বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন সাহসের সঙ্গে গুলি করতে করতে থানার মধ্যে ঢুকে পড়েন। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে নজরুল ইসলামদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যান। তাঁদের সাহস ও বীরত্বে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা দিশাহারা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা অবস্থান ছেড়ে পিছু হটতে শুরু করে।

মুক্তিযোদ্ধারা সাময়িকের জন্য থানা দখল করেন। তাঁদের হস্তগত হয় বিপুলসংখ্যক অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ। একটি বাংকার থেকে তাঁরা উদ্ধার করেন ১১ জন নির্যাতিত নারীকে।

সেদিন যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একজন আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা থানা দখল করতে সক্ষম হলেও তা ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না। কারণ, আশপাশেই ছিল পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান। পুনরায় সংগঠিত হয়ে তারা আক্রমণ চালাবে। সে জন্য মুক্তিযোদ্ধারা সকাল হওয়ার আগেই নদী অতিক্রম করে ভারতে চলে যান।

নজরুল ইসলাম চাকরি করতেন ইপিআরে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট বিওপিতে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে যোগ দেন। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে যান। পরে যুদ্ধ করেন ৬ নম্বর সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাবসেক্টরে। ফুলবাড়ী, অনন্তপুর, গঙ্গারহাট, শিমুলবাড়িসহ আরও কয়েক স্থানে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন তিনি।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩

সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন