পিৎজা গোলাকার কিন্তু পিৎজার বাক্স বর্গাকার কেন

বাক্স গোলাকার করতে হলে উৎপাদনের সময়, কষ্ট ও খরচও যেত বেড়ে
ছবি: পেক্সেলস

কিছু বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সারা বিশ্বেই পিৎজার আকার গোল। পিৎজার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকার পর থেকে এর আকার এমনই। তাই যুগের পর যুগ পিৎজার গোলাকার রূপটাই মানুষের মনে গেঁথে গেছে। পিৎজা গোলাকার হলেও এর বাক্স সব সময় চৌকানা বা বর্গাকার হয় কেন?

পিৎজা ব্যবসায়ীরা প্যাকেজিং শিল্পকে বাড়তি ঝামেলার মধ্যে ফেলতে চাননি
ছবি: পেক্সেলস

অনেক কারণের মধ্যে প্রধানটি হচ্ছে, পিৎজা ব্যবসায়ীরা প্যাকেজিং শিল্পকে বাড়তি ঝামেলার মধ্যে ফেলতে চাননি। পিৎজার বাক্স মূলত কার্ডবোর্ডে তৈরি। কার্ডবোর্ডের বাক্সগুলো সাধারণত বর্গাকার বা আয়তাকারই হয়। বাক্সের আকার কেমন হবে, সে অনুসারে কেটে নেওয়া হয় কার্ডবোর্ড। কিন্তু বাক্স গোলাকার করতে হলে কাটতে হতো কার্ডবোর্ডের কোনাগুলো। ফলে সময় লাগত অনেক; কষ্ট ও খরচও যেত বেড়ে।

বর্গাকার বাক্স থেকে পিৎজা তুলে নেওয়া তুলনামূলক সহজ
ছবি: পেক্সেলস

পিৎজার বাক্স গোলাকার হলে কী সুবিধা হতো? বাক্সটা হয়তো দেখতে আরও সুন্দর লাগত। তবে এখন বর্গাকার বাক্স থেকে পিৎজার টুকরাগুলো হাত দিয়ে তুলে নিতে যতটা সুবিধা, গোলাকার বাক্সে হয়তো ততটা সুবিধা করা যেত না। যেকোনো গোলাকার পাত্রের প্রান্ত বরাবর লেগে থাকা গোলাকার কিছু তোলার চেষ্টা করে দেখুন, কষ্ট বাড়বে বৈ কমবে না!

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিৎজার এবং বাক্সের আকারের যে ঐতিহ্য, তা থেকে সরে আসার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সিসিলিয়ান পিৎজার আকার চৌকানা। ফলে আয়তাকার বাক্সে পিৎজাগুলো এঁটে যায় খুব ভালোভাবেই।

চৌকানা সিসিলিয়ান পিৎজা
ছবি: পেক্সেলস

কিছু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পিৎজা ব্র্যান্ডও বাক্সের আকারে পরিবর্তন এনেছে। যেমন ডমিনোজ পিৎজা চারকোনা বাক্সের বদলে ষড়্‌ভূজাকৃতির বাক্স ব্যবহার করছে। ধারণা করা হয়, এর ফলে ডেলিভারির সময় বাক্সের ভেতর পিৎজার নড়াচড়া অনেকটাই কমানো গেছে।

ডমিনোজ পিৎজার ষড়্‌ভূজাকৃতির বাক্স
ছবি: পেক্সেলস

সব সময় কিন্তু বাক্সে করেই পিৎজা ডেলিভারি দেওয়া হতো না। ১৮০০–এর দশকে গ্রাহকেরা নিজেদের বাক্স বা হটবক্স নিয়ে দোকান থেকে পিৎজা কিনে আনতেন। গৃহযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে যখন এই খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, তখন দোকানিরা একটা ছোট কার্ডবোর্ডের শিটে পিৎজা পেঁচিয়ে ব্যাগে ভরে গ্রাহকের হাতে দিতেন। পরবর্তী সময়ে করোগেটেড কার্ডবোর্ড (কাগজের পাতলা শিট একত্র করে তৈরি মোটা শিট, যেগুলোর চাপ ও ভর বহনের ক্ষমতা বেশি) বাজারে এলে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে এটাই স্থায়ী আসন করে নেয়।

পিৎজার জন্য গতানুগতিক বর্গাকার বাক্সের বাইরে অন্য রকমের বাক্স আনার কথা ভেবেছিল আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল গোলাকার একধরনের পিৎজা বাক্সের জন্য পেটেন্ট আবেদন করেছিল। ওই বাক্সের মাঝখানে ছিল আর্দ্রতা বের করার একটা ছিদ্র। অ্যাপলের নিজস্ব ফুডকোর্টগুলোতে এ ধরনের বাক্স ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানা যায়।

অ্যাপলের গোলাকার পিৎজা বাক্স
ছবি: সংগৃহীত

প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রিক ২০১৮ সালে একটি গোলাকার পিৎজা বাক্স তৈরি করেছিল। ২০১৯ সালে প্রায় একই রকম একটি বাক্স ব্যবহার করেছিল পিৎজা হাট।

পিৎজা হাটের গোলাকার বাক্স
ছবি: পিৎজা হাট

এসব বাক্সের নকশা করা হয়েছিল এমনভাবে, যাতে সেগুলোতে পিৎজা দীর্ঘক্ষণ গরম ও মুচমুচে থাকে। তবে এখন বাজারের দিকে চোখ রাখলে বোঝা যাবে, গোলাকার বাক্সগুলো আদতে ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি।