নৌকা আঁকড়ে ধরে থাকলাম। মনে হলো অনেক পানির গভীরে চলে গেছি। নৌকাটাও ভেসে উঠছিল না। একসময় নৌকা ছেড়ে দিলাম। ভেসে উঠে শ্বাস নিলাম। ঢেউয়ের তোড়ে কয়েক দফা নোনাপানি খেলাম। ভাটার স্রোত আমাকে বঙ্গোপসাগরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। ভেসে থাকা ছাড়া আমার কিছুই করার থাকল না। প্রায় দুই ঘণ্টা ভাসার পর একটা গাছের শিকড় হাতে পেলাম। শিকড় ধরে ওপরে উঠলাম। প্রায় আধা ঘণ্টা কাদামাটিতে শুয়ে থাকলাম। উঠে বসার শক্তি পর্যন্ত ছিল না।

default-image

কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর হাঁটার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পা আর চলছিল না। তারপরও মনের জোরে হাঁটতে থাকলাম। একটু পরে দূরে ইটভাটার আলো দেখতে পেলাম। সে আলো যেন নতুন জীবনের সন্ধান দিল।

সেই থেকে বর্ষাকালে আমি আর নৌপথে যাতায়াত করি না। দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পর আজও একই কায়দায় যাত্রী পারাপার হতে দেখে দুঃখ লাগে। এতগুলো প্রাণহানি থেকেও আমরা কোনো শিক্ষা নিতে পারলাম না।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন