default-image

কৈশোরে তাঁর সঙ্গী ছিল কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড ও মুসা আমান এবং শার্লক হোমস! মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে পাঠ্যবইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে পড়তেন ‘তিন গোয়েন্দা’ ও ‘শার্লক হোমস’। বইয়ের পাতা থেকে এসব চরিত্রের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন কতই না সব রোমাঞ্চকর অভিযানে। তবে সেই দুঃসাহসিক অভিযান আজ আর বইয়ের পাতায় পড়া নয়, নিজেই পরিচালনা করেন শ্বাসরুদ্ধকর সব অভিযান। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (দক্ষিণ) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদা আফরোজ। যাকে সবাই লাকী নামেই চেনে।
সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহ-২০১৫ আয়োজনে বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য তিনি ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’ পেয়েছেন। তিনি পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করেন এভাবেই, ‘পুরস্কারটি আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। যা আমার দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকার শক্তি জোগাবে।’
মাহমুদা আফরোজ ২০১০ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পান। এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে। এরপর ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছেন ঢাকা মহনগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে।
শুধু পিপিএম নয়, তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সারদা পুলিশ একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়ও। মাহমুদার ব্যাচে ছিলেন ২১ জন নারী সদস্যসহ মোট ১৭৪ জন প্রশিক্ষণার্থী। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি লাভ করেন ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’।
তাঁর এই পুরস্কার প্রাপ্তি খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। ‘প্রশিক্ষণের শুরুর দিকে আমার খুবই কষ্ট হতো। কিন্তু নিজে নিজে প্রতিটি বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করি। আর প্রতিদিন নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্ঠা করি। প্রশিক্ষণের মধ্যবর্তী ফলাফলে আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম। কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল প্রথম হওয়ার।’ বলেন মাহমুদা আফরোজ।
তিনি ঢাকার অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে আইন বিভাগে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুলিশে নিয়োগ প্রাপ্তির আগে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জে। তারও আগে শিক্ষকতা করেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল পুলিশ বাহিনীতে কাজ করার। তাই বিসিএস পরীক্ষার ফরমে তিনি শুধু একটি ঘরই নির্বাচন করেন। আর তা হলো পুলিশ।
মেয়ে আয়েশা আদরকে নিয়ে মাহমুদা আফরোজের সংসার। ভিকারুননিসা নূন স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। মাহমুদা আফরোজের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায়। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। বাবা মিনহাজ উদ্দিন সেনাকল্যাণ সংস্থায় চাকরি করতেন, বর্তমানে নিজের ব্যবসা দেখভাল করেন। মা কাওসার মিনহাজ গৃহিণী। তাঁর ছোট দুই বোন মাহফুজা আফরোজ ও মাহবুবা আফরোজ পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এমন একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা কেন বেছে নিলেন। এই প্রশ্নের উত্তর যেন তাঁর তৈরিই ছিল, ‘আমার বন্ধুর বাবা ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ছোটবেলায় তাঁর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হই। আবার রাস্তায় নানা অন্যায়-অবিচার দেখলে তো মনেই হতো—আমার সাধ্য থাকলে নিশ্চয় একটা কিছু করতাম। এই বোধ থেকেই আমি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিই।’

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন