বিজ্ঞাপন

২৪ নভেম্বর সন্ধ্যার পর গাজী রহমতউল্লাহ নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে রওনা হলেন লক্ষ্যস্থলের দিকে। সেদিন আবহাওয়া মেঘলা। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে টহল দিচ্ছে পাকিস্তানি গানবোট। এ জন্য গাজী রহমতউল্লাহ ও তাঁর সহযোদ্ধারা বেশ সতর্ক, যেন তাঁদের অপারেশন ব্যর্থ না হয়। প্রতিটি জাহাজের জন্য চারজনের একটি দল। প্রবল বাতাসে পানির বিশাল ঢেউ মাড়িয়ে জাহাজের কাছে পৌঁছাতে তাঁদের অনেক সময় লেগে গেল। আগের অপারেশনে এত সময় লাগেনি। শেষ পর্যন্ত সব দলই দক্ষতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাহাজে মাইন লাগাতে সক্ষম হলেন। আধঘণ্টা পর সবচেয়ে বড় জাহাজে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটল। সেই বিস্ফোরণের ঢেউ অন্য সব জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য জাহাজগুলোয় লাগানো মাইনও একে একে বিস্ফোরিত হলো এবং ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডের সৃষ্টি হলো। জ্বলন্ত জাহাজগুলো ক্রমেই পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করল। আকস্মিকভাবে এ সময়ই শুরু হলো পাকিস্তানি গানবোট থেকে অবিরাম বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ। বন্দরে স্থাপিত পাকিস্তানি কামানগুলোও গর্জে উঠল। ট্রেসিং বোমার আলোয় চারদিক তখন দিনের মতো আলোকিত। সন্ধানী বোমার আলো-আঁধারির মধ্যে নৌ-কমান্ডোরা গাজী রহমতউল্লাহর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকলেন নিরাপদ স্থানের দিকে। ভোর হওয়ার আগেই পৌঁছে গেলেন সুতারখালীতে। এই অপারেশনের মধ্য দিয়ে চুরমার হয়ে গেল পাকিস্তানি সেনাদের গর্ব। ২৮ নভেম্বর রাতে বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকায় এই অপারেশনের খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়।

গাজী রহমতউল্লাহ পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণরত ছিলেন ফ্রান্সের তুলোঁ নৌ-ঘাঁটিতে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনিসহ নয়জন বাঙালি সহযোদ্ধা পালিয়ে ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মূলত গাজী রহমতউল্লাহর পরিকল্পনাতেই নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠিত হয়। তিনি প্রথম অপারেশন চালান চট্টগ্রাম বন্দরে। স্থলযুদ্ধেও তিনি অংশ নেন। ২৫ নভেম্বর ২০০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ-কমান্ডো যৌথভাবে খুলনার পাইকগাছা থানার কপিলমুনি রাজাকার ঘাঁটিতে আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে তিনি, কামরুজ্জামান টুকু, খিজির আলী ও সামসুল আরেফিন যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন। চার দিন যুদ্ধের পর রাজাকার ঘাঁটির পতন ঘটে এবং ১০৭ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।

বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন