বিজ্ঞাপন

সকাল নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম থেকে পাকিস্তানি সেনা ও রসদবাহী ট্রেন উলিপুরে আসছিল। ট্রেনের একেবারে সামনে মাটিভর্তি ওয়াগন। সেটি চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করামাত্র মুক্তিযোদ্ধারা ডেটোনেটরের মাধ্যমে মাইনগুলোর বিস্ফোরণ ঘটান। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা গগনবিদারী শব্দে প্রকম্পিত হয়। একটি বগি দুমড়েমুচড়ে রেললাইনের পাশে পড়ে যায়। পেছনের বগিও উল্টে পড়ে। নিহত হয় ১৪-১৫ জন পাকিস্তানি সেনা। বেঁচে যাওয়া পাকিস্তানি সেনারা অবস্থান নিয়ে গুলি করতে থাকে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রগুলোও একসঙ্গে গর্জে ওঠে। নতুন এই আক্রমণে তারা হতভম্ব হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ প্রতিরোধযুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা কুড়িগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। সেদিন মোট ১৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনীর পথপ্রদর্শকসহ আটজন সাধারণ গ্রামবাসী শহীদ হন।

আবদুল হাই সরকার ছিলেন একজন শ্রমিক। ১৯৭১ সালে পিটিসির (বর্তমানে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি—বিএটিসি) ঢাকার মহাখালী কারখানায় দিনভিত্তিক মজুরিতে কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে নিজ এলাকায় যান। পরে ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ট্রেনিং শেষে ৬ নম্বর সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের অধীন কুড়িগ্রাম এলাকায় যুদ্ধ করেন। তিনি হালাবটগাছ এলাকার অপারেশনের আগে ও পরে মোগলবাসা, গড়াইহাট, বুড়াবুড়িসহ আরও কয়েকটি স্থানে গেরিলা অপারেশন করেন।

বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন