default-image

মানবদেহের নানা অংশেই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কাঁধ বা হাঁটুতেও নানা কারণে ব্যথা হতে পারে। কাঁধ ও হাঁটুর সমস্যা এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি বিষয়ে আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত ‘করোনাকালে অসুখ-বিসুখ’ অনুষ্ঠানের পঞ্চম পর্বে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সহকারী অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা। অনুষ্ঠানটি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে একযোগে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ৪ সেপ্টেম্বর।

বিজ্ঞাপন

শুরুতেই জানা গেল কাঁধের ব্যথার নানা কারণ। কাঁধের জোড়ার নিজস্ব সমস্যার বাইরেও শরীরের বিভিন্ন স্থানের সমস্যার কারণে কাঁধে ব্যথা হতে পারে। ঘাড়ের সমস্যায়, পিত্তথলির প্রদাহ বা প্রদাহের ক্ষেত্রে কিংবা ফুসফুসের সমস্যাতেও কাঁধে ব্যথা হয়। কাঁধে ব্যথার অন্যতম একটি কারণ হলো আঘাত।

পথ দুর্ঘটনা, খেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়া নানাভাবেই কাঁধের জোড়ায় আঘাত লাগতে পারে। এমন ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়াটা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় টানাহ্যাঁচড়ায় রোগীর কাঁধ যাতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

রোগীর কাঁধের জোড়া যাতে স্থির থাকে, অর্থাৎ ওই স্থানে যাতে টান না পড়ে, সেটি মাথায় রাখতে হবে সাহায্যকারীদের। হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক রোগীর আঘাতের স্থান পরীক্ষা করে আঘাতের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।

কাঁধের জোড়া সরে যাওয়া অনেক রোগীরই পুনরায় একই ধরনের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এ রকম হলে হাতের শক্তি কমে আসে, প্রয়োজন অনুসারে হাত বিভিন্ন দিকে নেওয়ার সময় অসুবিধায় পড়তে হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক কালে চিকিৎসাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। উন্নত বিশ্বের মতো আধুনিক চিকিৎসা এখন হচ্ছে বাংলাদেশে।

ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি তেমনই একটি উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি। অস্ত্রোপচারের জায়গাটি না কেটেই প্রযুক্তির সহায়তায় সারিয়ে তোলা সম্ভব জোড়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রোগী নিজেও মনিটরে দেখতে পারেন তাঁর শরীরে কী ধরনের অস্ত্রোপচার চলছে, আবার তাঁকে অস্ত্রোপচারের সময়কার ভিডিওটি দিয়ে দেওয়ার সুযোগও থাকে। এ ধরনের চিকিৎসায় রোগীর রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে না, অস্ত্রোপচারের পর সাধারণ অন্যান্য অস্ত্রোপচারের চেয়ে অনেক কম সময়ে রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। কাঁধের আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে রোগী খুব দ্রুতই নিজ হাতে খাবার খেতে, দাঁত ব্রাশ করতে বা চুল আঁচড়াতে পারেন।

ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ জমে যাওয়ার সমস্যাতেও ভোগেন অনেকে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্ট্রোক প্রভৃতি কারণে যেমন এ ধরনের সমস্যা হতে পারে, তেমনি আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ নাও থাকতে পারে। ব্যায়ামই এমন সমস্যার মূল চিকিৎসা। ব্যায়াম শিখে নিয়ে বাড়িতেই নিজে ব্যায়ামে করতে হবে নিয়মিত।

বিজ্ঞাপন

হাঁটুব্যথার অন্যতম কারণ বয়সজনিত ক্ষয় হওয়ার ফলে হাঁটুর জোড়ার অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। এ ধরনের সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন দীর্ঘ সময় একইভাবে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না, যতটা সম্ভব কম সিঁড়ি ভাঙতে হবে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমাতে হবে, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সমস্যা মধ্যম অবস্থায় থাকলে কিছু ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন হয়। তবে মারাত্মক সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু হাঁটুর জোড়া প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে একেবারে আগের মতো অবস্থা ফিরে না এলেও জীবন অনেকটা সহজ হয়ে আসে বলেই জানা গেল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষভাগে দর্শকদের কিছু প্রশ্নের জবাব দেন ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

মন্তব্য পড়ুন 0