default-image

আত্মা উড়ে যেতে পারবে না

বাদশাহ হোজ্জাকে নিয়ে শিকারে গেছেন। হোজ্জার দায়িত্ব ছিল বাদশাহর শিকারি বাজপাখিটা সঙ্গে রাখা। হোজ্জা বাজপাখিটাকে ঝুড়ির মধ্যে নিয়ে ওটাসহই ঘোড়ায় চাপলেন।

শিকারের জায়গায় এসে হোজ্জার হাতে বাজপাখিটা না দেখে বাদশাহ উৎকণ্ঠার সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হোজ্জা, শিকারি বাজটা দেখছি না কেন?’

‘ঝুলির মধ্যে আছে, জাহাঁপনা,’ হোজ্জা জবাব দিলেন।

‘কী!’ বাদশাহ রাগে আগুন হয়ে গাল পাড়তে লাগলেন, ‘বেওকুফ, বাজকে ঝুড়ির মধ্যে রেখেছ! নিশ্চয়ই এতক্ষণে বাজের আত্মা খাঁচা ছেড়ে উড়ে গেছে!’

‘জাহাঁপনা, রাগ করবেন না,’ হোজ্জা ঝুড়ির দিকে আঙুল তুলে বললেন, ‘ঝুড়ির মুখ আমি দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বেঁধে রেখেছি। বাজের আত্মা উড়ে যেতেই পারবে না।’

বিজ্ঞাপন

চাঁদ ও সূর্য

গ্রামের লোকজন হোজ্জাকে জিজ্ঞেস করল, ‘চাঁদ উপকারী, না সূর্য উপকারী?’

‘চাঁদই উপকারী,’ হোজ্জার জবাব।

‘কেন?’ লোকেরা প্রশ্ন করল।

‘কারণ, দিনের বেলায় সূর্য না থাকলেও দুনিয়াতে আলোর অভাব হয় না। কিন্তু রাতে চাঁদ না থাকলে দুনিয়া অন্ধকারে ঢেকে যায়,’ হোজ্জা জবাব দিলেন।

দিনের হালুয়া দিনেই শেষ

হালুয়া হোজ্জার খুব প্রিয় খাবার। এক রাতে হোজ্জার বিবি রুটির সঙ্গে মাংস আর হালুয়া দিলেন, কিন্তু হোজ্জার তৃপ্তি মিটল না। হোজ্জা ঘুমানোর আগে বিবিকে বললেন, ‘আমার মাথায় একটা গভীর ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। তোমার বাকি হালুয়াটা নিয়ে এসো, তারপর আমি আমার ভাবনার কথাটা তোমাকে জানাচ্ছি।’

বিবি বাকি হালুয়া এনে দিলেন। হোজ্জা সব হালুয়া শেষ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে লাগলেন। বিবি অস্থির হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি চুপ করে আছ কেন? এবার তোমার ভাবনার বিষয়টা বলে ফেলো। তোমার ভাবনার বিষয়টা না জানতে পারলে আমার তো ঘুম আসবে না।’

‘আমি চিন্তা করে দেখলাম, দিনের হালুয়া দিনেই শেষ করা উচিত। তা না হলে ভালো ঘুম হবে না,’ হোজ্জা জবাবটা দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।

প্রথম প্রকাশনের নাসিরুদ্দিন হোজ্জার আরও ১০০ গল্প বই থেকে

মন্তব্য করুন