default-image

চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলায় প্রতিবছর বিভিন্ন বইয়ের স্টলে খণ্ডকালীন লোক নেওয়া হয়। পড়াশোনা করছেন এমন অনেক তরুণ পাশাপাশি এ ধরনের চাকরি খোঁজেন। কয়েকজনের অভিজ্ঞতায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে কীভাবে তাঁরা এখানে চাকরি পেয়েছেন। এবার খোঁজ নিয়ে ভবিষ্যতে আপনিও জোগাড় করে নিতে পারেন এ ধরনের চাকরি।
ফেমাস ক্রিয়েশন নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করতাম। একদিন এক সহকর্মীর কাছ থেকে প্রস্তাব পেলাম বইমেলায় খণ্ডকালীন কাজ করার। এর আগে বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করলেও বইমেলায় কাজের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই রাজি হয়ে গেলাম। জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে যোগাযোগ করে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অবশেষে কাজ শুরু করে দিলাম এবারের বইমেলায়। বইমেলায় নিজের খণ্ডকালীন চাকরি পাওয়ার গল্প এভাবেই বলছিলেন প্রসেনজিৎ রায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলে সদ্য স্নাতক শেষ করে তিনি বইমেলায় বিক্রয়কর্মী হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করছেন শব্দশৈলীর স্টলে।
শুধু প্রসেনজিৎই নন, তাঁর মতো অনেকেই খণ্ডকালীন কাজ করছেন বইমেলার বিভিন্ন স্টলে। এ বছর বইমেলায় ৩৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে খণ্ডকালীন কাজ করছেন, এ রকম কর্মীর সংখ্যা প্রচুর। এঁদের বেশির ভাগই মেলায় চাকরির খোঁজ পেয়েছেন পরিচিতজনদের মাধ্যমে। তবে ভিন্নধর্মী গল্পও শোনা যায় অনেকের মুখে। সে রকমই ভিন্নধর্মীদের একজন হলেন মাহবুবুর রহমান। বইমেলায় খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন আগামী প্রকাশনীর স্টলে। ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী নিজের চাকরিটি পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। তিনি জানান, বইমেলায় কাজ করার আগ্রহ তাঁর অনেক আগে থেকেই ছিল, তাই এ বছর বইমেলা শুরুর আগে থেকেই এ সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারীর বন্ধুতালিকায় ছিলাম। তাঁর কাছে আমার আগ্রহের কথা জানাই। তিনি আমাকে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে কাজ শুরুর প্রস্তাব পেলাম।’

আবার ক্রেতা থেকে বিক্রেতা হয়েছেন, এমন ঘটনাও আছে। এমনই একজন হলেন রুবেল মাহমুদ। বইমেলায় পলল প্রকাশনীর স্টলে খণ্ডকালীন কাজ করার পাশাপাশি বর্তমানে পড়াশোনা করছেন কবি নজরুল সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। নিজের চাকরি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায়ই সেখানে বিভিন্ন বইপত্র কিনতে যেতাম। ক্রমাগত যাতায়াতের ফলে একসময় বেশ সখ্য গড়ে ওঠে। গত বছর বইমেলার আগে হঠাৎ একদিন প্রকাশনী থেকে কাজের আমন্ত্রণ পাই। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কথাবার্তা পাকাপাকি করে কাজ শুরু করি। গতবার কাজ করার পর এবারও আমন্ত্রণ পেয়ে কাজ করছি মেলায়।’
তবে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে মেলায় কাজ করছেন এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। এ রকমই একজন মো. মাজহারুল ইসলাম। পড়াশোনা করছেন ঢাকা কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। চাকরির খোঁজ পেয়েছেন সহপাঠীর কাছে। তাঁদেরই প্রকাশনা সংস্থা বাংলাপ্রকাশে বিক্রয়কর্মী হিসেবেই বর্তমানে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ ক্লাসই হয় সকালে। বিকেলের অবসর সময় অযথা নষ্ট না করে মেলায় কাজ করলে কাজের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়বে, তেমনি উপরি কিছু আয় রোজগারও হবে। তাই যখন আমার সহপাঠীর কাছ থেকে মেলায় কাজ করার আমন্ত্রণ পেলাম, সানন্দেই লুফে নিলাম সেটি।’

বিজ্ঞাপন
জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন