default-image

বয়স যখন ৪০ ছুঁই ছুঁই বা ৪০ বছর পেরিয়েছে, নারীর শরীর-মন তখন যেন ঘণ্টার আওয়াজের মতো মনে করিয়ে দিতে থাকে, পরিবর্তন আসছে। নারীর জীবন আসলে প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তন হতে থাকে। সেই কৈশোরে প্রথম পরিবর্তন, তারপর নারীত্ব, সন্তান ধারণ ও প্রসব, এরপর মাঝবয়সে এসে এই পরিবর্তন। এ সময়টাকে বলা হয় পেরিমেনোপজ, অর্থাৎ মেনোপজের আগে-পরের সময়। বিভিন্ন হরমোনের মাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি এ সময় পরিস্থিতি নাজুক করে তোলে। বয়সের ছাপ পড়তে থাকে অবয়বে, মাঝেমধ্যে হাঁটুব্যথা হয়, অস্থি দুর্বলতা, ত্বকের পরিবর্তন, অনুভূতি-মেজাজ যখন-তখন ওলটপালট, ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায় এ সময়। তাই পেরিমেনোপজের সময় প্রয়োজন বাড়তি যত্ন, বাড়তি মনোযোগ।

এই বয়সে একজন নারীকে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করে পরিপূর্ণ চেকআপ করা প্রয়োজন। কারণ, এই বয়সেই নারীর শরীরে অনেকগুলো পরিবর্তন শুরু হয়। আবার এই বয়সেই কয়েক ধরনের ক্যানসারও শরীরে বাসা বাঁধার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের যে চেকআপগুলো অবশ্যই দরকার:

১. প্যাপ টেস্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ সময় প্যাপ টেস্ট করানো উচিত। এই পরীক্ষায় জরায়ুমুখ বা সারভিক্সের যেকোনো পরিবর্তন আগেভাগেই শনাক্ত ধরা যায়।

২. হিমোগ্লোবিন টেস্ট: বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রক্তশূন্যতার হার প্রকট। তা ছাড়া মাঝবয়সে হঠাৎ দেখা দেওয়া রক্তশূন্যতা হতে পারে কোনো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

৩. প্রস্রাব পরীক্ষা: প্রস্রাবে সুগার, অ্যালবুমিন ইত্যাদি যাচ্ছে কি না, পরীক্ষা করা দরকার। এই বয়সে প্রস্রাবে সুগার, অ্যালবুমিন যাওয়া বিভিন্ন রোগের পূর্বসংকেত।

৪. হরমোন পরীক্ষা: এ সময় রক্তের কিছু হরমোন পরীক্ষাও করা দরকার।

৫. রক্তের সুগার পরীক্ষা: সাধারণত এ বয়সে এসেই রক্তে সুগার বাড়ে, দেখা দেয় ডায়াবেটিস। কাজেই এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তের সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

৬. শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের পরীক্ষা: অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীরে বাসা বাঁধে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সে। কাজেই এ সময় ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

৭. পুরো পেটের আলট্রাসাউন্ড করলে জানা যাবে পিত্তথলি, জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে পাথর হয়েছে কি না। এই বয়সে এসে এই সমস্যারও ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৮. স্তনের কিছু পরীক্ষা করাও জরুরি।

৯. ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে এ-সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষাও করা দরকার।

১০. রক্তের চর্বি বা লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। কাজেই আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে।

বয়স ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে বছরে অন্তত একবার শরীরের সার্বিক পরীক্ষা করা উচিত। এর সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তচাপ, রক্তের সুগার, চর্বি ইত্যাদি সুনিয়ন্ত্রণ, চোখ, দাঁত ও ত্বকের যত্ন জরুরি। যেকোনো উপসর্গকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেরিতে শনাক্ত হওয়ার কারণে আমাদের দেশে নারীদের অনেক রোগেরই চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। মনে রাখতে হবে, লজ্জা বা আড়ষ্টতার কারণে কিছু আড়াল করলে নিজেরই বিপদ।

অধ্যাপক ডা. সেলিনা আক্তার, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0