বিজ্ঞাপন

বিগত ১৩ দিনের চিত্র তুলে ধরা হলো

default-image

প্রবাসী কর্মীদের টিকা প্রদানের বিষয়টি জানাতে ৫ জুলাই এটুআই এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ (বিএমইটি) ব্যুরোর মহাপরিচালক শহিদুল আলম এতে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে টিকা নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষার পাশাপাশি আমি প্রবাসী অ্যাপে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং বিএমইটির মহাপরিচালক শহিদুল আলম জানিয়েছেন, দেশে পাসপোর্টধারী এক কোটি মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কারা বিদেশে কাজ করতে যাচ্ছেন, তা বিএমইটির নিবন্ধন ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমি প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই সেটি করা যাবে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ অ্যাপটিতে নিবন্ধন করেছেন। এটি বিএমইটির ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সাফল্যমণ্ডিত করেছে।
ঘরে বসে যে কেউ এই নিবন্ধন করতে পারবেন। গুগল প্লে–স্টোর থেকে আমি প্রবাসী অ্যাপটি নামানো যাবে। চাইলে https://www.amiprobashi.com/ ঠিকানায় গিয়েও অ্যাপটিতে নিবন্ধন করা যাবে।

নিবন্ধন করতে হলে প্রথমে নিজের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে আমি প্রবাসীতে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্টটি স্ক্যান করতে হবে। এরপর প্রদত্ত তথ্য পাসপোর্ট ডেটাবেইসের ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সেই মেসেজ এলেই বিএমইটির নিবন্ধনটি করা যাবে। এই মেসেজ আসতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

বিএমইটির নিবন্ধন হয়ে গেলেই প্রবাসীরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তির লক্ষ্যে সুরক্ষা অ্যাপে গিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। বিএমইটি নিবন্ধন করা থাকলে সুরক্ষায় পাসপোর্ট নম্বর দেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি যাচাই হয়ে যাবে। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন হয়ে গেলে নির্ধারিত মুঠোফোন নম্বরে টিকাকেন্দ্র ও টিকা গ্রহণের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর টিকা নিতে কেন্দ্রে যেতে হবে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে আমি প্রবাসী অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি কোভিডের টিকা নিবন্ধন সম্ভব নয়। আর পাসপোর্ট ডেটাব্যাংকে তথ্য যাচাইকরণ সম্পাদনে প্রতিদিনের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ফলে অনেকেরই মেসেজ পেতে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করে। এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গত ৮ মে এই অ্যাপ চালু করে। এর উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। আমি প্রবাসী অ্যাপ প্রতিষ্ঠাকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজে যুক্ত হয়েছে।

একনজরে আমি প্রবাসী অ্যাপের এই বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দিকগুলো দেখে নিই।

default-image

আমি প্রবাসী অ্যাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া

গুগল প্লে–স্টোর থেকে আমি প্রবাসী অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং নিজের মুঠোফোন নম্বর ও এককালীন ওটিপির মাধ্যমে অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। অ্যাপে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন। অপশনে গিয়ে নিবন্ধনের ধাপগুলো পূরণ করে আপনার বিএমইটি ফর্মটি পূরণ করুন এবং পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠান। নির্দিষ্ট পেমেন্ট করে বিএমইটি নম্বরের জন্য আবেদন করুন এবং নম্বরটি পেতে অপেক্ষা করুন।

অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাইকরণ

অ্যাপে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্ক্যানারের মাধ্যমে পাসপোর্টটি সঠিকভাবে স্ক্যান করে নিতে হবে। পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রদত্ত তথ্য বিএমইটি লিংক ব্যবহারের নিমিত্তে সরাসরি পাসপোর্ট ডেটাব্যাংক দ্বারা ভেরিফিকেশনের জন্য যাবে।

বিএমইটি নিবন্ধনের জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে

স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেমেন্টের নোটিফিকেশন আমি প্রবাসী অ্যাপ ব্যবহারকারীর কাছে চলে যাবে, যার পাসপোর্ট যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমি প্রবাসী প্রথম ইন-অ্যাপ পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।

চাকরির বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরি খোঁজা

এই অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছু র্কমীরা সরকার অনুমোদিত এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া, উপযুক্ত চাকরির সন্ধান, আবেদনপত্র পূরণ ও জমাদানসংক্রান্ত নানা প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই খুঁজে পাবেন। কেবল প্রবাসী কর্মী নন, এই অ্যাপে সরকার অনুমোদিত এজেন্ট ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সরকার অনুমোদিত প্রকৃত চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবেন।

ইন-অ্যাপ যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা

ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট যেকোনো গ্রুপের সঙ্গে যেমন রিক্রুটিং এজেন্সি, বৈদেশিক নিয়োগকারী বা চাকরিদাতা, আমি প্রবাসী টিম অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ ও বার্তা আদান–প্রদান করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সব সার্ভিস সেন্টারের তথ্যাবলি

পাসপোর্ট অফিস, রিক্রুটিং এজেন্সি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে শুরু করে মেডিকেল সেন্টারের সব বিজ্ঞপ্তি এবং নোটিশসহ জিও লোকেশন সার্ভিস সবকিছুর হালনাগাদ করা থাকে আমি প্রবাসী অ্যাপে।

হেল্প সেন্টার/ সাহায্য কেন্দ্র

যেকোনো ধরনের সমস্যায়, যেকোনো সময়ে, যেকোনো প্রয়োজনে কল সেন্টারসহ ইন–অ্যাপ যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অ্যাপ ব্যবহারকারীর পাশে থাকা হয়।
আমি প্রবাসীর কারিগরী সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক একরামুল হকের মতে, ‘আমি প্রবাসী এক অত্যন্ত কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা একটি অ্যাপ এবং ওয়েব পোর্টাল, যা বিদেশে চাকরির জন্য আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিপূর্ণ সেবা প্রদান করে থাকবে, বিএমইটি নিবন্ধনে সহযোগিতা করে সরকারি ডেটাবেইসকে পরিপূর্ণ রূপরেখায় নিয়ে আসবে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানসম্পর্কিত তথ্য সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে অভিবাসীদের উপকৃত করবে’।

বর্তমান কোভিড প্রেক্ষাপটে আমাদের রেমিট্যান্সের ধারা ঊর্ধ্বগামী রাখতে হলে আমাদের কার্যপ্রণালী ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে হবে। আমি প্রবাসী অ্যাপ এ ক্ষেত্রে এক কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বলে সবাই আশাবাদী। অ্যাপটি প্লে–স্টোরে ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাবে।
http://www.amiprobashi.com/a

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন