বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ঠোঁটের সামনে মাস্ক থাকলে তা থুতু বা ছ্যাপ ফেলতে অবকাঠামোগত বাধা সৃষ্টি করে। এই বাধা সরিয়ে ফেলার জন্যই মোর্চার সদস্যদের থুতনিতে মাস্ক রাখতে বলা হয়েছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে মাস্ক কপালেও লাগাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চোখ যেন ঢেকে না যায়।

পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্যের তুমুল টর্নেডোর মধ্যেই ছ্যাপতান্ত্রিক মোর্চার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন একটু থামুন ডেস্কের এই প্রতিবেদক। গিয়ে দেখা যায় ফেস শিল্ড পরলেও মোর্চার নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ মুখে মাস্ক পরেননি। তবে সবার থুতনিতেই মাস্ক ছিল। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানিয়েছেন, শুধু থুতনিতে পরার জন্যই বিশেষ কিছু মাস্ক তিনি কিনেছেন। মোর্চার নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে এটি নাকি অলিখিত পূর্বশর্ত।

এ বিষয়ে মোর্চার সভাপতি কাম সহসভাপতি কাম সাধারণ সম্পাদক কাম সাংগঠনিক সম্পাদক (একই ব্যক্তি, বিভ্রান্ত হবেন না) নামের বদলে ছবি প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, ঠোঁটের সামনে মাস্ক থাকলে তা থুতু বা ছ্যাপ ফেলতে অবকাঠামোগত বাধা সৃষ্টি করে। এই বাধা সরিয়ে ফেলার জন্যই মোর্চার সদস্যদের থুতনিতে মাস্ক রাখতে বলা হয়েছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে মাস্ক কপালেও লাগাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চোখ যেন ঢেকে না যায়।

default-image

এই নেতা আরও বলেন, যেখানে–সেখানে থুতু ফেলার বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ আছে। এতে পিচের রাস্তা ও রাস্তার পাশের মাটি যখন তখন সিক্ত হয়ে ওঠে। কিছুটা পরিষ্কারও হয়। যদি সময়মতো বীজ ফেলা যায়, তবে সেখানে গাছও জন্মাতে পারে। তা ছাড়া কোনো কিছু না ভেবে ইচ্ছেমতো ফেলা থুতু থেকে নিজেদের বাঁচাতে অন্য মানুষেরা যেভাবে এঁকেবেঁকে চলেন, তাতে অনেকেরই অনিচ্ছাকৃত শারীরিক কসরত হয়। এ থেকে বলাই যায় যে এই অভ্যাস আমাদের শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব নিয়ে প্রাচ্যের বা প্রতীচ্যের যেকোনো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ গবেষণা চালানোরও দাবি জানান ছ্যাপতান্ত্রিক মোর্চার উচ্চপর্যায়ের এই একমাত্র নেতা।

অবশ্য বিরোধীরা এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের করা সাম্প্রতিক একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বিরোধীরা বলছেন, বর্তমানে এ দেশের অনেক মানুষ ‘ছ্যাপাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছেন। এই রোগের একমাত্র প্রতিকার গলায় কলসি বা সংগতি থাকলে বেসিন ঝুলিয়ে দেওয়া। তবে এ রোগে অগণিত মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় প্রয়োজনীয় বেসিন বা মাটির কলসির সংস্থান করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ক্ষেত্রে একটি জাতীয় তহবিল গঠন করা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার স্কিম চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে তৃতীয় একটি পক্ষ। শুধুই বাঙালি পুরুষদের নিয়ে গঠিত এই নাম ঠিক না হওয়া সংগঠনের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ দিয়ে জলবিয়োগ যদি এত পাত্তা পেতে পারে, তবে অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে রাস্তাঘাটে জলবিয়োগ কেন স্বীকৃতি পাবে না? তাঁরা বলছেন, কারও প্রতি বৈষম্য হওয়া উচিত নয়। তাঁদের মতে, জল যার যার, রাস্তা সবার।

তিন পক্ষের এই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি সামলাতে কারা ত্রিশূল নিয়ে এগিয়ে আসে, সময়েই সেই উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন