বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

হতে পারে। এই যেমন শিথিল অবস্থায় এখন মানুষ দৌড়ে, হেঁটে বা গড়িয়ে বাড়ি যাচ্ছেন স্বাস্থ্যবিধিকে কাঁচকলা দেখিয়ে। সেই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, তার প্রতিও বুড়ো আঙুল দেখানো হয়ে গেছে। চেনা-পরিচিত অনেককে বলতে শোনা যাচ্ছে, বাড়িতে তাদের যেতেই হবে এবং ফিরতেও হবে ‘সবচেয়ে কঠোর’ লকডাউন শুরুর আগেই। সংক্রমণ কীভাবে ছড়ায়, করোনা মহামারি শুরুর এত দিন পর কাউকে বোঝানোর অবকাশ থাকার কথা নয়। এখন কেউ যদি বুঝতেই না চান, তবে আর কী করা?

প্রশ্ন হলো, এই যে ঘোরাঘুরির ইচ্ছা, এর পালে বাতাস দিল কে? দিয়েছে একটি শব্দ, শিথিল। ঠিক অনেকটা পোকা খাওয়া দাঁতের সামনে রং-বেরঙের চকলেট সাজিয়ে রাখার মতো। সুতরাং বিধিনিষেধ শব্দবন্ধটি যদি এখন এ বঙ্গে বিভ্রান্ত হওয়ার দাবি জানাতে থাকে, তবে কি তা অযৌক্তিক হবে?

যুক্তির বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে লকডাউনও। ও বেচারার জন্ম আবার পশ্চিম মুলুকে। নিজের দেশে অর্থ পেয়েছে এক রকম, আর এখানে এসে ক্ষণে ক্ষণে নিজের নানাবিধ অর্থ পাচ্ছে সে। যখন কঠোর পরিস্থিতিতেও সে দেখল যে, রাস্তায় গাড়ি বেশুমার, তখন ভাবল—কঠোর বুঝি দেখতে এমনই!

default-image

এরপর লকডাউন দেখল, কঠোরেরও বস আছে। সেই বসের নাম সর্বাত্মক। শুরুতে নামের প্রতি সুবিচার করছিল সর্বাত্মক, তবে কটা দিন যাওয়ার পর দেখা গেল আগে দেখা কঠোর পরিস্থিতির প্রতিশব্দ হয়ে যাচ্ছে সর্বাত্মকও। লকডাউন বুঝল, কঠোর আর সর্বাত্মক ভাই-ভাই। শুধু বোতল ভিন্ন, তেল আগেরটাই।

এদিকে বিদেশি অতিথি লকডাউনের এখন ‘তার ছিঁড়া’ অবস্থা। কঠোর আর সর্বাত্মকের ইংরেজিতে অনুবাদ করার পর যে আর দিশা খুঁজে পাচ্ছে না সে। এমনকি দিশা পাটানির ছবি দেখেও মনে শান্তি মিলছে না। ভাষাভেদে অর্থের এত বিপুল ফারাক মেনে নেওয়া কি করোনার শত্রুর পক্ষে সম্ভব?

তবে আশায় বাঁচে চাষা। এ বঙ্গে আসার পর দুস্থ হতে বাধ্য হওয়া লকডাউন এখন ‘সবচেয়ে কঠোর’ হওয়ার প্রহর গুনছে। মনের দুঃখ মনে চেপে লকডাউন ভাবছে, এই বুঝি এল তার চোখ মোছার সময়! ওদিকে পশ্চিমা শব্দের এমন নাকানিচুবানি দেখে মিটি মিটি হাসছে কঠোর আর সর্বাত্মক। বিদ্রূপের ঢঙে তাদের ঠোঁট বেঁকানো মন্তব্য, ‘আইজ বুঝবি না, বুঝবি কাইল…!’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন