বিজ্ঞাপন

ওই দিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রায় এক কোম্পানি সেনা আখাউড়া থেকে মুকুন্দপুর হয়ে হরষপুর যাচ্ছিল। মাইন বিস্ফোরণে ট্রেনের ইঞ্জিন ও কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুজন কর্মকর্তাসহ প্রায় ২৭ জন সেনা নিহত হয়। এ ঘটনার দিন কয়েক পর মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান, বিধ্বস্ত ইঞ্জিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বগি ও ওয়াগন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সেখানে একটি ক্রেন নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অপেক্ষা করছে। এ খবর পেয়ে ওয়াজেদ আলী মিয়া ও তাঁর সহযোদ্ধারা ১৯ সেপ্টেম্বর আবার তিনটি রকেট নিয়ে সেখানে যান। কিন্তু তখন ক্রেনটি সেখানে ছিল না। বিধ্বস্ত ইঞ্জিন ও ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াগন রেললাইনে দাঁড় করানো ছিল। পাশে একদল পাকিস্তানি সেনাকে প্রহরারত অবস্থায় দেখা যায়। ওয়াজেদ আলী মিয়া মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে দুজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে সাহসের সঙ্গে ইঞ্জিনের ২৫ গজের মধ্যে গিয়ে রকেটের সাহায্যে ইঞ্জিনটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেন। নির্ভুল নিশানায় ইঞ্জিনের মাঝবরাবর রকেট বিস্ফোরিত হয়।

ওয়াজেদ আলী মিয়া চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে চাকরিরত ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে প্রথমে যুদ্ধ করেন ৩ নম্বর সেক্টরের কলকলিয়া/বামুটিয়া সাব-সেক্টরে, পরে এস ফোর্সের অধীনে। একটি যুদ্ধে তিনি সামান্য আহত হন।

বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন