default-image

মা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র চিকিৎসক আয়েশা আক্তারের কাজের ধরনই এমন যে তাঁকে সর্বক্ষণ স্বাস্থ্যবিষয়ক, বলতে গেলে প্রায় সব তথ্য নিয়ে আপডেট থাকতে হয়। যোগাযোগ রাখতে হয় সারা দেশের সঙ্গে। তবে মাকে বেশির ভাগ সময় ফোনে ব্যস্ত দেখে ছেলের বেশ অনুযোগ ছিল। মা অফিস তো করেনই, বাসাতে এসেও অফিস, আবার কোথাও গেলেও সেই অফিস। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মো. আফনানই এখন মাকে সহযোগিতা করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র আয়েশা আক্তার। ২০১৩ সাল থেকে টানা কাজ করছেন এ বিভাগে। ২২তম বিসিএস দিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় কর্মজীবন শুরু হয় তাঁর। এরপরে ২০০৭ সালে অধিদপ্তরে কন্ট্রোল রুমেই যোগ দেন এবং মাঝে কিছুদিন অন্য জায়াগাতেও কাজ করেছেন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ভালো লেগে যায়। তাই জনস্বাস্থ্য বিষয়ে একটি ডিগ্রিও নেন আয়েশা। দেশে দুর্যোগ আসা মানেই সজাগ থাকতে হয় তাঁকে। মেডিকেল টিম গঠন, ওষুধ সরবরাহ, তথ্য নিয়ে কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সেসব বিষয়ে তিনি সবাইকে অবগত করেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমসহ দেশের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক তথ্য সরবরাহের কাজও তাঁকে করতে হয়। রানা প্লাজা, মহাসেন, ফণী, আইলা, আম্পান, বনানী–চকবাজার আগুন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটসহ একের পর এক ঘটনা ঘটে, আর ব্যস্ত থাকতে হয় আয়েশাকে। শুক্রবার, শনিবার, ঈদের দিন বা অন্যান্য ছুটির দিনেরও হিসাব রাখার সময় পান না তিনি। কেননা, বিভিন্ন দুর্যোগ তো আর সরকারি ছুটির দিনের হিসাব-নিকাশ করে আসে না।

করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত নানান তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করছেন আয়েশা ও তাঁর বিভাগ। বললেন, ‘আমি তথ্য ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি মোবিলাইজেশন ও গণযোগাযোগ নিয়ে কাজ করছি। বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরের স্ক্রিনিংয়ের তথ্য আমরা সংগ্রহ করে থাকি। কারা আইসোলেশনে, হোম কোয়ারেন্টিন বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে, সে তথ্য রাখি। কত শয্যা আছে, আইসিইউসহ অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম কত আছে, সেসব তথ্য নিই। তবে ল্যাবের তথ্য নিয়ে কাজ করে অন্য একটি বিভাগ। করোনাসংক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ তথ্যের কাজ আমরা করি। এই সময়ে আমাদের কাজ আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। সারাক্ষণ আপডেট রাখতে হচ্ছে। অফিসের বাইরেও অফিস করতে হচ্ছে।’

আয়েশা জানান, ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমে ১৭ জনের দল রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এ কন্ট্রোল রুম। প্রত্যেকে মিলেই তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করেন। একেক সময়ে একেক রোগ বা কখনো কোনো দুর্যোগ চলে আসে।

তবে কাজের নানান চাপ থাকলেও কাজটাকে উপভোগ করেন আয়েশা আক্তার। বললেন, ‘কাজ উপভোগ না করলে, কাজটাকে নিজের মনে না করলে তখন বোঝা মনে হবে, আনন্দ লাগবে না।’

 পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেওয়া তা প্রায় সময়ই হয়ে ওঠে না। আয়েশা বললেন, ‘পরিবারকে সময় খুবই কম দিতে পারি। অফিসের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলে বাসায় ফিরেও আমাকে ফোনে ব্যস্ত থাকতে হয়। কষ্ট তো হয়েই যায়। তবু করছি যাতে সবাই মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি।’

পরিবারের সমর্থন রয়েছে জানিয়ে আয়েশা আক্তার বলেন, ‘শুরুর দিকে ছেলে বলত সারা দিন ফোনের ওপর থাকি। যখন ফণী এল, তখন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারে ছিলাম। টানা ফোন আসতে থাকে। কোথাও বের না হতে পেরে এবং সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকায় ছেলে মন খারাপ করেছিল। এখন ও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বরং এখন ছেলে নিজে কিছু জানতে পারলে আমাকে জানায়। এখন ছেলেই আমাকে সাহায্য করে।’

আয়েশা আক্তারের মা–বাবা ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী পেশায় চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন