default-image

ডাস্টবিনের ভেতরে একটা বস্তা। সেখান থেকে শব্দ বের হচ্ছে। কৌতূহলবশত এক কিশোর বস্তার মুখ খুলে দেখে তিন মৃত সহোদরের সঙ্গে একমাত্র জীবিত বিড়ালছানাটি এই শব্দ করছে। সে বছর সাতেক আগের ঘটনা। কিশোরের নাম প্রান্ত আনন্দময়। বাসা রাজধানীর শহীদবাগ এলাকায়। সে বিড়ালছানাটি বাসায় নিয়ে গিয়ে মায়ের তোপের মুখে পড়ে। তবে বাবার ছিল মৌন সম্মতি। এতেই রক্ষা। বিড়ালটি হয়ে গেল পরিবারের সদস্য। বিড়ালটির নাম দেওয়া হয় এলি। এই পরিবারের সঙ্গে এলিও চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে।

default-image

প্রান্ত আনন্দময়ের বাবা জাহিদ হোসেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা তিনি। জাহিদ হোসেনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কেমন আছে এলি? তিনি এলির বেশ কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে দেন। দেখা যায়, তাঁর মেয়ে প্রাপ্তি আনন্দিতার কোলে এলি বেশ আয়েশ করে বসে আছে। আরও কয়েকটি ছবিতে এলিকে বেশ স্বচ্ছন্দ দেখা গেল।

জাহিদ হোসেন জানালেন, এলি ভালো আছে। ২৯ জুন ওর সপ্তম জন্মদিন গেল। ওই দিন ওকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা সে পছন্দ করে না। ওই দিন সারা দিন তার ‘মুড’ খারাপ ছিল। এ রকম হলে ও খেতে চায় না, সারা দিন একখানে বসে থাকে, এর–ওর কোলের মধ্যে উঠে বসে না, পায়ের সঙ্গে মুখ ঘঁষে না। তিনি বললেন, ‘চোখ না–ফোটা বাচ্চাটাকে সাত বছর আগে যখন আমার ছেলে ডাস্টবিন থেকে তুলে আনে, সেদিন আমার স্ত্রী বলেছিলেন, হয় বিড়াল থাকবে, না হয় তিনি থাকবেন। এখন এই বাসায় বিড়ালটি আমার স্ত্রীরই সবচেয়ে কাছের।’

default-image

এলির যুক্তরাষ্ট্র যাত্রাও কম ঝক্কির ছিল না। দেশে পাসপোর্ট ও ভিসা করাতে অনেক ধাপ পেরোতে হয়েছে। তারপরই উড়োজাহাজে উড়ে গেছে দূর দেশে। বিদেশে গিয়ে কিছুদিন খুব বিষণ্নতায় ভুগেছে। অস্থির হয়ে থাকত, সারাক্ষণ এই ঘর সেই ঘর যাওয়া আসা করত, ডাকত। এখন সে খুব শান্ত। সারা দিনে তার ডাক শোনা যায় দুই সময়ে, যদি কেউ দরজা বন্ধ করে রাখে তাহলে সে নিজে খোলার চেষ্টা করবে, না পারলে ডাকবে, আর খিদে পেলে।

default-image

ভিনদেশে একবার সে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবার বাসা চিনে ফিরে এসেছে। জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মজার ব্যাপার এ দেশে সব বাসাই একরকম দেখতে, কিন্তু ও আমাদের বাসাটা ঠিকই চিনেছে। সম্ভবত গন্ধ শুঁকে।’

default-image

জাহিদ হোসেন আগামী আগস্টে একাই দেশে ফিরবেন। পরিবার ডালাসে থাকবে। করোনাকালে আপাতত এলিও ডালাসেই থাকছে।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন