default-image

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ত্রিপুরার কবি ও খ্যাতিমান রাজনীতিক অনিল সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কবিতা পরিষদের শোকসভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাতসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় আলোচনার পাশাপাশি প্রয়াত কবির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ত্রিপুরার খ্যাতিমান কমিউনিস্ট নেতা কবি ও বিশিষ্ট লেখক অনিল সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। অনিল সরকারের মৃত্যুতে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার মঙ্গলবার থেকে ২ দিনের শোক পালন করছে।
কবি ও অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ প্রথম আলোকে বলেন,‘অনিল সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক অকৃত্রিম বন্ধু হারাল। আজীবন সংগ্রামী এই মানুষটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘অনিল সরকারের আদি বাড়ি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সহজ সরল এই মানুষটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং কবি-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা এই মানুষটির কাছে চিরদিন ঋণী থাকবেন।’
মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘অনিল সরকার শুধু কবি ও শিশুসাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসামসহ এই অঞ্চলের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলোসহ বাংলাদেশের কবি-লেখক-সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন অনিল সরকার।’
প্রয়াত কবির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে মুহাম্মদ সামাদ জানান, জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে অতিথি হয়েও ঢাকায় এসেছিলেন অনিল সরকার। তিনি আরও বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার আগে থেকেই অনিল সরকারের উদ্যোগে ত্রিপুরায় দিবসটি পালন শুরু হয়। অনিল দা বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন।’

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করা অনিল সরকার ত্রিপুরায় লাগাতার নয়বার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি ত্রিপুরার সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অনিল সরকার সর্বশেষ ত্রিপুরা রাজ্যের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন