default-image

বিদ্যুতের সঙ্গে তারের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য বলেই মনে হতো। দৃশ্যমান না হলেও ভবনের কংক্রিটের আড়ালে কোথাও না কোথাও যে তার লুকিয়ে আছে, সে বিষয়ে আমরা নিঃসন্দেহ থাকি। আর মুঠোফোনের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য যখন–তখন চার্জারের তার টেনে নেওয়ার অভ্যাস তো আমাদের আছেই।

তবে পৃথিবী কিন্তু তারহীন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগে এখন ওয়াই-ফাই ভরসা। গান শুনি তারহীন ব্লুটুথ হেডফোনে। এখন তো মুঠোফোনে ওয়্যারলেস বা তারহীন চার্জ করার ব্যবস্থাও জনপ্রিয় হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য তার যে অপরিহার্য নয়, তা সেই ১৮৯০ সালেই দেখিয়ে গিয়েছেন নিকোলা টেসলা। দুটি তামার তারের কুণ্ডলী ব্যবহার করে টেসলা দেখালেন, সর্বোচ্চ চার্জে একটি কুণ্ডলী থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অপর তারের কুণ্ডলীতে ভোল্টেজ পাঠানো যায়। মেঘে বিজলির চমকের মতো আলোও দেখা যায়। তাঁর ‘টেসলা কয়েল’–এর প্রদর্শনী সে সময়েই সবাইকে হতবাক করেছিল। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর। সে প্রযুক্তির সাহায্যেই আমাদের স্মার্টফোনে তার ছাড়াই চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

default-image

কাছাকাছি দূরত্বে বিদ্যুতের ভোল্টেজ পাঠানোর জন্য চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যবহার করা হয়। দূরত্ব বেশি হলে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের সাহায্য আরও জটিল কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এই প্রযুক্তিকে সচরাচর বলা হয় ‘পাওয়ার বিমিং’।

বিজ্ঞাপন

চলুন দেখা যাক, তার ছাড়া কীভাবে স্মার্টফোন চার্জ করা যায়।

default-image

১. ফোন ও চার্জার কাছাকাছি থাকতে হবে

ওয়্যারলেস চার্জারের ওপরে কিংবা কাছাকাছি ফোন রাখতে হবে। কাছাকাছি বলতে ৪৫ মিলিমিটারের বেশি দূরে নয়।

২. চৌম্বকীয় চার্জিং প্লেট

ওয়্যারলেস চার্জারের চার্জিং প্লেট বিদ্যুৎ উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর ওপরে মুঠোফোন রাখা হলে সংযোগ স্থাপন হয় চুম্বকের সাহায্যে। বিদ্যুৎ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাহায্যে ওয়্যারলেস চার্জার থেকে মুঠোফোনে ইনডাক্টিভ শক্তি প্রবাহিত হয়।

৩. কয়েলের মধ্যে সংযোগ

মুঠোফোন ও চার্জিং প্লেটের মাঝের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ভোল্টেজ পরিবহন করে ফোনে পৌঁছে দিলে সেটি চার্জ হয়।

৪. মূল উপাদান

চার্জিং প্লেটের প্রেরক কয়েল ও ফোনের গ্রাহক কয়েল কাছাকাছি রাখতে হবে। ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি কাজ করার জন্য মুঠোফোনে কয়েল থাকতে হবে।

সূত্র: হাউ ইট ওয়ার্কস ডটকম

মন্তব্য পড়ুন 0