এই সময়ে চোখের সমস্যায়

বিজ্ঞাপন
default-image

একজন সংক্রমিত ব্যক্তির দেহ থেকে করোনাভাইরাস আরেকজন সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে নাক, মুখ ও চোখের মাধ্যমে। তাই নাক, মুখ ঢেকে রাখার মতো চোখের নিরাপত্তায়ও প্রয়োজন বিশেষ ব্যবস্থা।

এখন চোখের কোনো সমস্যার কারণে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কারণ, সে ক্ষেত্রে চোখ পরীক্ষার জন্য নানা ধরনের যন্ত্রপাতির সংস্পর্শে আসতে হয়। আবার করোনার কারণে চোখের কিছু উপসর্গ হতেও দেখা যাচ্ছে। তাই সাধারণ চলাফেরার সময় আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় চোখের নিরাপত্তা সঠিক না হলে করোনার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা অনেক।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় চোখের পানি বা টিয়ারে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। চোখ আক্রান্ত হওয়ার দুটি উপায় আছে। একটি হলো হাঁচি-কাশির শ্লেষ্মা বা ড্রপলেটসের মাধ্যমে ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি সুস্থ ব্যক্তির চোখে চলে আসতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো, ভাইরাসটি ড্রপলেটে সংক্রমিত কোনো বস্তুর উপরিভাগ বা তল থেকে স্পর্শের মাধ্যমে হাতে বা হাতের আঙুলে এবং পরে চোখ চুলকানোর সময় চোখে চলে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চোখ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই চোখের নিরাপত্তায় সতর্ক থাকুন।

চোখের সুরক্ষায় যা করবেন

প্রাথমিকভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ চোখে এক ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এতে চোখ ওঠার মতো উপসর্গ যেমন চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া, খোঁচানো ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটিকে বলা হয় ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস। এমনকি এটি করোনা সংক্রমণের একমাত্র উপসর্গ হতে পারে, যা আমরা প্রায়ই গুরুত্বের সঙ্গে নিই না। আবার অনেক সময় চোখ সংক্রমিত হলেও উপসর্গ বা চোখ ওঠা না-ও থাকতে পারে। বেশির ভাগ সময় এর জন্য আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। তবে পরিবারে বা কর্মক্ষেত্রে কারও এমন চোখ ওঠার উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। সে ব্যক্তির করোনার পরীক্ষা না করা পর্যন্ত আইসোলেশনে থাকা উচিত। চোখে হাত দেওয়ার আগে ও পরে হাত সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে হাতের স্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে না ছড়ায়। চোখে হাত দেওয়ার অভ্যাস, চোখ চুলকানো বা রগড়ানো সব সময়ের জন্যই পরিহার করে চলা উচিত। বাইরে গেলে অন্যের ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণ পরিহার করতে গগলস বা ফেস শিল্ড পরে থাকতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন যেমন স্বাস্থকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সংবাদকর্মী, অফিস, দোকানপাট বা মলের ডেস্কে কর্মরত ব্যক্তি, ব্যাংকার, যাঁদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের লোকজনের সংস্পর্শে আসতে হয়। যাঁরা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন তাঁদের জন্য এই সময় চশমা ব্যবহার করা ভালো। চশমা যেমন বারবার চোখে হাত দেওয়ার প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে, তেমনি সীমিতভাবে ড্রপলেটকেও বাধাগ্রস্ত করে। করোনা হাসপাতাল বা ওয়ার্ডে বা স্যাম্পল নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের জন্য গগলস বা ফেস শিল্ড অত্যাবশ্যক।

default-image

এই সময় চোখের রোগ

করোনার সময়ে যাঁরা চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন ছানি, গ্লুকোমা বা চোখের অন্যান্য জটিলতায় ভুগছেন তাঁদের জন্য উপদেশ হলো, প্রয়োজন হলে চোখের অস্ত্রোপচার করিয়ে নিতে পারেন। অজ্ঞান করার প্রয়োজন না হলে চোখের অপারেশন করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় তেমন একটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে কারও শ্বাসকষ্ট বা করোনার উপসর্গ থাকলে, সে সময় এসব চিকিৎসায় না যাওয়া উচিত। চোখে আঘাত, কর্নিয়ার সমস্যা, আকস্মিক অন্ধত্ব ইত্যাদি জরুরি সমস্যায় অবশ্যই যথাযথ সুরক্ষাবিধি মেনে হাসপাতালে যেতে হবে। চোখের পাওয়ার দেখা বা রুটিন চেকআপের জন্য সময় নিলে ক্ষতি নেই।

দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় যাঁরা চোখে ড্রপ ব্যবহার করেন এবং ড্রপ দেওয়ার জন্য অন্য কারও সাহায্য নিয়ে থাকেন, এমন ক্ষেত্রে ড্রপ দেওয়ার আগে হাত সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। যাঁরা বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা, ক্যানাসর ইত্যাদি আছে, তাঁদের জন্য জরুরি না হলে হাসপাতালে না গিয়ে টেলিফোনে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর যদি হাসপাতালে বা বিশেষজ্ঞের চেম্বারে যেতে হয়, তবে অবশ্যই মাস্ক পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কাজ সেরে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। হাসপাতালে বা ডাক্তারের চেম্বারে যন্ত্রপাতি প্রতিজন ব্যবহারের পর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

করোনার এই কঠিন সময়ে প্রধান কাজ করোনার সংক্রমণ এড়িয়ে চলা এবং সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করে চিকিৎসা নেওয়া।

ডা. মো. ছায়েদুল হক :  চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, পরামর্শক, আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন