default-image

জীবনযাপনে ষোলো আনা বাঙালিয়ানা মেনে চলা সম্ভব হোক বা না হোক মায়ের ভাষার কোনো বিকল্প তো নেই। আর প্রবাসে থেকে ভাষার টান, দেশের টানটা যেন আরও বেশি করেই বোঝা যায়। অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানেও সেই বিষয়ই সামনে উঠে এল। এ অনুষ্ঠানে নিউক্যাসেলের বাঙালি শিশুদের জন্য বাংলা কমিউনিটি স্কুল চালুর উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা।

গত শনিবার সকালে নিউক্যাসেলের ফোরশোরে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটি (বিসানু) এবং নিউক্যাসেল বাংলাদেশি কমিউনিটির (এনবিসি) যৌথ উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত হয়। বাংলাদেশের ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন এনবিসির সভাপতি কবি আবুল হাসনাৎ মিল্টন, বিসানুর সভাপতি ডা. ইকবাল কবির, নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (নুসা) সভাপতি ক্লেয়ার সোয়ান, নিউক্যাসেল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (নুপসা) সভাপতি লর্না কাটুসিম এবং নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির কমিউনিটি রিলেশনস অফিসার জ্যাক থিম।

আলোচনা সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিসানুর সহসভাপতি আসমা জাহান মুক্তা। এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিসির সাধারণ সম্পাদক ড. আখতারুজ্জামান ও সহসভাপতি ডা. ফখরুল ইসলাম।

কবি আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, ‘প্রবাসে আমাদের দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের বাঙালিদের অধিকাংশই তাদের পূর্বপুরুষের মাতৃভাষা বাংলা পড়তে বা লিখতে পারে না। আমাদের আজ তাই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের উত্তর প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। কমিউনিটি বাংলা স্কুল গঠনের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা লিখতে ও পড়তে শেখাতে হবে।’

আবুল হাসনাৎ অচিরেই এনবিসির উদ্যোগে নিউক্যাসেল বাংলা স্কুল চালুর উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের আহ্বান জানান।
আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’ এবং ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গান দুটি পরিবেশন করেন আনিকা নিশাত নওরোজ ও সোনিয়া শারমিন। এ সময় উপস্থিত বাঙালিরা তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফোরশোর এলাকায় উপস্থিত বিদেশিদের মধ্যে দিনটির গুরুত্বসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া শিশুদের জন্য বাংলা বর্ণমালা লেখার প্রতিযোগিতা ‘হাতেখড়ি’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন