুল ধারণা। পরীক্ষার আগে এতগুলো ভিডিও থেকে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।

default-image

অনলাইনেও গ্রুপ স্টাডি

স্বাভাবিক সময়ে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসের বাইরে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনায় অনেক কিছু শেখেন এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন। করোনা অতিমারিতে সে সুযোগ নেই, কিন্তু আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেরা ছোট ছোট গ্রুপ খুলে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিতে পারি। এতে প্রস্তুতিও নেওয়া যাবে, আবার করোনার মধ্যে সময়ও ভালো কাটবে। গ্রুপে আলোচনা করে অনেক কিছু দ্রুত শেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিয়মিত হাঁটা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। অন্তত ৩০-৪০ মিনিট একা একা হাঁটলে মনের ভাবনাগুলোকে বিন্যস্ত করা যায়, প্রাত্যহিক কাজ সুশৃঙ্খলভাবে করার পরিকল্পনা করা যায়, যা খুব কাজে দেয়। তা ছাড়া এই করোনা অতিমারির সময়ে আমাদের সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত, যেন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক থাকে। কারণ, শরীর অসুস্থ হলে অন্য পরামর্শগুলোর কোনোটাই কাজে আসবে না।

মন্তব্য পড়ুন 0