default-image

প্রেমের ঘুড়ি
বিনয় বর্মণ
নীল আকাশে উড়িয়ে দিলাম রঙিন প্রেমের ঘুড়ি
হাওয়ায় হাওয়ায় যায় সে উড়ে অচিন অলোকপুরী

উড়ে উড়ে দুহাত দিয়ে মেঘের ছায়া ছোঁবে
পরির দেশে ফুলের গন্ধে সূর্য যখন ডোবে

ক্লান্তিবিহীন বিশাল ডানার দুরন্ত সংগীতে
অস্থিরতা চন্দ্রালোকের কোমল পরশ নিতে

সেই ঘুড়িটা আমার চোখে নিত্য লাগায় ধাঁধা
কল্পনা ও বাস্তবে সে পূর্ণ আধা আধা

কোথায় ঘুড়ি, রুমাল সে এক স্মৃতির রেণু মাখা
নিদাঘ রোদে ঊষর ভূমি উজ্জ্বলতায় খাঁ খাঁ

রুমালে কি রেশমি সুতায় দুইটি টিয়া আঁকা
আলোক পাখির নয়নজোড়া আঁধার দিয়ে ঢাকা

সেই সে কবে এসেছিল স্বর্গ থেকে নেমে
চিরন্তনী আবেগ বাঁধা ক্ষণস্থায়ী ফ্রেমে

বুঝতে আমি পারিনি যে হৃদয় রহস্যটা
মরীচিকা মরূদ্যানে মেঘের ঘনঘটা

অন্ধ রাতে বন্ধ হাতে যায় না আকাশ ধরা
নীহারিকার বিকার হাসি প্রবঞ্চনায় ভরা

যাও না ঘুড়ি বলো তারে ফাগুন যেন ভোলে
স্বপ্ন আমার সমাহিত সমুদ্র কল্লোলে।


কী কথা বসন্তের সাথে

পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
সাজিয়ে দিয়েছে হলুদ ফিতায় বসন্ত তোমার চুল
বরণ করতে তোমাকে বাগানে ফুটেছে বসন্ত ফুল।

বসন্ত দিয়েছে রাঙিয়ে আলতা পরেছ বাসন্তী শাড়ি
বসন্ত বাতাসে উদাসী হলেও তুমি তো অমর নারী।

বসন্ত ধরেছে তোমার কোমল মেহেদি রাঙানো হাতে
আমাকে তোমার বলতেই হবে কী কথা ওই বসন্তের সাথে?


চুপকথা

অরুণ কুমার বিশ্বাস
রূপকথা নয় বলছি শোন চুপকথা
কষ্ট-প্রেমের একটুখানি কথকতা
সেই মেয়েটির পা ছুঁয়েছে মেঘনাজল
গল্প কত বলত সে যে অনর্গল

ফুলপাখিরা উঠত নেচে উচ্ছ্বাসে
জাগত সাড়া বৃক্ষলতা বন-ঘাসে
ওই মেয়েটি হাসলে পরে নীলভ্রমর
উড়িয়ে দিত স্বপ্নডানা নয় প্রহর

চোখের তারায় ডিগবাজি খায় দুষ্টুমি
বলত হেসে কী চালিয়াত ইশ্ তুমি!
সেই মেয়েটি আর কখনো হাসবে না
খিলখিলিয়ে আমার কাছে আসবে না!


