default-image

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিক উইনস্টন চার্চিল হয়তো ইসলামধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। ইসলামধর্ম গ্রহণ না করতে অনুরোধ জানিয়ে ১৯০৭ সালে চার্চিলকে লেখা তাঁর এক হবু আত্মীয়ার চিঠিতে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার চার্চিলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে সম্প্রতি এই চিঠি খুঁজে পেয়েছেন। ব্রিটেনের দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য সানডে টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।

ভারত ও সুদানে সেনাকর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চার্চিল ইসলামধর্ম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন। ১৮৯৬ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বদলি হন চার্চিল। ১৮৯৮ সালে মিসরে বদলি হন এবং কিছুদিন পরই সেখান থেকে সুদানে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে অনুরাগী চার্চিল এ সময়ে প্রাচ্যের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার জানিয়েছেন, চার্চিলের পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেই ইসলাম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা জানতেন।

চার্চিলের ভাইয়ের বাগদত্তা লেডি গেন্দোলিন সে সময় এক চিঠিতে তাঁকে ইসলাম গ্রহণ না করতে আকুতি জানান। দ্য সানডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সেই চিঠিতে গেন্দোলিন লেখেন, ‘দয়া করে ইসলামধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যেয়ো না। আমি খেয়াল করেছি যে তোমার স্বভাবের মধ্যে প্রাচ্যভাবাপন্নতা এবং পাশাদের মতো হয়ে ওঠার প্রবণতা আছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি যদি ইসলামের সংস্পর্শে আসো, তাহলে হয়তো যতটা ভাবছ, তার চেয়ে বেশিই বদলে যেতে পারো তুমি। রক্তে বান ডাকতে পারে। তুমি কী বুঝতে পারছ না আমি কী বলতে চাইছি। এর বিরুদ্ধে লড়াই করো।’

ওয়ারেন ডকটার দ্য সানডে টেলিগ্রাফকে বলেছেন, চার্চিল কেবল ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মকে সমমর্যাদাতেই দেখতে চাননি, উসমানীয় সাম্রাজ্যের সামরিক শৌর্য ও সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাসের ব্যাপক প্রশংসাও করতেন তিনি। সংবাদপত্রটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ১৯৪০ সালে লন্ডনে একটা মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেন এবং প্রকল্পটির জন্য এক লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেন তিনি। এটা রিজেন্ট পার্কে অবস্থিত লন্ডন কেন্দ্রীয় মসজিদ।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক মনে করেন, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে চার্চিলের ধারণা ‘সমকালীনদের পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদী ও প্রাচ্যবাদী ধারণার তুলনায় প্রবলভাবেই ভিন্ন ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি চার্চিলের অনুরাগ অনেকটাই ভিক্টোরীয় ধ্যানধারণা-তাড়িত ছিল। যে দৃষ্টিভঙ্গিতে বেদুইন গোষ্ঠীগুলোর যাযাবর ধারার জীবনযাপন এবং সম্মানের সংস্কৃতি ছিল মারাত্মকভাবে কল্পনাশ্রয়ী।’ চার্চিল ইসলাম সম্পর্কে এতটাই বিশদভাবে জানতে আগ্রহী ছিলেন যে বিশের দশকেই শিয়া ও সুন্নি মুসলিমদের পার্থক্য নিয়ে কৌতূহলী ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন