default-image

মেষ ২১ মার্চ-২০ এপ্রিল ভর # ৬
আফ্রিকার বন্য গরুর মা-হারা একটি শাবক তার মাকে খুঁজে বেড়ায়, অন্যের দুধ খেতে চায়। সবাই তাকে তাড়িয়ে দেয়। অসহায় অবস্থায় সে অবসন্ন হয়ে একসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, আবার উঠে দাঁড়ায়। মাতৃহীন মানবশিশুর অবস্থা এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। শেষ পর্যন্ত সে মরে গেলেও কারও তেমন কিছু যায়-আসে না। অনেকে বরং মনে করে, মরে গেলেই তো ল্যাঠা চুকে যাবে। প্রকারান্তরে সেই চেষ্টাটাই করা হয়। প্রিয় মেষ, চলতি সপ্তাহে সাধারণভাবে শিশুদের দিকে দৃষ্টি দিন। 

বৃষ ২১ এপ্রিল—২১ মে ভর # ১
খেলায় হারানো আর ‘কোনো কিছু’ হারানো এক কথা নয়। আবার, আমরা খেলায় হারলে যেমন দুঃখ পাই, কোনো কিছু হারালেও হয়তো ওই একই রকম দুঃখ পাই। তারপর ধরুন, খেলায় হারজিত আছে। সব মিলিয়েই তো জীবন। এখানে ভাগ্যের ভূমিকা কী আর কর্মফলের ভূমিকা কতটুকু—এসব বিশ্লেষণে নাইবা গেলাম। বৃষ, এ সপ্তাহে আপনার পাওয়া না-পাওয়ার অনুপাত হচ্ছে ৫০: ৫০।

মিথুন ২২ মে—২১ জুন ভর # ৬

জীবনানন্দ দাশের কবিতার একটি সুন্দর প্যারোডি দেখুন, গাইবান্ধা থেকে এটি পাঠিয়েছেন খন্দকার নিপন: নাম ধরে হু-হু করে বেজে ওঠে সুদূরের সাইরেন… আর ফুরায় এ জীবনের বহু লেনদেন…। মূল কবিতার লাইনগুলো পড়লে হয়তো আপনি মূল ও প্যারোডি—দুইয়ের সঙ্গেই নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার একটা মিল খুঁজে পাবেন।

কর্কট ২২ জুন—২২ জুলাই ভর # ২

একজন বললেন, তোমার জন্য এই প্রার্থনা করি যে নেউল বা বেজির সঙ্গে সাপের লড়াইয়ে বিধাতা তোমাকে যেন নেউলের সাহস দেন। এ সপ্তাহে কর্কটের জন্য আমারও এই প্রার্থনা।

সিংহ ২৩ জুলাই—২৩ আগস্ট ভর # ১

এক সিংহ নারীর মন্তব্য হুবহু তুলে দিচ্ছি: একটাও আনন্দ যখন আমাদের সামনে থাকে না, তখন তাকে না পাওয়ার বেদনাও নেই।… পেয়ে হারানোর ব্যথা অনেক বেশি। প্রিয় সিংহ, চলতি সপ্তাহে জীবন দর্শনে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন আনলে আপনি ভালো থাকবেন।   

কন্যা ২৪ আগস্ট—২৩ সেপ্টেম্বর ভর # ২

কোনো বাঙালি মেয়ে কিংবা ছেলে যখন বলে ‘ওয়াও!’ আমার কানে তখন আসে ‘ম্যাও’। জিজ্ঞেস করে দেখুন, ওই শব্দ কিংবা অভিব্যক্তির যথার্থ ব্যাখ্যা বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই দিতে পারবে না। কেউ হয়তো বলবে, ওটা একটা কালচারাল এক্সপ্রেশন। এ কথা শুনে আপনিও বলতে পারেন ওয়াও (ম্যাও)।

তুলা ২৪ সেপ্টেম্বর—২৩ অক্টোবর ভর # ২

একটি মেয়ে এসএমএস বার্তা পাঠিয়েছে: আছি নজরুলের কবিতার মতো—কখনো বিদ্রোহী, কখনো ঝোড়ো হাওয়ার মতো। কিন্তু মনে হচ্ছে রবিঠাকুরের প্রেম পূজা বর্ষার মতো থাকতে যদি পারতাম। পারছি না। অনেক সময় কবিতা ও গানে আমরা আমাদের ভাবনার প্রতিধ্বনি পেয়ে যাই। আগামী শুক্রবার অবধি দেখুন, ব্যাপারটা এ রকমও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বৃশ্চিক ২৪ অক্টোবর—২২ নভেম্বর ভর # ২

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক জানাচ্ছেন… ‘আর সত্য হচ্ছে এই যে আমি জীবনেও কখনো অবসরে যেতে চাই না। কলম হাতে আমার জন্ম, কলম হাতেই আমি মরব। আমার একমাত্র ইচ্ছা এই যে আমার রচনার মধ্যে অন্তত কয়েকটি আমার আয়ুকে অতিক্রম করবে।’ সৈয়দ হক-এর রাশি কী আমার জানা নেই। তবে, সব শিল্পী-সাহিত্যিকেরই এটাই বোধ হয় আন্তরিক অভিলাষ।

ধনু ২৩ নভেম্বর—২১ ডিসেম্বর ভর # ৯

একদম ছোটবেলায় একসময় আমি থাকতাম কুমিল্লায় বোনের সঙ্গে। করতাম মুকুল ফৌজ। আমাদের নেতা ছিলেন দুই বন্ধু। কেন জানি না ওদের মধ্যে তীব্র একটা বিরোধ দেখা দেয়। এক নেতার পিছুপিছু হেঁটে আমরা কয়েকজন অন্য নেতার বাসায় যাই। সে বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না। পড়ার টেবিলে ছিল একটা হারিকেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে, এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বোঝাচ্ছেন—দেখো, এই হারিকেনটা এক আছাড়েই তো ভেঙে ফেলা যায়। কিন্তু ওটা নতুন করে বানানো কত কঠিন। বড় হয়ে বুঝেছি, এ ছিল এক মোক্ষম দর্শন।

মকর ২২ ডিসেম্বর—২০ জানুয়ারি ভর # ৩

আজকাল মাঠ পর্যায়ের কনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও দেখি স্যুট-টাই পরে টিভি ক্যামেরার সামনে এসে হাজির হন। বিগত যুগ থেকে এটা একটা বি-শাল উত্তরণ। তৃণমূলের লোকজনের মনে নিশ্চয় এতে একটা গভীর ভক্তি জেগে ওঠে। কিন্তু আসলেই কি ব্যাপারটা এ রকম? শ্রদ্ধা-সমীহ কি শুধু ধোপদুরস্ত থাকলেই আদায় করা যায়। কাউকে ছোট না করেও কথাটা আমাকে বলতে হলো। প্রিয় মকর, চলতি সপ্তাহে কোনো কিছু দেখে চট করে যেন চটে উঠবেন না।

কুম্ভ ২১ জানুয়ারি—১৮ ফেব্রুয়ারি ভর # ৯

আমাদের দেশে খুব কম নাটক-সিনেমায় রোগী দেখানোর পর ডাক্তারের হাতে ফি তুলে দিতে দেখা যায়। ওদিকে আবার বলা হয়, এসব শিল্প নাকি বাস্তবের প্রতিফলন। সৃজনশীল কুম্ভ, আপনি ওপথে পা বাড়াবেন না।

মীন ১৯ ফেব্রুয়ারি—২০ মার্চ ভর # ৩

গেল বছর একটা গান লিখেছিলাম। এর শেষ কয়েক লাইন হচ্ছে: কেউ অনেক আঘাত পেয়ে/ থাকে ভালোবাসা নিয়ে/ দেখো আমি/ ধ্বংসলীলার সাথে/ কেমন খেলা করি… তুমি সুখের দিকে চলো, আমি ব্যথার কাছে ফিরি। আপনার অবস্থা আমার মতো শোচনীয় হবে না তা জানি।

আপনি নিজেই আপনার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন শতকরা ৯০ থেকে ৯৬ ভাগ। বাকিটা আমরা ফেট বা নিয়তি বলতে পারি। ভাগ্য অনেক সময় অনির্দিষ্ট কারণে আপনা থেকেও গতিপথ বদলাতে পারে। এখানে রাশিচক্রে আমি ‘নিউমারলজি’ বা ‘সংখ্যা-জ্যোতিষ’ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন