default-image

প্রবাদ-প্রবচনে আছে, বারবার বললে শতভাগ মিথ্যাও নাকি সত্যের মতো শোনায়। বঙ্গদেশে অনেক আগে থেকেই এ ধরনের অনুসিদ্ধান্তমূলক বাণীর সঙ্গে ব্যবহারিকভাবে আমরা পরিচিত। তবে হাতি-গাধার তুমুল মল্লযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন মুলুক এই প্রথমবার হয়তো তেমন অভিজ্ঞতা পেল। সেই সঙ্গে পেল ‘তালগাছ আমার’ তত্ত্ব। আর এই তত্ত্বের অন্যতম রূপকার টুইটারে ‘ল্যাং’ খাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগেও এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এবার হয়তো নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নেশাই তাঁকে পেয়ে বসেছে। যে যা-ই বলুক, এটি মানতেই হবে যে, কোনো বিষয়ে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অপরূপ দৃশ্য আর নেই। আর সেটিই করছেন ট্রাম্প। এতটাই যে ‘মিথ্যা কথার’ তোড়ে তাল হারিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলও এখন তাঁর বক্তব্য প্রচার হুটহাট বন্ধ করে দিচ্ছে। বুঝুন তাহলে! কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়, কান দুটোও তো বাঁচাতে হবে, নাকি?

বিজ্ঞাপন

এবারের মার্কিন নির্বাচন শুরু হয় ৩ নভেম্বর। তার আগ থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই ধরনের কথা বলে আসছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে—‘ভোট চুরি হতে পারে’, ‘নির্বাচনে জালিয়াতি হতে পারে’, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব’ ইত্যাদি ইত্যাদি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এসব কথা তিনি ক্যাসেটে বা সিডিতে রেকর্ড করার মতো নিজের মাথায় সেফটিপিন দিয়ে নিরাপদে গেঁথে নিয়েছেন। কথাগুলো এতটাই এক রকম যে কষ্ট করে বারবার না বলে তিনি একটি ক্যাসেট প্লেয়ারে সেগুলো বাজিয়ে দিলেও পারতেন। বা বলে দিতে পারতেন, ‘আগের বক্তব্য আবার শুনে নিন’। একবার ভাবুন তো, হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে কথা না বলে মোবাইলে রেকর্ড করা কথা শোনাচ্ছেন ট্রাম্প! ভাবতে পারছেন না? আমি পারছি। ট্রাম্পের কারণেই তো আমাদের কল্পনাপ্রবণ মন সব বাধা ভেঙে ফেলেছে, ডানা মেলেছে মহাকাশে!

ট্রাম্পকে তাই যতই ‘তালকানা’ বলুক নিন্দুকেরা, তাঁর কাছ থেকে তালগাছ কেড়ে নেওয়া দুরঅস্ত। জানা গেছে, ট্রাম্পের এই তালগাছপ্রীতির বিষয়টি নাকি বেশ পুরোনো। এ তথ্য এমন একজনের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার নাম-পরিচয় প্রকাশের অযোগ্য।

আনুষ্ঠানিক পড়াশোনায় যুক্ত থাকার সময় আমরা অনেকেই ভাবানুবাদ ও আক্ষরিক অনুবাদের তফাত জেনেছি। মার্কিন মুলুকে ভোট গ্রহণের দুদিন পর হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়—‘যে যা-ই বলুক, তালগাছ শুধুই আমার।’ আক্ষরিক অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘বৈধ ভোট গোনা হলে জয়ী আমিই।’ এটি স্পষ্ট যে, যে যা-ই বলুক, তালগাছের মালিকানা ছাড়তেই চাইছেন না ট্রাম্প। পারলে তালগাছের মাথায় চড়ে বসতেও তাঁর দ্বিধা নেই। তালের পিঠার লোভ দেখিয়েও আর ট্রাম্পের মন গলানো যাবে না। ট্রাম্পকে তাই যতই ‘তালকানা’ বলুক নিন্দুকেরা, তাঁর কাছ থেকে তালগাছ কেড়ে নেওয়া দুরঅস্ত।

জানা গেছে, ট্রাম্পের এই তালগাছপ্রীতির বিষয়টি নাকি বেশ পুরোনো। এ তথ্য এমন একজনের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার নাম-পরিচয় প্রকাশের অযোগ্য। এটি হলো সেই ‘অবিশ্বস্ত’ সূত্র, যেটি বাংলাদেশে ট্রাম্পের কোচিং করার তথ্য উইকিলিকসকে না জানিয়ে আমাদের জানিয়ে দিয়েছিল। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এক চৌরাস্তার মোড়ে সেই ‘সূত্র’ দেখা দিল। প্রথমে চা খাওয়ার কথা বলে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন শুরুতে। পরে চায়ের সঙ্গে টোস্ট বিস্কুট খাওয়ার ‘অফার’ পেয়েই তিনি আমূল বদলে যান। খোলেন মুখ।

বিজ্ঞাপন

সূত্রটি জানিয়েছে, কোচিং করার সময় ট্রাম্প ‘তালগাছ পরিচর্যাবিষয়ক কোর্স’ নিয়েছিলেন। কোর্স শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই নাকি তিনি তালগাছের প্রেমে পড়ে যান। তালের পিঠাও তাঁর পছন্দের তালিকায় আছে। পরে আমেরিকায় ফিরে নিজের ট্রাম্প টাওয়ারের ছাদে একটি তালগাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। সেই তালগাছই পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসে স্থানান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বলা হচ্ছে, অন্তহীন চাপেও তালগাছ ‘কোলছাড়া’ করতে চাইবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নয়, প্রয়োজনে অন্য গ্যালাক্সিতেও যেতে পারেন তিনি।

এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল দোদুল্যমান, আনুষ্ঠানিক ফল আসেনি। ট্রাম্প, বাইডেন—যেকেউই জিততে পারেন। তবে আপাতত জো বাইডেন একটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। আমি শুধু ভাবছি, যদি বাইডেন জিতেই যান, তবে ট্রাম্প কী করবেন? যে অবস্থা, এমনও হতে পারে, ট্রাম্প হয়তো বলে দিলেন ‘নির্বাচনে হারলেও হোয়াইট হাউস আমার। আমি ছাড়ব না। জো বরং অন্য কোথাও থাকুক।’

এটি আমার কল্পনাপ্রসূত আশঙ্কা বটে। তবে এ কথায় যেভাবে অবিশ্বস্ত সূত্রটি নির্বিকার চিত্তে জানাল, ‘হতেও পারে’, তাতে আমি আর ভরসা পাচ্ছি না। মিলেই যায় কি না, কে জানে!

মন্তব্য পড়ুন 0