বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যেমন ভাবা তেমন কাজ। এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বিশাল মঞ্চ বানানো হয়েছে। স্কুলের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ। নেতা ভাষণ দেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ জানে না, নেতা আদতে কী বিষয়ের ওপর ভাষণ দেবেন।

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল চারটা। যথাসময়ে নেতা হাজির। ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন ডায়াসের সামনে। শুরু করলেন ভাষণ, ‘সুপ্রিয় এলাকাবাসী, শীতের এই বিকেলে আপনাদেরকে উষ্ণ অভিনন্দন। আপনারা আমার ভোটার। আপনাদের কল্যাণে আমি আজ এলাকার নেতা। এলাকার সেবক।’

সবাই কানাঘুষা করছে, ব্যাপারটা কী? খান সাবের চেহারা এমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে কেন!

default-image

এবার নেতা বলে উঠলেন, ‘সবাই একটু চুপ করে আমার কথা শোনেন। আমি এলাকার নেতা, তথা সেবক। তো সেবক হিসেবে কতটুকু সেবা করতে পেরেছি, তার বিচার আপনারাই করতে পারবেন। আজ আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করার জন্য আপনাদের ডেকেছি।’

নেতার কথা শুনে সবাই একে–অপরের মুখ চাওয়া–চাওয়ি করছে।

নেতা আবার বলতে শুরু করলেন, ‘আমি যখন প্রথমবার নির্বাচিত হই, তখন আমার জামানত দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না। আমার এক বন্ধু তা দিয়ে সহযোগিতা করেন। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার সহায়–সম্পত্তি শীতের বাতাসের মতো হু হু করে বাড়তে থাকে। আমি পরপর চারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আর আমার সম্পত্তি বেড়েছে কয়েক শ গুণ!’

জনসমাবেশে শোরগোল পড়ে গেল।

নেতা সবাইকে থামিয়ে আবারও বলতে শুরু করলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন না, আমি এই সম্পত্তি করেছি বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে। এমন কোনো অপকর্ম নাই, যা আমার সহযোগিতায় হয় নাই। কিন্তু আজকে আমি অকপটে স্বীকার করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন আশা করি।’

হইচই পড়ে গেল মাঠজুড়ে। বেসামাল অবস্থা যাকে বলে।

নেতা আবার বলতে শুরু করলেন, ‘এবার বলি শেষ কথা। গতকাল পত্রিকায় একটা খবর প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে লেখা হয়েছে—এ মাসেই আসছে “সত্য প্রবাহ”। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সত্য প্রকাশ করার। আমি আমার সত্য প্রকাশ করে দিয়ে আপনাদের পাশে পেতে চাই।’

এরই মধ্যে নেতার এক চামচা নেতাকে কী যেন বলতে আসছে। মাউথপিসের কাছে মুখ থাকায় কথাটা সবাই শুনে ফেলল। চামচা বলল, ‘নেতা, করছেন কী এটা! খবরটা আসলে শৈত্যপ্রবাহ। মানে শীতের হাওয়া নিয়া খবর! আর আপনি ভাবছেন সত্য প্রবাহ মানে সত্য প্রকাশের প্রবাহ!’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন