default-image

কেনাকাটায় চলে আসছে ঈদের আমেজ। হাতছানি দিয়ে ডাকছে নজরকাড়া ঈদ পোশাক। মেয়েদের সাজপোশাকে প্রতিবছর পরিবর্তন হয় নকশা ও কাট। গত বছর যা ছিল জনপ্রিয়, এ বছর সেই একই নকশা পুরোনোর প্রতিনিধি। নিত্যনতুন নকশার পোশাক বাজারে ছড়ানো থাকলেও অনেকেই চান পছন্দের নকশা ও কাটে বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঈদ পোশাকটি দরজি বাড়ি থেকে বানিয়ে নিতে। অনেকেই ছুটছেন দরজি বাড়িতে। কারিগরদেরও চলছে পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। গলা, হাতা কিংবা সালোয়ারের কাটছাঁট কেমন হবে এ বছর, নজর বুলিয়ে নিই সেই খোঁজখবরে।

লম্বা কামিজ এখন পুরোনো, বরং মাঝারি লম্বা এ বছরের চলতি ধারা। জামার লম্বা এ বছর ৩৮-৪২ ইঞ্চির মধ্যে ওঠানামা করছে। গত বছর জামায় ঘের চলেছে ৩৫-৩৮ ইঞ্চি, কিন্তু এ বছর সেটা চলছে ২৫-২৮ ইঞ্চির মধ্যে। ওপরের অংশে জামার মতো হয়ে এসে বুকের নিচে জোড়া লাগিয়ে এক ছাঁটের অনেক ঘেরের গাউন ধাঁচের পোশাক প্রাধান্য পাচ্ছে। লম্বা কুর্তা, কোটি এসবও আছে পছন্দের তালিকায়।

ইয়ক বা লেইসের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে নানা ধরনের বোতাম ও বড় পুঁতি। এক রঙা কাপড়ে ছাপানো নকশা ও নকশা করা কাপড়ে একরঙা কাপড় দিয়ে কুচি করে বা বিভিন্ন ধরনের নকশার আকৃতি ফুটিয়ে তোলার প্রবণতা দেখা গেছে বেশির ভাগ দরজি বাড়িতেই। গত বছর অনেক ধরনের গলা, হাতা ও জামার নিচের কাটছাঁটে বৈচিত্র্য থাকায় এ বছর খুব বেশি পরিবর্তন আসছে না বলে জানালেন প্রায় সব এলাকার দরজি বাড়ির কারিগরেরা।

প্রথমেই আসি গলার প্রসঙ্গে। ব্লাউজের ক্ষেত্রে গোল ও নৌকা কাটের গলা চলছে নকশাদার কারুকাজের কাপড়ে। সাধারণ ব্লাউজে চলছে গোল গলা, পাশে চেইন দেওয়া গলার চাহিদাও অনেক। গরমের কারণে উঁচু গলা না, বরং চাহিদার প্রথম সারিতে আছে একটু বড় করে কাটা গোল, তিন কোনা, মেট্রো বা চার কোনা কাটের গলা। জামায় গোল, উঁচু গলা, নৌকা কাট, তিন কোনা গলা, পিঠের অংশে হৃদয় আকারের কাটাও আছে।

 গুলশান, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, উত্তরা ও নিউমার্কেট এলাকার কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামার জন্য বিদেশি ক্যাটালগ থেকে গলা ও হাতার নকশা পছন্দ করছেন বেশির ভাগ নারী। কনুই বরাবর হাতার চাহিদা বেশি। তবে কনুই বরাবর সোজা নেমে এসে ঢিলা করে ছড়ানো হাতাও চাইছেন কেউ কেউ। কাঁধ ছাড়িয়ে হাতার কাছে কাটা ও বেলবটম হাতায় সামনে ছোট, পেছনে বড় রাখা হচ্ছে। চাহিদা আছে প্রজাপতি ও ঢিলা কোয়ার্টার হাতার। পুরো হাতা কেটে সেটা আবার বোতামের সাহায্যে কিছু দূর পরপর আটকানো হাতাও নজর কাড়ছে। এ ছাড়া রুমাল হাতা, ১ থেকে ৩ স্তরের অন্য রঙের ঝালর লাগানো হাতা, হাতার ওপর অংশে কাটা, মাঝখানে কেটে ফিতা দিয়ে আটকানো হাতা—এসবও চলছে আগের মতোই।

পালাজ্জো কিংবা স্কার্ট পালাজ্জোকে ছাপিয়ে দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিচ্ছে চাপা প্যান্ট। এ ছাড়া কোমরের অংশে ইলাস্টিক লাগানো প্যান্ট ঢঙের হলেও হাঁটুর সামান্য ওপর থেকে বেশি কুঁচির সালোয়ারের চাহিদাও অনেক।

গুলশানের পিংক সিটির ব্রাইট স্টাইল টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আলমগীর হোসেন জানালেন, চলছে সোজা কাট বা সিগারেট কাটের সালোয়ার, যার ঘের রাখা হচ্ছে ১০-১২ ইঞ্চি। এ ছাড়া টিউলিপ, সারারা প্যান্টের ফরমাশও নেহাত কম নয়। অন্যদিকে লালমাটিয়ার মুন ফ্যাশন টেইলার্সের কর্ণধার ও কাটিং মাস্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানালেন, এবারের ঈদ গরমে হওয়ায় ব্লাউজ ও জামা দুই ক্ষেত্রেই বগলের কাছ থেকে নিচের অংশ পর্যন্ত ঢিলা হাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন