আলিয়ার সম্পদ কত

বলিউডের সফল পরিচালক মহেশ ভাট ও অভিনেত্রী সনি রাজদানের তনয়া আলিয়া ভাট বলিউডে নায়িকা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ২০১২ সালে, স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার সিনেমা দিয়ে। তারপর থেকেই মাতিয়ে রেখেছেন ভারতের বিজ্ঞাপনবাজার। শুরু থেকেই শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর বিজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী আলিয়া ৫১৭ কোটি রুপির মালিক।

২০১৪ সালে হাইওয়েহাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া গাঙ্গুবাই সিনেমা দিয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন আলিয়া। পাশাপাশি বলিউডে নিজের আসন করেছেন আরও পাকাপোক্ত। গাঙ্গুবাই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি এখন পর্যন্ত ব্যবসা করেছে ১০০ কোটি রুপিরও বেশি।

প্রতি কাজের জন্য আলিয়া এখন ১৫ থেকে ১৮ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। ডাফ অ্যান্ড ফেলপস আলিয়াকে ভারতের ষষ্ঠ শীর্ষ তারকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যে তালিকায় সালমান খানের অবস্থান দশম। ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্র বাণিজ্যবিশ্লেষক তারান আদর্শের মতে, ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠায় আলিয়ার জুড়ি নেই। এ কারণে ‘কোয়ালিটি ওয়ালস করনেটো’, ‘লেইস’, ‘ফ্রুটি’, ‘ডিউরোফ্লেক্স, ‘মান্যবর’, ‘ক্যাডবেরি’, ‘ফ্লিপকার্ট’–এর মতো ব্র্যান্ডগুলো আলিয়াকে বেছে নিয়েছে তাদের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য ১ দিনে ২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন বলিউডের এই গ্ল্যামার গার্ল।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় ৩২ কোটি রুপির এক অভিজাত বাংলো আছে ২৯ বছর বয়সী আলিয়ার। ২০২০ সালে চালু করেছেন ‘ইটারনাল সানশাইন প্রোডাকশন’ নামে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের অফিসের ইনটেরিয়র ডিজাইনারদের পারিশ্রমিকই দিয়েছেন ২ কোটি রুপি। ২০১৮ সালে লন্ডনে বাড়ি কিনেছেন আলিয়া। তাঁর গ্যারেজে আছে রেঞ্জ রোভার ভোগ (২ কোটি রুপি), বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের (১ কোটি ৭৬ লাখ রুপি) মতো দামি গাড়ি।

রণবীর কাপুর কতটা ধনী

আলিয়ার তুলনায় রণবীরের সম্পত্তি অবশ্য বেশ কেম। কিংবদন্তি বলিউড অভিনেতা ঋষি কাপুর ও নিতু সিং তনয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০৩ কোটি রুপি। প্রতিটি সিনেমার জন্য রণবীর পারিশ্রমিক নেন ৫০ কোটি রুপি। ক্যারিয়ারজুড়ে ব্যাপক উত্থান-পতন দেখা রণবীরের সর্বশেষ ব্লকবাস্টার সিনেমা ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সাঞ্জু

আলিয়ার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতটা সরব উপস্থিতিও নেই রণবীরের, আবার সিনেমাও করেন বেছে বেছে। তবে সব বয়সী দর্শকের কাছেই রণবীর প্রিয়মুখ। বিশ্বখ্যাত কোমলপানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলা, স্মার্টফোন কোম্পানি অপো, বিস্কুটের ব্র্যান্ড ওরিও, লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি টাটা এআইজির শুভেচ্ছাদূত তিনি। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য পারিশ্রমিক নেন ৬ কোটি রুপি।

মুম্বাইয়ের ‘বাস্তু’ নামে যে অভিজাত বাড়িতে আলিয়া-রণবীরের বিয়ে হয়েছে, সেই বাড়ির মালিক রণবীর। এ ছাড়া রেঞ্জ রোভার ভোগ (২ কোটি রুপি), মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি৬৩ এএমজি (আড়াই কোটি রুপি), অডি আর৮–এর (২ কোটি ৩ লাখ রুপি) মতো বিলাসবহুল গাড়ি আছে তাঁর গ্যারেজে। বিনিয়োগ করেছেন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘সাভান’–এ।

রণবীরের আয় আলিয়ার তুলনায় কম হতে পারে, তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে রণবীর মোটেও পিছিয়ে নেই বলে মনে করেন ভারতীয় সিনেমাবিশ্লেষক কোমল নেহতা। তিনি বলেন, ‘আলিয়া বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, এ জন্য তাঁর সাফল্যও বেশি। কিন্ত রণবীর কম বড় সুপারস্টার নন। তাঁরা দুজনই তরুণ এবং সবকিছুই তাঁদের অনুকূলে আছে। তাঁদের চাহিদা তুঙে, বড় বড় সিনেমাতে অভিনয় করছেন। তাঁদের অভিনীত সিনেমা ব্রহ্মাস্ত্র বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা।’

বিজ্ঞাপনবাজারে রণবীর-আলিয়ার প্রভাব কেমন হতে পারে

‘পাওয়ার কাপল’ বলতে যা বোঝায়, তার আদর্শ উদাহরণ এখন আলিয়া-রণবীর দম্পতি। তারান আদর্শ বলেন, ‘আপনি যখন এমন অবস্থানে পৌঁছে যাবেন, তখন পারিশ্রমিক দাবি করতে পারবেন ইচ্ছেমতো। মাঝেমধ্যে পরিচালক দুই তারকাকেই একসঙ্গে পর্দায় চাইবেন, যার খরচ হবে বিশাল। বাস্তবের এই জুটিকে পর্দায় দেখার জন্য দর্শক আগ্রহভরে অপেক্ষা করবে, ফলে তাঁদের চাহিদা ও পরিশ্রমিকও বেড়ে যাবে বহুগুণ।’

এই জুটির অভিনীত সিনেমা ব্রহ্মাস্ত্র মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ৫০০ কোটি রুপি খরচ করে বানানো সিনেমাটির সম্ভাব্য সাফল্যের কারণ যে তাঁদের বিয়ে, তা আর না বললেও চলে। তবে এই বিয়ে আলিয়া ও রণবীরের জন্য বিজ্ঞাপনের বাজারে নেতিবাচক ফলও বয়ে আনতে পারে। ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রহ্লাদ কাক্কার মনে করেন, কোনো বিজ্ঞাপনে যদি আলিয়া–রণবীর দুজনই কাজ করেন, তাহলে প্রযোজকেরা এই জুটির কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেওয়ার বদলে দেনদরবারেও নেমে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর তারকাদের নিয়ে বিজ্ঞাপনের বাজারে এতটা শোরগোল থাকে না। বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুরিয়ে যায়। তাঁদের নিয়ে উত্তেজনা যা–ই থাকুক না কেন, সব থাকে বিয়ের আগে। দীপিকা পাড়ুকোন আর রণবীর সিংয়ের কথাই ধরুন না। বিজ্ঞাপনের বাজারে দীপিকার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। শুধু সিনেমার ক্ষেত্রেই বিয়ের পরও বাজারদর বাড়তে পারে। তারকা বিবাহিত না অবিবাহিত তা নিয়ে সাধারণ ক্রেতা কেন মাথা ঘামাবেন?’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন