বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইয়াসির আজমানের মতে, টেকসই নেতৃত্বে নেতা কখনো তাঁর নীতি–আদর্শের সঙ্গে আপস করেন না। যেকোনো সুসময় বা দুঃসময়ে কখনোই তাঁর দলের সদস্যরা তাঁর ওপর থেকে আস্থা হারান না। নেতার তিনটি গুণ থাকা খুবই জরুরি বলে মনে করেন ইয়াসির। প্রথমটি হলো সততা। নৈতিক নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয়টি হলো স্বচ্ছতা। দলের কাছে কোনো তথ্য গোপন করা যাবে না। তিন নম্বরটি হলো স্বকীয়তা। নেতাকে অন্য সবার চেয়ে যোগ্যতায়, চিন্তায় বিশেষ হতে হবে। নিজের এমন কিছু গুণ থাকতে হবে, যা অন্য কারও মধ্যে নেই। এ কারণেই কাউকে নকল করে আর যা–ই হোক, নেতা হওয়া যায় না। সততা, স্বচ্ছতা আর স্বকীয়তা—এই তিন গুণ থাকলে নেতৃত্ব টেকসই হবে। এর সঙ্গে আরেকটি যোগ করা যাবে। সেটা হলো, সবার কথা মন দিয়ে শোনা। যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও নেতার বড় গুণ। নিজের দলের প্রত্যেক সদস্যদের ‘পালস’ ধরতে পারতে হবে। এভাবেই তৈরি করতে হবে ‘দলীয় আবেগ’। যখন একটা দলের ভেতর দলীয় আবেগ কাজ করে, তখন ‘দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ হয়’।

default-image

সময়ের সঙ্গে নেতৃত্বের বিবর্তন ঘটেছে। নব্বইয়ের দশকে ‘ম্যান অব টাস্ক’কে ধরা হতো ভালো নেতা। এরপর আত্মবিশ্বাস আর সাহসকেও জুড়ে দেওয়া হলো ভালো নেতৃত্বগুণ হিসেবে। এরপর একবিংশ শতকের প্রথম দশক থেকে দ্রুতই বদলে যেতে থাকল নেতৃত্বের ধারণা। এক এক গুণের নেতা এক এক ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু এই বদলে যাওয়া সময়ে নেতৃত্বের ধারণা একটু জটিল, সমবেত। এখন পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে এগোনোই নির্ধারণ করে কে কত ভালো নেতা। নেতা ভাবলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে এমন এক ব্যক্তির অবয়ব, যিনি সবার ওপরে; সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে, অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। ইয়াসির আজমানের বিশ্বাস, এভাবে কেউ নেতা হয়ে ওঠেন না। নিজের উদাহরণ টেনে ইয়াসির আজমান বলেন, ‘(কর্মস্থলে) আমার ঘরের কোনো দরজা নেই। সব সময় খোলা থাকে। যে কেউ যেকোনো সময় সেখানে আসতে পারে। কথা বলতে পারে।’

ব্যবসার ধরনও বদলে গেছে। এ ক্ষেত্রে মৌলিক ব্যাপারগুলো অক্ষুণ্ন রেখে নেতৃত্বের চেহারাও বদলেছে। এখন সব সংস্কৃতির মানুষকে নিজের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে তাদের ভেতরের বৈচিত্র্যময় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, প্রযুক্তি আর নতুন উদ্ভাবন সঙ্গে নিয়ে একটা লক্ষ্যের দিকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়াই নেতৃত্ব। তবে প্রতিষ্ঠানে সমমনা, সমসংস্কৃতির মানুষের চেয়ে বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি জরুরি। নেতা এমন এক ব্যক্তি, যিনি সবার ভেতরের বৈচিত্র্যময় শক্তিকে নিজের প্রতিষ্ঠানের ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে ব্যবহার করেন। এভাবেই অনেক ধরনের ‘এনার্জি’ একসঙ্গে হলে সেটা দারুণ গতিশীল হয়। অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানোও সহজ হয়।

ফিডব্যাক যে সব সময় ইতিবাচক হবে, তা নয়। ফিডব্যাক ইতিবাচক বা নেতিবাচক যা–ই হোক না কেন, সেটা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক।

কেউ যদি নিজের সুযোগ নষ্ট করে, সেটা একটা ক্ষতি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে সেখানেই তার জীবন শেষ হয়ে গেছে। বরং ব্যর্থতা থেকে শিখতে হবে। যে ভালো ফল করবে, তাকে পুরস্কৃত করতে হবে। পিঠ চাপড়ে দিতে হবে। এটা তাকে ও অন্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মীদের প্রতি সহমর্মী হলে প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মীদের ভালো কিছু করার প্রবণতা অনেক বেশি। প্রতিটি কাজের ‘ফিডব্যাক’ সামনে রাখাও খুব দরকার। ফিডব্যাক যে সব সময় ইতিবাচক হবে, তা নয়। ফিডব্যাক ইতিবাচক বা নেতিবাচক যা–ই হোক না কেন, সেটা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক। ইয়াসির আজমান বলেন, সামনে এগোনোর জন্য চ্যালেঞ্জ জরুরি। প্রতিষ্ঠানের সবাইকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাতে হবে। আর প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে সবাই চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানানোর জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। যে প্রতিষ্ঠান যত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসে, সে প্রতিষ্ঠানের টিকে যাওয়ার, আরও বড় হওয়ার এবং সামনে এগোনোর সম্ভাবনা ততটাই বেশি।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন