default-image

হঠাৎ সিদ্ধান্ত। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি উজান ঢলে নেমে আসা পানিতে বন্দী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা যে যার অবস্থান থেকে নেমে পড়ল কাজে। উদ্দেশ্য বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও ওষুধসামগ্রী সংগ্রহ। মাত্র এক দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হলো প্রায় ৪০০ পরিবারের জন্য কিছু শুকনো খাবার এবং প্রায় এক হাজার মানুষকে দেওয়ার জন্য ওষুধ। দুর্গত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পাওয়া গেল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন চিকিৎসককে।
গত ৩০ জুন সকাল আটটায় তিন চিকিৎসক ইশতিয়াক হাসান, অমি দেব ও কামরুজ্জামান জুয়েলকে নিয়ে বন্ধুরা একটি মাইক্রোবাসে করে রওনা হলো কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার উদ্দেশে।
১১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বন্ধুরা মইয়াদিয়া এলাকায় পৌঁছায় দুপুর ১২টায়। মইয়াদিয়া শিশুশিক্ষা স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে তখন প্রায় ২০০ পরিবারের আশ্রয়। আশ্রয়কেন্দ্রের দোতলায় টুল নিয়ে বসে পড়লেন তিন চিকিৎসক। চিকিৎসকদের সামনে তিনটি লম্বা লাইনে বন্ধুরা দাঁড় করাল আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষকে। বিনা মূল্যে সবাইকে দেওয়া হলো পর্যাপ্ত ওষুধ।

default-image

বেলা দুইটার দিকে মইয়াদিয়া থেকে আরও ছয় কিলোমিটার দূরের বাগগৌজারা আবাসন প্রকল্পে যায় বন্ধুরা। হাঁটুপানি ডিঙিয়ে বন্ধুরা সেখানকার ৩০০ পরিবারের সদস্যদের চিকিত্সাসেবা দেয়। এ সময় তাদের মাঝে কিছু শুকনো খাবারও বিতরণ করা হয়। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ার পর থেকে অসুস্থ ছিল অনেকেই। চারদিকে পানি থাকায় তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে পারছিল না।
বাগগৌজারা আবাসন প্রকল্পে চিকিত্সাসেবা ও ত্রাণ বিতরণ শেষে বন্ধুরা বাঁশখালী-চকরিয়া মহাসড়কের ওপর আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। এ ছাড়া একই দিনে পটিয়া বন্ধুসভার সঙ্গে যৌথভাবে চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১০০ পরিবারকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ত্রাণ প্রদান করে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0