গরমে আরাম দেবে সিলিং ফ্যান

বিজ্ঞাপন
>

default-image

গরমের সময় একটু শীতল বাতাস শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে। সিলিং ফ্যান সেই কাজ করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। আর সমাজের মধ্যবিত্তের কাছে সিলিং ফ্যানের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। 

চাহিদা অনুযায়ী

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সিলিং ফ্যান রয়েছে। যার যেমন চাহিদা, সে রকম ফ্যানই বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। রামপুরায় মায়ের দোয়া ইলেকট্রিকের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. শফিক মিয়া জানান, ‘একেক রকম ক্রেতার একেক রকম চাহিদা। আমরা সব শ্রেণির ক্রেতার কথা চিন্তা করেই বিভিন্ন ধরনের ফ্যান দোকানে রাখি।’ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন আকারের ফ্যান বাজারজাত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে নিত্যনতুন নকশাও যোগ হচ্ছে ফ্যানে। সাধারণত তিন পাখার সিলিং ফ্যানের চাহিদাই বেশি। তবে অনেকে আবার চার বা পাঁচ পাখার ফ্যান বাড়িতে ব্যবহার করেন। 

আভিজাত্যের সঙ্গে মানিয়ে

বর্তমানে শুধু শীতল বাতাস পেতেই নয়, নিজের বাসাটিকে আরও একটু আভিজাত্যের ছোঁয়া দিতে বাহারি ডিজাইনের ফ্যান রয়েছে। সাধারণত বাসাবাড়িতে তিন পাখার ফ্যানই বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে তিন পাখার চেয়ে চার বা পাঁচ পাখার ফ্যানে নানা ধরনের কারুকার্য বেশি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাব বা ঘরের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে ফ্যান ব্যবহার করেন। পাখার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম নকশা। ঘরের মেঝে ও সিলিংয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমের ওপর ফ্যানের নকশা নির্ভর করে। বর্তমানে সাদা, কালো, হালকা বাদামি কিংবা চাঁপা সাদার মধ্যে সোনালি কারুকাজ ও বিভিন্ন নকশার সিলিং ফ্যান রয়েছে। 

রকমভেদ ও সুবিধা

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আরএফএলের ভিশনের মোট ১১টি মডেলের ফ্যান পাওয়া যায়। ৫৬, ৪৮, ৩৬ ও ২৪ ইঞ্চি—চারটি সাইজের সিলিং ফ্যান পাওয়া যায়। ভিশনের সুপার সিলিং ফ্যান চলে যুগের পর যুগ। এতে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উন্নত মানের বিয়ারিং। রয়েছে অ্যারোডায়নামিক অ্যালুমিনিয়ামের পাখা, শব্দহীন মোটর। উন্নত মানের ক্যাপাসিটর ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পিওর কপার ওয়্যার। এ ছাড়া বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, টেম্পার ৬ অ্যালুমিনিয়ামের শিটের অ্যারোডায়নামিক পাখায় বাতাস ছড়ায় সবখানে সমানভাবে। মাহাবুবুর রহমান জানান, তিন বছরের মধ্যে ভিশন ফ্যানের টাকা উশুল হয়। এই ফ্যান প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বাঁচায় ১০ দশমিক ৭ ইউনিট। ফলে তিন বছরে খরচ উঠে যায়। 

কোথায় পাবেন

রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম মার্কেট, চকবাজার, বসুন্ধরা শপিং মল ও নবাবপুর মার্কেটে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ডিজাইন ও ওয়াটের ফ্যান। ভিশন, ওয়ালটন, সিঙ্গারের শোরুম থেকেও কিনতে পারেন। 

দরদাম

একেকটির ডিজাইন, রং ও পাখাযুক্ত ফ্যানের দাম ভিন্ন। তেমনি দাম অনেকাংশে নির্ভর করবে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর। আরএফএলের ভিশনের ফ্যানের দাম ২ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। সিঙ্গার, ওয়ালটন, গাজী, বিআরবি, প্যারাডাইস, সুপারস্টার, ন্যাশনাল, তুফান প্রতিষ্ঠানের ফ্যানের দাম পড়বে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।

খেয়াল রাখুন 

● ফ্যানের পাখায় সাধারণত প্রচুর ধুলা জমে। তাই সিলিং ফ্যানের পাখাগুলো পরিষ্কার রাখা উচিত। সিলিং ফ্যানের পাখার ওপর এবং নিচের অংশ নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। 

● বেশি ময়লা হলে ভেজা কাপড় অথবা স্পঞ্জ দিয়ে পাখাগুলো পরিষ্কার করতে পারেন। পাত্রে কিছুটা সাবানপানি নিয়ে তাতে একটা পরিষ্কার কাপড় কিংবা স্পঞ্জ ভিজিয়ে চিপে নিন। তারপর সেটা দিয়ে ধীরে ধীরে ফ্যানের পাখার দুই পাশ পরিষ্কার করে ফেলুন। 

● খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে চাইলে ফ্যানের পাখাগুলো খুলে সেগুলো সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কিছু সময় পর পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। তবে পাখা খোলা ও লাগানোর কাজটি অবশ্যই সাবধানে করবেন। 

● মাসে একবার হলেও ফ্যান পরিষ্কার করা উচিত। 

● ফ্যান চলার সময় যদি শব্দ হয়, তাহলে দ্রুত মেকানিকের সঙ্গে কথা বলুন। 

● ফ্যান কেনার সময় এর ওয়ারেন্টি কিংবা গ্যারান্টির মেয়াদ বুঝে নিন। 

● ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার একই সঙ্গে না চালানোই ভালো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন