বিজ্ঞাপন

৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের যে চেকআপগুলো অবশ্যই দরকার:

১. প্যাপ টেস্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ সময় প্যাপ টেস্ট করানো উচিত। এই পরীক্ষায় জরায়ুমুখ বা সারভিক্সের যেকোনো পরিবর্তন আগেভাগেই শনাক্ত ধরা যায়।

২. হিমোগ্লোবিন টেস্ট: বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রক্তশূন্যতার হার প্রকট। তা ছাড়া মাঝবয়সে হঠাৎ দেখা দেওয়া রক্তশূন্যতা হতে পারে কোনো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

৩. প্রস্রাব পরীক্ষা: প্রস্রাবে সুগার, অ্যালবুমিন ইত্যাদি যাচ্ছে কি না, পরীক্ষা করা দরকার। এই বয়সে প্রস্রাবে সুগার, অ্যালবুমিন যাওয়া বিভিন্ন রোগের পূর্বসংকেত।

৪. হরমোন পরীক্ষা: এ সময় রক্তের কিছু হরমোন পরীক্ষাও করা দরকার।

৫. রক্তের সুগার পরীক্ষা: সাধারণত এ বয়সে এসেই রক্তে সুগার বাড়ে, দেখা দেয় ডায়াবেটিস। কাজেই এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তের সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

৬. শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের পরীক্ষা: অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীরে বাসা বাঁধে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সে। কাজেই এ সময় ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

৭. পুরো পেটের আলট্রাসাউন্ড করলে জানা যাবে পিত্তথলি, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে পাথর হয়েছে কি না। এই বয়সে এসে এই সমস্যারও ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৮. স্তনের কিছু পরীক্ষা করাও জরুরি।

৯. ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে এ-সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষাও করা দরকার।

১০. রক্তের চর্বি বা লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কাজেই আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে।

বয়স ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে বছরে অন্তত একবার শরীরের সার্বিক পরীক্ষা করা উচিত। এর সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তচাপ, রক্তের সুগার, চর্বি ইত্যাদি সুনিয়ন্ত্রণ, চোখ, দাঁত ও ত্বকের যত্ন জরুরি। যেকোনো উপসর্গকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেরিতে শনাক্ত হওয়ার কারণে আমাদের দেশে নারীদের অনেক রোগেরই চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। মনে রাখতে হবে, লজ্জা বা আড়ষ্টতার কারণে কিছু আড়াল করলে নিজেরই বিপদ।

অধ্যাপক ডা. সেলিনা আক্তার, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন