default-image

গুগল ফটোজে এত দিন বিনা পয়সায় ছবি রাখা যেত। তা-ও আবার অসীম। যত ইচ্ছা তত। তবে নতুন ঘোষণায় গুগল বলছে, ফ্রির দিন আর নেই। এরই মধ্যে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে।

গুগলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ১৫ গিগাবাইট স্টোরেজ দেওয়া হয় বিনা মূল্যে। জিমেইলের ই-মেইল এবং গুগল ড্রাইভের ফাইল রাখার জন্য এই স্টোরেজ ব্যবহার করা যায়। আর গুগল ফটোজে ছবি রাখার সময় ফাইল কিছুটা সংকুচিত করে দিলেও তা এই ১৫ গিগাবাইটের হিসাবভুক্ত ছিল না। ছবি কেবল পূর্ণ আকারে রাখতে চাইলে তবেই তা ওই ১৫ গিগাবাইটের হিসাবভুক্ত হতো।

গুগল এখন বলছে, আগামী বছরের জুন থেকে ফটোজে যত ছবি রাখা হবে, তা কোনো বাছবিচার ছাড়াই ওই ১৫ গিগাবাইটের হিসাবভুক্ত হবে। দীর্ঘদিন যাঁরা গুগলের সেবা নিয়মিত ব্যবহার করছেন, তাঁরা জানেন, ওই ১৫ গিগাবাইট নস্যি। গুগল ড্রাইভের সব ফাইল রাখাই দায়, নতুন করে ছবির চাপ সামলাবে কী!

চাইলে এখান থেকে দেখে নিন, ছবির জন্য গুগলে কতটুকু জায়গা দখল করেছেন আপনি: photos.google.com/storage

default-image

যদিও গুগল বলছে, ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী অন্তত আগামী এক দশকে ১৫ গিগাবাইটের কোটা পূরণ করতে পারবেন না। সে বিবৃতি কেমন যেন ‘বুঝ দেওয়ার’ মতো শোনায়। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে হলেও ব্যবহারকারীদের অর্থ খরচের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে গুগল।

বিজ্ঞাপন

বিকল্প কী

২০২১ সালের ১ জুনের আগে গাদা গাদা ছবি জমা রাখতে পারেন গুগল ফটোজে। সে সময় পর্যন্ত রাখা ছবিগুলো হিসাবের মধ্যে পড়বে না। অবশ্য গুগলে ফাইল রাখাই কমিয়ে দিতে পারেন। আবার চাইলে অর্থ খরচ করে অতিরিক্ত স্টোরেজও কিনতে পারেন গুগলের কাছ থেকে।

মাসে ১৫০ টাকা পরিশোধ করে গুগল ওয়ানের গ্রাহক হলে ১০০ গিগাবাইট স্টোরেজ পাওয়া যাবে। ২০০ গিগাবাইটের জন্য মাসে ২৫০ এবং ২ টেরাবাইটের জন্য মাসে ৮০০ টাকা করে দিতে হবে।

শুধু ছবি রাখার জন্য ফ্লিকার বেছে নিতে পারেন। বিনা মূল্যে এক হাজার ছবি বা ভিডিও রাখতে পারবেন। তবে কোনো ছবি ২০০ মেগাবাইটের বেশি হওয়া চলবে না। ভিডিও ফাইলের সর্বোচ্চ সীমা এক গিগাবাইট। আর মাসে ছয় ডলার দিলে স্টোরেজের সীমা তুলে দেবে ফ্লিকার।

বিনা মূল্যে ৫০ গিগাবাইট স্টোরেজ দেয় মেগা নামের একটি সেবা। তবে সমস্যা একটাই, প্রতি আধঘণ্টায় মেগা থেকে ১০ গিগাবাইটের বেশি ফাইল নামানো যায় না। সেটা অবশ্য খুব বড় সমস্যা না-ও মনে হতে পারে। ঠিকানা: mega.nz

একসঙ্গে গুগল ফটোজের ছবি নামাতে চাইলে

default-image

গুগল ফটোজের ওয়েবসাইট থেকে একসঙ্গে অনেক ছবি বা ভিডিও নির্বাচন করে নামানোর সুযোগ আছে। আবার চাইলে সব ফাইল একসঙ্গেও নামাতে পারেন। এ জন্য গুগলের ‘টেকআউট’ সেবা ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য যা যা করতে হবে—

  • প্রথমেই takeout.google.com ঠিকানায় গিয়ে Deselect all-এ ক্লিক করুন।

  • পেজের নিচের দিকে গেলে গুগল ফটোজ অপশন পাবেন। Google Photos-লেখার পাশে থাকা চেকবক্স নির্বাচন করে দিয়ে পরবর্তী ধাপে যান।

  • এবার ঠিক করে দিন কীভাবে ফাইলগুলো পেতে চান। ধরে নিচ্ছি, ফাইলের আকার মোটেই ছোট নয়। তা হওয়ার কথাও নয়। আপনি চাইলে সরাসরি আপনার ড্রপবক্স, ওয়ানড্রাইভ কিংবা বক্স অ্যাকাউন্টে ছবি নিতে পারেন। আবার ফাইলগুলো ডিভাইসেও নামিয়ে রাখার ওয়েব লিংক চাইতে পারেন।

  • সে ক্ষেত্রে ঠিক করে দিতে হবে, ১ থেকে ৫০-এর ভেতরে একবারে কত গিগাবাইট করে ফাইল নামাবেন। ফাইল নামানোর ঠিকানা আপনার ই-মেইলে চলে যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0