তোমার জন্য

হেলেনা আক্তার
তোমার স্পর্শ রাতের নির্জনতায় বারবার অনূভব করি,
শীতের চাদরের মতো তুমি আমাকে আগলে রেখেছ
তোমার দেওয়া লাল গোলাপটি আজও আমার কাছে আছে অতি সযত্নে—
তোমার সাথে দেখা হওয়া সেই ছোট্ট মুহূর্তগুলো আমাকে বারবার প্রাণের স্পন্দন দেয়...
ইচ্ছে হয় তোমার মাঝেই নিজেকে হারাই!
ভালোবাসার রংতুলিতে আঁকা তোমার ছবিগুলো,
বার বার দেখতে থাকি মনের চোখ দিয়ে।
ভাবতে থাকি এই তো তুমি আসবে,
আমায় নিয়ে ভালোবাসার নীল যমুনায় ভাসবে।


ভালোবাসলে না হয়

আহাদ আদনান
না হয় মাখলেই খানিক প্রভাত শিশির
চিঠি কুড়োলে বা কিছু গত প্রেম নিশির।
না হয় ওম ওম ভোরের মায়া সোনার আলো
কানেতে ঢেলে মধু বলুক, বাসো না ভালো।
না হয় জপে উষ্ণ মিছিল দিনের প্রেমের স্লোগান
বর্ণালি সাজে রাঙানো এ প্রেমের দোকান।
না হয় হাত ধরে চলি এস নীলাভ প্রদোষে
ঠোঁট দিয়ে জ্বেলো প্রদীপ এই প্রেমের কোষের।
না হয় রাতটুকু প্রেমে কাটুক ভেঙে অবরোধ
ভালোবেসে নিতে জানে প্রেমিক, ভালোবাসার শোধ।


একুশ

ফারহানা মোবিন
একুশ তুমি আমার ভাষা
আমার কথকথা
তুমি আমার অর্জন
আমার নীরবতা।

একুশ তুমি একাত্তর
বাংলার স্মৃতিকথা
তুমি শহীদ মিনার
বাঙালির বীরত্বগাথা।

একুশ তুমি সম্মান
আমার প্রকাশ
তুমি এই বাংলার
মুক্ত আকাশ।

একুশ তোমার একুশ আমার
আমার বর্ণময়
বিশ্বজুড়ে তুমি
আমার পরিচয়।


কাটে দিন

মাসুম মীকাঈল
চোখ টলমল
দৃষ্টি অটল
উড়ছে আঁচল
হৃদয় বিকল।
ঝরছে তারা
একটু দাঁড়া
হৃদয় দ্বারা
দিচ্ছি নাড়া।

ফুটছে ফুল
অধর ব্যাকুল
দুলছে দুল
হারিয়ে কুল।
হাত কড়কড়
ফাগুনের জ্বর
বুক ধড়ফড়
প্রেম নড়বড়।

যাচ্ছে দিন
বাড়ছে ঋণ
তুমিহীন
কাটে দিন!


ভালোবাসি তাই...

ফারুক মুহাম্মদ
‘মানুষ কেন ভালোবাসে?’ ‘ভালোবাসি’ বলে কোনো এক বসন্তের বিকেলে হাঁটু গেড়ে বসে একটা আধফোটা গোলাপ দিয়েছিলাম তোমার হাতে। মনে পড়ে? তুমি বলেছিলে, ‘কেন ভালোবাসো আমাকে?’ আমি নির্বাক নয়নে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম তোমার দিকে। ফুলটা কি বাসায় নিয়েছিলে? সাজিয়ে রেখেছ কি কোনো বইয়ের ফাঁকে? নাকি পথে কোথাও...। এরপর কেটে গেছে অনেক দিন। গত হয়ে গেছে অনেক বসন্ত। তোমার উত্তরটা আজও দিতে পারিনি। অবশ্য একটা সম্ভাব্য উত্তর আমার জানা আছে। বলব?Í‘ভালোবাসি তাই, ভালোবেসে যাই।’ এর চেয়ে ভালো উত্তর আপাতত আমার কাছে নেই। হয়তো এর চেয়ে ভালো উত্তর কেউ দিতেও পারবে না।
আচ্ছা, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? সম্ভবত বাসো না। যাক, তাহলে তোমাকেও একটা পাল্টা প্রশ্ন করা যায়। ‘তুমি কেন আমাকে ভালোবাসো না?’ তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন