বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবার তাই কোচিংয়ের দ্বারস্থ হওয়া। এদের দুইটা কোর্স। একটা ঈদ শপিংয়ের। অন্যটা ঈদযাত্রার। তুলনামূলকভাবে এদের রিভিউ যথেষ্ট ভালো। গতবারের টেস্টে শতভাগ উত্তীর্ণের রেকর্ড আছে। ঘণ্টাখানেক দৈর্ঘ্যের কোর্সটার জন্য ফিটা একটু বাড়াবাড়ি হলেও ছাড়টাড়ের ভালো ব্যবস্থা আছে। কয়েকটা বাস কোম্পানির সঙ্গে ওদের সহযোগ। তাই ওসব কোম্পানির বাসে গেলে বিশেষ ছাড়। কোর্সের পরপরই পরীক্ষায় লেটার মার্কস পেলেও ছাড় আছে। পরপর দুই বছর কোর্স করনেওয়ালাদের জন্যও থাকে ছাড়–সুবিধা।

তিনটার ক্লাস ঠিক ঠিক তিনটায়ই শুরু হয়েছিল। আমার ব্যাচে ছিল ৩০ জন। একটা সিটও ফাঁকা দেখিনি। আমাদের টিচারের নাম মজিবুর রহমান। ভদ্রলোক ঢাকা টু দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব রুটে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে গাড়ি হাঁকিয়েছেন। এই কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকদের একজন তিনি। কোর্স ম্যাটেরিয়াল হিসেবে দেওয়া গাইড বইয়ের লেখা দেখেই সব জেনেছি আমি।

শুরুতেই ভদ্রলোককে আমার পছন্দ হয়ে গেল। ইনিয়ে–বিনিয়ে নিজের পরিচয় জাহির না করে সোজাসুজি ক্লাস শুরু করলেন, ‘ডিয়ার ফেলো প্যাসেঞ্জারস, ঈদযাত্রার মতো একটা ভয়ংকর ব্যাপারকে সহজ করার এই প্রয়াসে আপনাদের স্বাগত... ।’

মজিবুর স্যারের ভরাট কণ্ঠ। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলেন। বোঝানোর মাঝখানে মুচকি হাসিটা সুন্দর। আমরা অল্প সময়ে সব বুঝে নোট নিয়ে ফেললাম।

এবারের ঈদেও বাড়িতে গিয়ে এবং ঢাকায় ফিরে আপনি নিশ্চয়ই নাজেহাল। পরবর্তী ঈদযাত্রার আগে এই বিশেষ কোচিং করতে পারবেন কি না, জানা নেই। তাই আপনার উপকারার্থে আমি আমার নোটগুলো এখানে তুলে দিচ্ছি। আপনিও বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

প্রিন্সিপল নম্বর ১: বি আ ঘাড়ত্যাড়া চাইল্ড, সে ‘নো’ টু অজ্ঞান + মলম পার্টি

অপরিচিত কারও দেওয়া কিছু খাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের ‘নেহি খায়েগা’ নীতি মেনে চলুন। যাত্রাপথে আপনার জন্য ওত পেতে আছে অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টির নিবেদিতপ্রাণ কর্মীবাহিনী। আদর করে, বিনয়ের অবতার সেজে আপনাকে অনেক কিছুই খাওয়ানোর কায়দা–কসরত তারা করতে পারে এবং ফ্রিতে খাওয়ার লোভে বা ভদ্রতার খাতিরে আপনারও হয়তো মন ব্যাপক আঁকুপাঁকু করতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে আপনার আদর্শ হতে পারে বাসার বাচ্চাকাচ্চারা, যাদের হাজারটা ফন্দিফিকির, রঙ্গ-তামাশা করেও খাওয়ানো যায় না।

প্রিন্সিপল নম্বর ২: লেজি অ্যান্ড স্টেডি উইনস দ্য রেস

ঈদযাত্রায় আলস্য হতে পারে আপনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। মহাসড়কে গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বেশির ভাগ সময়ই ঝিম মেরে, নট নড়নচড়ন হয়ে বসে থাকতে হবে। তাই আগেভাগেই শুয়ে-বসে সময় কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি নিন। একজন গিনেস সার্টিফায়েড, রেকর্ডধারী সত্যিকারেরে নিষ্কর্মা, অলস এ ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার আদর্শ।

প্রিন্সিপল নম্বর ৩: হ্যাভ গন্ডার লাইক টাইট স্কিন, ফলো হিউম্যান গন্ডার

ঈদযাত্রায় আপনাকে ধৈর্যের ‘সেমিস্টার ফাইনাল’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। একের পর এক ভোগান্তি আপনাকে নাজেহাল করে দিতে পারে। বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে মনের জোরের। তবে এত সবকিছুর পরও ‘ডোন্ট কেয়ার’ থাকার দীক্ষা নিতে পারেন ঘুষখোর কিংবা দুর্নীতিবাজ আমলা, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে। শত বাধা–বিপত্তি, গালাগাল, অভিশাপও যাদের মনকে একটুও টলাতে পারে না। ধৈর্যের পরীক্ষায় এমন গন্ডারের চামড়াওয়ালাদের ‘আদর্শ’ না মানলে আর কাকে মানবেন?

প্রিন্সিপল নম্বর ৪: বি আইস কুল লাইক সিরিয়ালের নায়িকা

চেনাজানা অনেক উটকো ঝামেলার পাশাপাশি ঈদযাত্রায় আপনাকে কতগুলো উটকো ঝামেলারও মুখোমুখি হতে হবে। কিন্ত ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা রাখতে ‘আইস কুল’। আর এ ক্ষেত্রে আপনার আদর্শ হতে পারে ভারতীয় সিরিয়ালের নির্যাতিত নায়িকারা। কুটনি ননদ কিংবা শাশুড়ির একটার পর একটা হৃদয়বিদারক কূটচাল কী অসামান্য ঠান্ডা মাথায় মোকাবিলা করে তারা। ঈদযাত্রায় সব ভোগান্তিকে জা, শাশুড়ি, ননদের কূটচালের সঙ্গে তুলনা করে নায়িকার অবস্থানে নিজেকে কল্পনা করুন, ব্যস!

প্রিন্সিপল নম্বর ৫: প্রিন্সিপল অব টোটাল অ্যাটেনশন

সহযাত্রীদের মধ্যেই হয়তো উদারমনা কেউ আছেন, যাঁরা মালামালের বেলায় আপন–পর ভেদাভেদ করেন না। কে জানে, ‘মনের ভুলে’ নিজের মনে করে আপনার মূল্যবান ব্যাগটাই হয়তো নিয়ে যেতে পারেন। কাজেই নিজের জিনিসপত্র চোখে চোখে রাখুন। এ ক্ষেত্রে আপনার আদর্শ হতে পারেন কতিপয় আদর্শ ফোন ব্যবহারকারী। যাঁরা শুয়ে, বসে, খেতে, উঠতে, বসতে, হাঁটতে, চলতে, ওয়াশরুমে, অফিসে—যে অবস্থায়ই থাকুন না কেন, আপন চোখজোড়া খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে মুঠোফোনের পর্দায় নিবদ্ধ রাখেন। নিজ মালামাল চোখে চোখে রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের ‘টোটাল অ্যাটেনশন’ বা ‘অলটাইম লুকিং’ নীতি অনুসরণ করুন।

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন