default-image

বিশ্বখ্যাত উইম্বলডন টেনিস মাঠে যে খেলোয়াড়ই রাজত্ব করুন না কেন এখানকার আকাশ শাসন করে একজনই। প্রতিদিন ভোরে তার এক চক্করেই সব ঠিকঠাক। সারা দিন আর কেউ উৎপাত করতে আসবে না। নগর পায়রাদের তাড়িয়ে টেনিস মাঠকে নিরুপদ্রব রাখে সে-ই। হলদে ঠোঁটের হ্যারিস প্রজাতির সেই বাজপাখির নাম— রুফুস।


খুব বেশি আগের কথা নয়। কয়েক বছর আগেও মাঝে মধ্যেই উইম্বলডনের মাঠে পায়রাদের উৎপাত দেখা যেত। গ্রাসকোর্টে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের মধ্যেই খাবারের খোঁজে ওড়াউড়ি করতে করতে পায়রারা ঢুকে পড়ছে মাঠে। কিন্তু এখন আর সে উপায় নেই। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের এই পায়রারা এখন রুফুসের কঠোর শাসনে।

উইম্বলডনের এই আকাশ শাসকের প্রশিক্ষক ও পালক নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েনি ডেভিস, তাঁর স্ত্রী ডোনা ও মেয়ে ইমোজেন। তাঁদের কেউ একজন প্রতিদিন ভোরে রুফুসকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে আসেন উইম্বলডনে। গ্যালারিতে ঢুকে রুফুসকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওর সকালের মহড়ার জন্য। ভোরে এই মহড়াতেই পায়রাকুলকে তাড়িয়ে মাঠছাড়া করে রুফুস। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে কিছু বিশেষ মহড়াও দেয় রুফুস।

default-image

শিকারি বাজ হিসেবে হলদে ঠোঁটের এই হ্যারিস প্রজাতির খ্যাতি আছে। এই প্রজাতির বাস উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকাতে হলেও দুনিয়াজোড়া কদর এই বাজের। এসব বাজ পাখিকে পোষ মানিয়ে আর প্রশিক্ষণ দিয়ে শিকারের কাজে লাগানোর ইতিহাসও হাজার বছরের পুরোনো।

রুফুসের ক্ষুধা মেটানো আর ওর দেখভালে খুবই যত্নবান ডেভিস পরিবারের সদস্যরা। ফলে পায়রা এমনিতে বাজপাখির খাদ্য হলেও উইম্বলডনের পায়রাকুলের প্রতি সেই লোভ নেই রুফুসের। ওদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়াটাই রুফুসের কাজ।

ওয়েনি ডেভিস বলেন, দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজ পোষার ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই এই শিল্প গড়ে উঠেছে। একটা শিকারি বাজকে যে কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সে সেই কাজটিই করে। আমরা রুফুসকে ব্যক্তিগত শিকারের কাজে লাগাই না বরং ওর প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগাই। ফলে রুফুসও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শিকার করে না। কিন্তু কোনো এক দিন রুফুস হঠাৎ কোনো পায়রা শিকার করবে না সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

রুফুস ইতিমধ্যেই উইম্বলডনের তারকায় পরিণত হয়েছে। অগণিত ক্রীড়া আলোকচিত্রী আর টেলিভিশনের কর্মীরা রুফুসের ছবি তুলেছেন। এমনকি (@RufusTheHawk) ‘রুফুস দ্য হক’ নামে ওর জন্য একটা টুইটার অ্যাকাউন্টও আছে।

রয়টার্স অবলম্বনে

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0