default-image

গরম বাড়ছে। তেতে থাকা রাজপথে খানিকটা হাঁটলেই এখন তৃষিত হয়ে ওঠে বুক। তৃষ্ণা মেটাতে পথের ধারে খোলা ফলের রসে অনেকে গলা ভেজান, কিন্তু সেসবে নানা রোগের জীবাণু। তাই নির্ভেজাল আর নিরাপদ পানীয় খেতে চাইলে ডাবের বিকল্প নেই। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বললেন, যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য ডাবের পানি খাওয়া নিষেধ। যাঁদের শরীরে সোডিয়াম, ক্লোরাইড, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফেট, বাইকার্বোনেট বেশি থাকে, তাঁদের জন্য ডাবের পানি খেতে কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। পিপাসা মেটানোর পাশাপাশি, ডাবের পানি কেন স্বাস্থ্যকর পানীয়, সেটি জেনে নেওয়া যাক।
. শারীরিক পরিশ্রমে শরীর যে খনিজ ও প্রয়োজনীয় তরল পদার্থ হারায়, ডাবের পানি এক নিমেষেই তা পূর্ণ করে দিতে পারে।
. ডাবের পানিতে থাকা উপাদান কোষের বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। সেই সঙ্গে পিএইচের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোষকে সজীব রাখে। তাই নিয়মিত ডাবের পানি খেলে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না।
. ডাবের পানিতে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায়, যাঁরা নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি খুব কার্যকরী। ডাবের পানি রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃৎস্বাস্থ্য ভালো রাখে।
. এর ফল শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই রক্তের বাড়তি চিনি দ্রুত পুড়িয়ে ফেলে। একদিকে শরীর যেমন বেশি কর্মক্ষমতা অর্জন করে, অন্যদিকে মেদও জমে না।
. প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকায় ডাবের পানিকে এনার্জি ড্রিংক বলেন অনেকে। তাই কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকগুলোর পরিবর্তে ডাবের পানিকে প্রধান্য দিন।
. ডায়রিয়া, কলেরা, বমিতে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি ও ইলেকট্রোলাইটস বের হয়ে যায়। ডাবের পানিতে মানুষের শরীরের উপযোগী প্রচুর পরিমাণ ইলেকট্রোলাইটস ও প্লাজমা থাকে। তাই শরীরে ইলেকট্রোলাইটসের মাত্রা ঠিক রাখতে ডাবের পানি খান।
. মাংসপেশিতে টান লাগা কিংবা শক্ত হয়ে থাকার প্রবণতা থাকে অনেকের। শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে এটি বারবার ঘটে। ডাবের পানিতে থাকে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। তাই এই সমস্যা এড়াতে ডাবের পানি খেতে পারেন।
. ডাবের পানিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি রেডিকেলসের সঙ্গে যুদ্ধ করে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে যে খারাপ প্রভাব পড়ে, ডাবের পানিতে তার ঘাটতি পূরণ হয়।
. ডাবের পানিতে থাকা অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিফাংগাল বৈশিষ্ট্য থাকায় ত্বক সুরক্ষার এক অসাধারণ দাওয়াই।
. ডাবের পানি মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে চুলের ভেতরে থাকা ত্বককে সতেজ রাখে। ফলে চুলের গোড়া শক্ত ও স্বাস্থ্যবান হয়। চুল পড়াও রোধ হয়।
. গর্ভবতী মায়েদের অনেকই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ সময়ে ওষুধ খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে অ্যাসিডিটি দূর করতে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন ডাবের পানি।
গ্রন্থনা: সিদ্ধার্থ মজুমদার

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন