বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘তুমি আর তো কারও নও, শুধু আমার’ তাহসানের এই গানে অনুপ্রাণিত হয়ে যুগের পর যুগ বাংলাদেশের কোচিং সেন্টারগুলো ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম দিকে থাকা ছাত্রদেরকে নিজেদের বলে দাবি করেই যাচ্ছে। অন্যদিকে সব কোচিং সেন্টারই ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া ছাত্রদের বেলায় বাংলা ফাইভের ‘তোমায় আমি চিনি না, আবার বোধ হয় চিনি’ গানের নীতিতে বিশ্বাসী। এই সুযোগ পাওয়া ছাত্রদের নিয়ে টানাটানি নিশ্চয়ই রাসেল ডমিঙ্গো অনেক দিন ধরে খেয়াল করছেন। তাই এবার নিজেও একটা দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন।

জাকারিয়া প্রথম হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই দশা কেন? এ প্রশ্ন রেখে ‘একটু থামুন’–এর তরফ থেকে রাসেল ডমিঙ্গোকে ইমোতে ফোন করা হয়। তবে তিনি কয়েকবার ফোন কেটে দেন। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কল রিসিভ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যর্থতার জন্য আমাকে দায় দিতে চাচ্ছেন? এরা আমার ছাত্র হতেই পারে না। আমার ছাত্র হচ্ছে জাকারিয়া, যারা প্রথম হয়। একটা ক্রিকেটারও আমার ছাত্র নয়।’

default-image

এত দিন ধরে বাংলাদেশ দলকে কোচিং করিয়েও এখন ক্রিকেটাররা নিজের ছাত্র নয় বলে অস্বীকার এবং জাকারিয়াকে কখনো কোচিং না করিয়েও নিজের ছাত্র বলে দাবি করার পেছনের ‘সাইন্স’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ডমিঙ্গো আবারও বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই সাইন্স! ক্রিকেটাররা কখনই আমার কথা শোনেনি। ওরা দুষ্টু। কত ক্যাচ ধরা শিখিয়েছি ওদের। কিন্তু ওরা আমার কথাটাই ক্যাচ করতে পারল না। তাই আমি ওদের বাদ দিয়ে জাকারিয়াকে জুমে কোচিং করাতে শুরু করি, যা আপনারা কেউই জানতেন না। এখন দেখুন, আমি কোচিং না করানোয় ওরা বিশ্বকাপে ব্যর্থ, আর জাকারিয়া সফল। এ জন্যই লোকজন আমাকে বিশ্বের ১ নম্বর কোচ বলে থাকে।’

ডমিঙ্গো মিয়া এখন ফাতরামি শুরু করছে। ওর কাজ হচ্ছে ক্রিকেটারদের কোচিং করানো। ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং করায় কীভাবে? ব্যাটার নিজের ছাত্ররা সব ডাব্বা মারায় এখন আমাদের ছাত্রদের নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে!
একটি কোচিং সেন্টারের মালিক

এদিকে রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আকস্মিক দাবি শুনে কোচিং সেন্টারগুলো পুরোপুরি থ বনে গেছে। ফার্মগেটে রাসেল ডমিঙ্গোর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টার নেই বলেও অনেক কোচিং সেন্টার বিবৃতি দিয়েছে। অনেকে ডমিঙ্গোর বিরুদ্ধে শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকায় মানববন্ধন করবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ফার্মগেটে এদিক–সেদিক ঘুরতে থাকা ‘একটু থামুন’–এর প্রতিনিধিকে দেখে ‘তুই তো পাবিই, সাথে তোর আব্বাও চান্স পাবে’ কোচিং সেন্টারের মালিক দৌড়ে এসে বলেন, ‘ডমিঙ্গো মিয়া এখন ফাতরামি শুরু করছে। ওর কাজ হচ্ছে ক্রিকেটারদের কোচিং করানো। ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং করায় কীভাবে? ব্যাটার নিজের ছাত্ররা সব ডাব্বা মারায় এখন আমাদের ছাত্রদের নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে!’ এই বলেই মিষ্টি কিনতে আসা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা এক ছাত্রের দিকে ‘এটাও আমাদের, এটাও আমাদের’ বলতে বলতে দৌড় দিলেন তিনি।

এত লোকের এত দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাকারিয়া ‘একটু থামুন’কে হোয়াটসঅ্যাপে জানান, ‘কী আর বলব, ভাই! খুব বিপদে আছি। কাল থেকে তো আমার মা–বাবার চিন্তার শেষ নেই। তাঁদের আশঙ্কা, কে যে কখন আবার আমাকে নিজের সন্তান বলেই দাবি করে বসে!’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন