default-image

‘আমি শপথ করছি যে, সর্বদা কেবল ডাস্টবিনে ময়লা ফেলব এবং অন্যদেরও কেবল ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে উদ্বুদ্ধ করব। যেখানে-সেখানে কখনোই থুতু ফেলব না। উন্মুক্ত স্থান, বনাঞ্চল, জলাশয়ের পরিবেশ বিনষ্ট হয়, এমন কাজ কখনো করব না। আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সদা সচেষ্ট থাকব।’ সারা দেশের লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক আজ এ শপথ নিয়েছেন। পরিবর্তন চাই নামের সামাজিক সংগঠনের আহ্বানে আজ শনিবার দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস ২০১৮ পালন করেছেন।

সারা দেশে প্রায় সব জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার ১৬৪টি স্থানে দিবসটি পালিত হয়েছে। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতা তৈরির এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। আরও বেশ কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে দিবসটি পালন করেছেন বলে জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। পরিবর্তন চাই বলছে, সারা দেশে এ কর্মসূচিতে দেড় লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন।

ঢাকার রবীন্দ্রসরোবরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পরিচালিত হয়। আশপাশের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন পয়েন্ট থেকে কর্মীরা যাত্রা শুরু করে পলিথিন, কাগজ, সিগারেটের টুকরা, বোতলের মতো ময়লা সংগ্রহ করেন। উন্মুক্ত স্থানে এসব ময়লা আর না ফেলার জন্য আশপাশের মানুষকে সচেতন করেন। কর্মীরা বলেন, ‘দেশবাসীর মধ্যে যদি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়, প্রতিটি শহরে যদি পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের সংস্থান এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, ময়লাকে রিসাইকল করে বিদ্যুৎ বা অন্য শিল্প উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়, তাহলে অল্পদিনেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং বসবাসের উপযোগী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠবে।’

রবীন্দ্রসরোবরে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অন্যান্য অতিথির মধ্যে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন, প্রফেসর আবদুল জলিল, সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, মিরপুর বাঙলা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক হায়দার আলী এবং সংগীতশিল্পী স্বাগতা। ঢাকার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনের উদ্দেশে স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান পরিবর্তন চাই-এর চেয়ারম্যান ফিদা হক। তিনি পরিচ্ছন্নতার সমস্যায় কিছু বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ফুটপাত বা রাস্তার ধারে ময়লা না ফেলার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব, রাস্তার ধারে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন না থাকা, দোকানদারদের সকালে দোকান পরিষ্কার করে সরাসরি রাস্তায় ময়লা ফেলা, রাস্তায় ময়লা ফেলাকে নিরুৎসাহিত করতে আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ না থাকা এবং সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব।’

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ নগর ভবনসহ দেশের প্রধান কয়েকটি ভবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এত সুন্দর সুন্দর ভবনগুলো পরিষ্কার না। পরিচ্ছন্ন নগরের জন্য পরিচ্ছন্ন মন হওয়া খুবই জরুরি।’ উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা যেমন আজকে রাস্তা ঝাড়ু দিলে, তেমনি তোমাদের মন পরিষ্কার রাখতে সব সময় সজাগ থাকবে।’

এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতার বছর বলে ঘোষণা দিয়েছিল। বছর শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু আমাদের সেই উদ্যোগ এখনো চলমান।’ পরিবর্তন চাই-এর মতো আরও বেশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পী স্বাগতা ও তাঁর দল কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস ২০১৮-এর আয়োজক কমিটির জাতীয় সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম কাজল ধন্যবাদ জানিয়ে এই অভিযানকে সফল করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিবারের মতো এ বছরও আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে আরও ছিলেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, স্থপতি ও বৃক্ষবিদ তুঘলক আজাদ, লেখিকা সেলিনা হোসেন, সাংবাদিক তাসমিমা হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক রাজীব হাসান এবং সমাজকর্মী আরিফ আর হোসেন। দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস ২০১৮-এর আয়োজনে সহায়তা করছেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন