বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শর্ত ৩: ওজন ১৩ কেজি থেকে ২১ কেজির মধ্যে হতে হবে।

আপনি এখন যা করবেন: বাসায় ওজন মাপার যন্ত্র কিনে রাখুন। প্রতিদিন শিশুর ওজন মেপে খাবার খেতে দিন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, পরীক্ষা করতে পারবেন। ওজন যদি শর্তের বেশি হয়ে যায়, তাহলে স্কুলে ভর্তির জন্য সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার আগে সন্তানকে বাথরুম করিয়ে নিয়ে যাবেন। এতে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজন কমে যেতে পারে।

শর্ত ৪: শিক্ষার্থীর সব দুধদাঁত (২০টি) অটুট থাকতে হবে।

আপনি এখন যা করবেন: সন্তানের দুধদাঁত উঠলে তা খুব যত্নসহকারে রক্ষা করার চেষ্টা করবেন। গুনে গুনে ২০টি দাঁতই রাখতে হবে ভর্তির আগ পর্যন্ত। কোনো কারণে দাঁত পড়ে গেলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ঝটপট দন্তচিকিৎসকের খোঁজ করুন। সাইনবোর্ডে লেখা থাকতে পারে—‘এখানে দুধদাঁত বাঁধাই করা হয়’! আরও একটি কাজ করতে পারেন। পড়ে যাওয়া দাঁতের ফাঁকা জায়গায় চুইংগাম চিবিয়ে দাঁতের শেপ করে লাগিয়ে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের মাঝপথে চুইংগাম রাজনৈতিক নেতাদের মতো পল্টি দিলে আমাকে দায়ী করা চলবে না।

শর্ত ৫: শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

আপনি এখন যা করবেন: সন্তান শারীরিকভাবে ঠিক আছে তা প্রমাণের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় দৌড়াদৌড়ি করতে বলতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীর ফিটনেসের পাশাপাশি শিক্ষকের ফিটনেস পরীক্ষা হয়ে যাবে। শেষে দেখা যাবে, শিক্ষক ক্লান্ত হয়ে বলবেন—বাবা, আসো, আমরা বসে বসে কথা বলি! আর সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যা করা দরকার তা তো আপনি জানেনই। শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দেওয়ার আগে সন্তানকে জানিয়ে রাখবেন, এই দেশে অসুস্থরাই সুস্থতার পরীক্ষা নেয়। কাজেই এতে ভয়ের কিছু নেই।

শর্ত ৬: ছোঁয়াচে অসুখ থাকলে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে না।

আপনি এখন যা করবেন: ছোঁয়াচে অসুখ থাকলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, সেটি ঠিক আছে। যদি অসুখের বাহানায় ভর্তি করাতে না চায়, তাহলে সাক্ষাৎকার গ্রহীতার গা ঘেঁষে হাত ধরে শিক্ষার্থী ঝুলে থাকতে পারে। এতে শিক্ষক সংক্রমিত না হলে ভর্তির জন্য বিবেচনা করলেও করতে পারেন।

(এত পরামর্শ দেওয়ার পরও যদি ওই স্কুলে আপনার সন্তানকে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হন, তাহলে অন্য স্কুলে ভর্তি করাবেন। কেননা, প্রতিষ্ঠান যেটাই হোক, সঠিক শিক্ষা পেলে আপনার সন্তানই একদিন এমন উদ্ভট ভর্তি বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে।)

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন