ইংরেজি বর্ণমালার দ্বাদশ বর্ণ ‘এল’। দৈনন্দিন কথাবার্তা বা লেখাজোখায় এই ব্যঞ্জনবর্ণের অনুপস্থিতি একবার ভাবুন তো! আচ্ছা, আরেকটু সহজ করা যাক। ‘এল’-এর বাংলা ভাই ‘ল’ বর্ণকে ভাবুন। এবার সারা দিনমান যা–ই বলবেন বা লিখবেন, তাতে ‘ল’ বর্ণটি ব্যবহার করবেন না। ভাবতে বেশ মজার হলেও ব্যাপারটি কিন্তু মোটেও সহজ নয়। বিশেষত যেসব শব্দে ‘ল’-এর আধিক্য, সেসব শব্দ বা নাম সম্বোধন নিয়ে মহা মুশকিল হতে পারে। যেমন লাল মিয়া হয়ে যাবেন শুধু মিয়া, লিমন হয়ে যাবেন শুধু মন। আর নাটোরের লালপুর বা সিলেটের লালাখাল!
সে যাক, এমন মজার বিষয়টি এল কীভাবে, সেটা নিয়ে বলি। আজ ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিন। অনেকেই দিনটিতে আরেকটি মজার দিবস উদ্যাপন করেন। তা হলো ‘নো এল ডে’, অর্থাৎ ‘এল’বিহীন দিবস। যারা শব্দ বা বর্ণ নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়।
এই ‘নো এল’ এসেছে ফরাসি ‘নোয়েল’ থেকে। শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ নাটালিস থেকে, যার অর্থ জন্মগ্রহণ করা। ক্রিসমাস ডের শুভেচ্ছা কিংবা ক্রিসমাস ক্যারল তথা ভক্তিগীতি বোঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। মোদ্দাকথা, নোয়েল শব্দটি ক্রিসমাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। তাই এর অপভ্রংশ রূপ ‘নো এল’–এর আলোকে ‘এল’বিহীন একটি দিন উদ্যাপন করে থাকেন শব্দরসিকেরা। আপনিও দেখুন না চেষ্টা করে, অন্তত একটি দিন ‘ল’ বর্ণ ছাড়া কথাবার্তা বা লেখালেখি সম্ভব হয় কি না!
ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার অবলম্বনে