default-image

মোদকের ভাই

একবার, বোধ হয় সরস্বতী পুজোর দিনেই, আমাদের হলে চার্লি চ্যাপলিনের ছবি দেখানো হলো। শো যে হবে, তার নোটিশ আগের দিন দারোয়ান এসে আমাদের ক্লাসে আহমেদ স্যারের হাতে তুলে দিল। আহমেদ স্যার পড়লেন, ‘থ্রু দ্য কাইন্ড কার্টসি অফ মেসারস কোদক কোম্পানি...’ ইত্যাদি। কোড্যাক কোম্পানির নাম স্যারের জানা নেই, তিনি ভাবলেন নামটা দিশি, মোদকের জাত ভাই–টাই হবে আরকি!

কালুমামার কাণ্ড

আঙ্কল টমস কেবিন ছবি দেখতে গিয়ে এক মজা হলো। বাড়ির সবাই মিলে গিয়েছি গ্লোব সিনেমায়। আংকল টম তার নৃশংস মনিব সাইমন লেগ্রির চাবুক খেয়ে দোতলার সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে মরে গেছে। আমাদের সকলের রাগ পড়ে আছে লেগ্রির ওপর। ছবির শেষ দিকে টম ভূত হয়ে ফিরে আসে মনিবের কাছে। মনিব সেই ভূতের দিকেই চাবুক চালায়, টম হাসতে হাসতে এগিয়ে আসে তার দিকে। কালুমামা আমার পাশে বসে হাঁ করে ছবি দেখতে দেখেত হঠাৎ আর থাকতে না পেরে হলভর্তি লোকের মধ্যে সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে উঠে চিৎকার শুরু করে দিলেন, ‘হালায় এহনো চাবুক মারে? এহনো চাবুক মারে? শয়তান! এইবার বুঝবি তর পাপের ফল!’

ছোটকাকার স্বপ্ন

মজার মানুষের স্বপ্নগুলোও মজার হয় কি না জানি না। ছোটকাকার স্বপ্নের কথা শুনে তাই মনে হতো। একবার স্বপ্ন দেখলেন, এক জায়গায় খুব জাঁকিয়ে কীর্তন হচ্ছে। কিছুক্ষণ শুনে বুঝলেন গানের কথা শুধু একটিমাত্র লাইন, ‘সত্য বেগুন জ্বলে।’ কীভাবে এই লাইনটা গাওয়া হচ্ছিল সেটাও ছোটকাকা নিজে গেয়ে শুনিয়ে দিয়েছিলেন। আরেকটা স্বপ্নে দেখেলেন, কলকাতার রাস্তায় প্রোসেশান বেরিয়েছে। মানুষের নয়, বাঁদরের। তাদের হাতে ঝাণ্ডা, আর তারা স্লোগান দিতে দিতে চলেছে, ‘তেজ চাই! তেজ চাই! আফিঙে আরও তেজ চাই!’

default-image

গরম আইসক্রিম

বুলাকাকার সঙ্গেই আমরা একবার গিয়েছিলাম উটরাম রেস্তোরাঁয়া। উটরাম ঘাটে এই বাহারের রেস্তোরাঁটা জলের ওপর ভাসত। দেখতে ঠিক জাহাজের ডেকের মতো। এখন উটরাম ঘাটে গেলে আগের সেই চেহারাটা আর দেখা যাবে না। তখন ঘাটের উল্টোদিকে ইডেন গার্ডেনের চারদিকে বাহারের গ্যাসের বাতি জ্বলত, আর বাগানের মাঝখানে ব্যান্ডস্ট্যান্ডে সন্ধ্যাবেলা বাজত গোরাদের ব্যান্ড। উটরাম রেস্তোরাঁয় আমি জীবনে প্রথম আইসক্রিম খাই। অবশ্য এ নিয়ে পরে অনেকদিন ঠাট্টা শুনতে হয়েছিল; কারণ, প্রথম চামচ মুখে দিয়ে দাঁত ভীষণ সিরসির করায় আমি বলেছিলাম আইসক্রিমটা একটু গরম করে দিতে।

বিজ্ঞাপন
একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন