আঁকা আর গড়ায় বাঁধা দুটি প্রাণ

বিজ্ঞাপন

আনিসুজ্জামান ফারুকী ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট। তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী চাকমা কনসেপচ্যুয়াল ফটোগ্রাফার। তিনি ছবিও আঁকেন। আনিসুজ্জামান ভাস্কর্য গড়েন। স্ত্রী জয়শ্রীর একটি ভাস্কর্য তৈরি করছেন তিনি। এই ভাস্কর্য তৈরির সময় মডেল হিসেবে জয়শ্রীকে আনিসুজ্জামানের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে। অন্য সময় আনিসুজ্জামানের বানানো ভাস্কর্যের ডকুমেন্টারি বানান জয়শ্রী। এই শিল্পী দম্পতির ভাষ্য, তাঁরা দুজন মিলে এই কাজ করে ভালো আছেন। আনিসুজ্জামানের ভাস্কর্য বানানো শেষ হলে তা দিয়ে আয় ভালো হলে তাঁরা দেশ-বিদেশে ঘুরতে বেরিয়ে যান।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় এই দম্পতির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে ফ্রেমে বাঁধানো ছবি আর নানা আকৃতির ভাস্কর্য ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।

ঘরের আসবাব খুব বেশি নেই। খাট, আলমারিসহ যেসব আসবাব আছে, নিজেদের কাজ আর আরামের কথা চিন্তা করে তার নকশা নিজেই করেছেন আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান জানান, জয়শ্রী চাকমার ছবি, ডকুমেন্টারি আর নিজের বানানো ভাস্কর্য নিয়ে একটি প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে। চলতি বছরের এশিয়ান আর্ট বিয়েনালে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

default-image

আনিসুজ্জামান কথা বলতে বলতেই কাজ করছিলেন। আলাপচারিতায় জানান, তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগে। পড়াশোনা শেষ করেন ২০১৮ সালে।

জয়শ্রী চাকমার বাড়ি রাঙামাটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজে পড়াশোনা করতেন তিনি। তবে পড়াশোনা শেষ করেননি। ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির কাজ শেষ করেছেন আনিসুজ্জামান। আরেকটি সমাপ্ত হওয়ার পথে। তিনি জানান, ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্যের ছবি দেখে নারায়ণগঞ্জের এক আর্ট শিক্ষক সেখানকার একটি স্কুলের জন্য ভাস্কর্যটি বানিয়ে দিতে বলেন। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ স্কুল প্রাঙ্গণে এই ভাস্কর্য বসাবে।

আনিসুজ্জামান বলেন, আগেও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। বঙ্গবন্ধুসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য তৈরির আগে তাঁদের জীবনী, ছবি, পছন্দসহ সবকিছু জানার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁদের ওপর পড়াশোনা করেন।

default-image

আনিসুজ্জামানের মতে, যে ব্যক্তির ভাস্কর্য তৈরি হবে, তাঁর সম্পর্কে জানা না থাকলে কাজটা ভালো হয় না। আবার অনেকে ভাস্কর্য তৈরি করতে দিয়ে সারাক্ষণ কাজে হস্তক্ষেপ করেন। এতে শেষ পর্যন্ত কাজটা মনমতো হয় না।

আনিসুজ্জামান নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করেন। ভাড়া বাসার একটি রুমকে তিনি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। এই অফিসে ঘড়ি ধরে তিনি উপস্থিত হন। অফিসের নির্ধারিত পুরো সময় কাটান।

আনিসুজ্জামান জানান, তিনি চারুকলায় পড়বেন, তা তাঁর স্কুলশিক্ষক বাবা প্রথমে মানতে চাননি। তাঁদের পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য শিক্ষকতা করেন। তাই পরিবারের চাওয়া ছিল আনিসুজ্জামানও শিক্ষকতা করবেন। কিন্তু আনিসুজ্জামান নিজের ইচ্ছায় গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে চারুকলায় ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই জয়শ্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বিয়ের ব্যাপারে শুরুতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই প্রবল আপত্তি ছিল। তবে পরে পরিবারের মাধ্যমেই তাঁদের বিয়ে হয়।

default-image

আনিসুজ্জামান বলেন, ‘জয়শ্রীকে বিয়ে করার ফলে অফিস আর ঘর বলে আলাদা কিছু নেই। কাজগুলো দুজনে মিলেই করছি। কাজের ফাঁকে আমি ঢোল বাজাই, ও গান গায়। এভাবেই চলে যাচ্ছে দিন। মানুষজন আমার কাজ পছন্দ করছেন। হাততালি দিচ্ছেন। এতেই খুশি।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ২১তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর ভাস্কর্যে শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেয়েছেন আনিসুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৭-তে নিরীক্ষামূলক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন